ঢাকায় মুক্ত কমিউনিটির আন্তর্জাতিক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

image

রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশে শেষ হলো ওপেন স্ট্রীট ম্যাপ, ওপেন সোর্স, ওপেন ডাটা ও জিআইএস প্রযুক্তির এশিয়া অঞ্চলের সর্ববৃহৎ বার্ষিক সম্মেলন স্টেট অব দ্য ম্যাপ এশিয়া ২০১৯। বিনামূল্যে সকলের জন্য ডিজিটাল ম্যাপের সুবিধা প্রদানকারী প্লাটফর্ম ওপেন স্ট্রীট ম্যাপের একটি বার্ষিক আঞ্চলিক সম্মেলন হলো ওপেন স্ট্রীট ম্যাপ এশিয়া। গত বছর ভারতের বেঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত স্টেট অব দ্যা ম্যাপ এশিয়া ২০১৮-তে বেশ কয়েকটি দেশ এ বছর আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত এবারের আয়োজনের দায়িত্ব পায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ওপেন ইনোভেশন ল্যাব এর সার্বিক সহযোগিতায় ওপেন স্ট্রীট ম্যাপ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত দুই দিনের এই সম্মেলনে জাপান, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে দেশীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মনিকো টেকনোলজি, ইউটেক সিস্টেমস, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান অধিদপ্তর, ঢাকা ওয়াসা, এটুআই, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, গ্রুপ ম্যাপার্স, কিল্লা’র পাশাপাশি অ্যাপল, ফেসবুক, ম্যাপবক্স, গ্লোবাল লজিক, জাপান ফ্লাইয়িং ল্যাবস, কাঠমান্ডু লিভিং ল্যাবস ছাড়াও ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, রেডক্রস, ইউএনডিপি’র মত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং প্রযুক্তির খাতের বিভিন্ন দিক ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে তরুণদের জিআইএস এবং মুক্ত সোর্স প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন বিভিন্ন প্রযুক্তিসম্পর্কিত প্রতিষ্ঠান থেকে আগত প্রতিনিধিরা।

ফেসবুক থেকে আগত ডেভিড ইয়াং মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে কিভাবে ম্যাপকে উন্নত করা যায় তা সম্পর্কে আলোচনা করেন। মজিলা কর্পোরেশন ইন্ডিয়া থেকে আগত সুভাস দুল্লা মজিলা লোকেশন সিস্টেম সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেন এবং কীভাবে লোকেশন ডাটা অ্যাপের মাধ্যমে সংগ্রহ করা যায় সে সম্পর্কে আলোচনা করেন। সম্মেলনের অন্যতম বক্তা ছিলেন নিউজিল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ক্যান্টারবেরি থেকে আগত ডেভিড গার্সিয়া। তিনি QGIS কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তার উপরে একটি ওয়ার্কশপ পরিচালনা করেন। ভারত থেকে আগত মজিলা ফাউন্ডেশনের হর্ষবর্ধন লাহিড়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে ম্যাপিং কাজের সাথে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ ম্যাপিংয়ের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ এবং কীভাবে মানুষের সাহায্যে ম্যাপিং ব্যবহৃত হতে পারে (দুর্যোগ, সামাজিক অবস্থা, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, পরিকল্পনা ইত্যাদি) এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

দ্বিতীয় দিনের শেষে মুক্ত সোর্স প্রকল্প এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসানের সভাপতিত্বে এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন কাঠমুন্ড লিভিং ল্যাবসের ডঃ নামা রাজ, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ও বর্তমানে ওয়াটার এইড বাংলাদেশের পরামর্শদাতা মোঃ শফিকুল ইসলাম, জাপানের আওইয়ামা গাকুইন বিশ্ববিদ্যালয়ের তাইচি ফুরুহাশি, ক্রিয়েটিভ কমন্স এর বাংলাদেশ লিড নাসির খান সৈকত সহ খাতে সংশ্লিষ্ট বিশিষ্টজনরা।

প্যানেলের সমাপ্তি হয় পরবর্তী স্টেট অব দ্য ম্যাপ এশিয়া সম্পর্কে ঘোষণার মাধ্যমে। সিদ্ধান্ত হয় ২০২০ সালে ম্যাপপ্রেমীদের দেখা হচ্ছে শ্রীলঙ্কাতে।