করোনা ভাইরাস বিপর্যয় ঠেকাতে ৬১০ কোটি টাকার অনুদান চেয়েছে আইএসপিএবি

image

দেশে করোনা ভাইরাস এর ভয়াবহতা বিবেচনা করে বর্তমান বাস্তবতায় এ বিপর্যয় ঠেকাতে আগামী ৬ মাসের জন্য বেতন ও অফিস ভাড়া বাবদ সরকারের কাছে ৬১০ কোটি টাকার অনুদান চেয়েছে ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি। সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, ৯টি প্রস্তাবনা নিয়ে ৫ এপ্রিল এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে জমা দেয়া হয়েছে। চিঠিতে অন্তত আগামী দুই বছরের জন্য ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের আয়কর এবং ইন্টারনেট সেবার সকল পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। এছড়াও মাসিক ব্যান্ডউথ এবং এনটিটিএন বিল প্রদানের জন্য আগামী ছয় মাসের জন্য সরকারি অনুদান চাওয়া হয়েছে। দাবি জানানো হয়েছে, জরুরী সেবা হিসেবে এই খাতে মাঠ পর্যায়ে যারা কর্মরত থাকছেন তাদের যেন সরকারের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ভাতার অধীনে নিয়ে আসা হয়। একইসঙ্গে বিটিআরসি’র রেভিনিউ শেয়ারিং প্রত্যাহারের প্রস্তাবও রয়েছে ওই চিঠিতে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বরাবর আইএসপিএবি সভাপতি আমিনুল হাকিম স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই মহামারীতে আইএসপিদের সেবা ও ডিজিটাল বাংলাদেশের কার্যক্রম অব্যহত রাখার জন্য আমাদের ব্যবসায়িক ক্ষতিপুরণে আর্থিক অনুদানসহ নিম্নের খাতগুলোতে আপনার সহযোগীতার জন্য আবেদন।

“ডিজিটালি যদি দেশকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়, তাহলে ইন্টারনেটই তো একমাত্র ভরসা। ইন্টারনেট সেবাদাতারাই সারা দেশকে এখন পযন্ত— সক্রিয় রেখেছে। সচল রেখেছে ইন্টারনেট। এটা না থাকলে দেশ স্থবির হয়ে পড়তো। দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তো। তাই ইন্টারনেটকে সাশ্রয়ী ও সুলভ করে সকলের কাছে পৌঁছে দেয়াই সরকারের লক্ষ্য।” আপনার এই বক্তব্যের মাধ্যমে আমরা অনুপ্রানিত ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমাদের ইন্টারনেট সেবাদাতারা করোনাভাইরাসের এই ক্রান্তিলগ্নে, ২৪ ঘন্টা সেবা প্রদান ধরে রাখার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে; সরকারী নির্দেশনায় সারা দেশ আজ কোয়ারান্টাইন অবস্থায় আছে, কিন্তু বন্ধ হয়নি ইন্টারনেট সেবা, যার ফলে বাসায় বসেই প্রায় সকল কাজ অনলাইনে চলছে, এর পিছনের চালিকা শক্তিরূপে আইএসপিরা কাজ করে যাচ্ছে, আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার ফলে এখন পর্যন্ত ব্যাংক, বীমা, আউটসোর্সিং, কলসেন্টার, সফটওয়্যার, টেলি-মেডিসিন, পোষাক শিল্প, মিডিয়া, হাসপাতাল, ই-কমার্স এবং সকল জরুরীসেবা খাত সাবলীলভাবে চলছে। কিন্তু করোনার প্রভাবে এই বিরূপ পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিকভাবে আমাদের টিকে থাকার ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের খাতে প্রায় দুই লক্ষাধিক মাঠকর্মীর কর্মহীন হয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে। নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা প্রদান সচল রাখতে নিম্নোক্ত প্রস্তাবনা তুলে ধরা হল।

১। অন্য সকল জরুরী সেবা খাত হিসাবে আইএসপিদের আপদকালীন আগামী ৬ মাসের বেতনের ও অফিস ভাড়া প্রদান করে প্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখতে আইএসপি খাতে ৬১০ কোটি অনুদান হিসেবে প্রয়োজন হবে।

