‘বৈঠক নয়’ : মোদি-ইমরানের শুভেচ্ছা বিনিময়

image

ইমরান খান ও নরেন্দ্র মোদি

দ্বিতীয় মেয়াদে ভারতের ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শেষ পর্যন্ত শুভেচ্ছা বিনিময় করতে সক্ষম হলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। কিরগিজস্তানের বিশকেকে দুই দিনের সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে ফাঁকে ১৪ জুন শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় এ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রতিবেশী দেশের দুই প্রধানমন্ত্রী। এনডিটিভি ।

কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভারতের আধা সামরিক বাহিনী সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনাকে চলমান উত্তেজনার পর প্রথমবারের মতো শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইমরান খান। এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে লেডার’স লাউঞ্জে উপস্থিত দুই প্রধানমন্ত্রী স্বাভাবিক প্রকৃতির শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ শুভেচ্ছা বিনিময়কে কোনভাবেই বৈঠক আখ্যায়িত করা যায় না। এর আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায় এসসিও সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একাধিকবার দেখা হলেও একে অপরকে এড়িয়ে চলতে দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার এসসিও সম্মেলনে আসা নেতাদের সম্মানে কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সোরনবে জেনবিকভ এর আয়োজিত নৈশভোজে দেখা হলেও কথা বলেননি মোদি ও ইমরান। শুক্রবার সন্ধ্যায় কথা বললেও দিনের বেলায় পাকিস্তানের প্রতি কঠোর বার্তা উচ্চারণ করেন মোদি। ইমরান খানের উপস্থিতিতে এক সভায় মোদি বলেন যেসব দেশ সন্ত্রাসে মদদ ও সহায়তা দিচ্ছে তাদের অবশ্যই বিচারের মুখে দাঁড়াতে হবে। ইসলামাবাদের অন্যতম মিত্র চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বিশকেকে অপর এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মোদি জানান, ভারতের সঙ্গে আলোচনা শুরুর আগে পাকিস্তানকে অবশ্যই সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে। প্রসঙ্গত, চীনের নেতৃত্বে আটটি আঞ্চলিক দেশের জোট এসসিও। মূলত বাণিজ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক এই জোটের এবারের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে। বছর দুয়েক আগেও ভারত ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্কের সমীকরণটা খানিক ভিন্ন ছিল।

২০১৭ সালের জুনে তৎকালীন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে এসসিও সম্মেলন মঞ্চে দেখা হয় মোদির। এ সময়, কুশল বিনিময় হয়েছিল দু’জনের মধ্যে। শরিফের সুস্বাস্থ্য কামনা করে পরিবারের খবরাখবরও নিয়েছিলেন মোদি। চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলা, তারপর বালাকোটে জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরে ভারতের বিমান হানা এবং তার পরদিন পাকিস্তানের পাল্টা আক্রমণে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। তখন থেকে দুই দেশের সম্পর্কের উত্তেজনা চরম মাত্রায় পৌঁছাতে থাকে। আর তার রেশ ছড়িয়ে পড়ে বিশকেকের এসসিও সম্মেলনেও।