২। আগামী ন্যূনতম দুই বছর সকল ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানদের আয়কর প্রত্যাহার ও ইন্টারনেট সেবায় সকল পর্যায়ে (আইটিসি, সাবমেরিন, আইআইজি, এনটিটিএন, আইএসপি) ভ্যাট প্রত্যাহার করার জন্য আপনার নিকট আকুল আবেদন।

৩। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার বহুলাংশে বৃদ্ধি পাওয়ায়, আমাদের ব্যান্ডউইথ ও ট্রান্সমিশন খরচ বেড়েছে। পক্ষান্তরে লকডাউনের কারনে আমাদের মাসিক বিল আদায় করতে পারছি না, ফলশ্রুতিতে আমরা আমাদের আপস্ট্রিম আইআইজি এবং এনটিটিএন-এর মাসিক বিল প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছি। এমতাবস্থায়, ইন্টারেনট সেবা সক্রিয় রাখার জন্য ব্যান্ডউইথ ও এনটিটিএন বিলের আগামি ৬(ছয়) মাসের অনুদান আশা করছি।

৪। বর্তমান দুর্যোগকালিন মুহুর্তে ইন্টারনেট বিল আদায়ে মোবাইল ব্যাংকিং (নগদ/বিকাশ/রকেট) এর মাধ্যমে বিল পরিশোধের উপর সকল প্রকার সার্ভিস/ট্রানজেকশন চার্জ মওকুফ করার জন্য আবেদন করছি।

৫। আইএসপিএবি-এর স্বীকৃত ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে সহজ শর্তে ২% সুদে, জামানতবিহীন ও এক বছরের জন্য গ্রেস পিরিয়ডসহ স্বল্প/দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা।

৬। গ্রাহক পর্যায়ে সেবা প্রদানে যে সকল ফাইবার ক্যাবল ও নেটওয়ার্ক পন্য উপর থেকে আমদানি শুল্ক আগামী দুই বছরের জন্য রহিতের মাধ্যমে মুল্য হ্রাসে সুযোগ করে দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহন।

৭। আগামী দুই বছরের জন্য সকল প্রকার লাস্ট মাইল ঝুলন্ত তার অপসারণ কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। বিদ্যুৎ মন্ত্রনালয় ও আইএসপিএবি যৌথ উদ্যোগে অব্যবহৃত ঝুলন্ত তারসমূহ অপসারণ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে শহর সৌন্দর্য বর্ধন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

৮। ইন্টারনেট সেবাকে জরুরী সেবা ঘোষনার পরিপ্রেক্ষিতে, আমাদের মাঠকর্মীদের সরকারী স্বাস্থ্য ঝুঁকি ভাতায় আওতাধীন করার জন্য আবেদন করছি।

৯। বিটিআরসি কর্তৃক সকল প্রকার রেভিনিউ শেয়ার প্রত্যাহার করার জন্য অনুরোধ করছি। এহেন পরিস্থিতিতে আমরা আপনার তথা সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি। আশা করছি, এই দুর্যোগে সেবা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ব্যবসায় টিকিয়ে রাখতে সরকার উপরোক্ত নয়টি অনুরোধ বাস্তবায়নে আপনার সহযোগীতা একান্ত কাম্য।

চিকিৎসকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী উপহার দিচ্ছে ইন্টেগ্রো

image

অনলাইনে ইনফো-সরকার ৩য় পর্যায় প্রকল্পের স্টীয়ারিং কমিটির সভা

image

করোনা পরিস্থিতিতে ডিজিটাল মার্কেটিং-এ দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

image

ফেসবুকের মে ২০২০ এর কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডস এনফোর্সমেন্ট রিপোর্ট প্রকাশ

image

অনলাইন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে শহর-গ্রামের বৈষম্য দূর হবে

image

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় ও এটুআই এর আয়োজনে শেষ হলো “অনলাইন লার্নিং সামিট-২০২০”

image

অনলাইন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে শহর-গ্রামের বৈষম্য দূর হবে: পলক

তথ্য ওযোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি পরবর্তী পৃথিবী

১৭ মে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস

image

শ্রমিকদের কোভিড-১৯ সম্পর্কে শিক্ষা ও পরামর্শ প্রদানের উদ্দেশ্যে শুরু হয়েছে ‘বর্ডারলেসডটক্লিনিক’

image