ন্যাশনাল হ্যাকাথন অন ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজিস এ ১০ বিজয়ী

image

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল এর অধীনে “উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমী প্রতিষ্ঠাকরণ প্রকল্প (iDEA)” এর মাধ্যমে আয়োজিত হল “ন্যাশনাল হ্যাকাথন অন ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজিস”। দুই দিনব্যাপি এই হ্যাকাথন ২৮-২৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি) এর ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়। “থিংক, হ্যাক, সলভ” স্লোগানটিকে সামনে রেখে “বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাই কমিশন” ও “টেক মাহিন্দ্রা লিমিটেড” এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয় এই হ্যাকাথন।

২৯ ফেব্রুয়ারি হ্যাকথনের শেষে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, দেশের তরুণদের উদ্ভাবন ও ক্যাপাসিটির সঠিক ব্যবহার করে দেশকে আরো এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। আমাদের তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা চেতনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার যে স্বপ্ন এটা আমাদের প্রতিনিয়ত সাহস যোগাচ্ছে।

অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক বলেন, লোকাল ইনোভেশনও হতে পারে গ্লোবাল সল্যুশন। তাই লোকালাইজেশন ও লোকাল ইনোভেশনকে আমরা কিভাবে গ্লোবাল সমাধান ও গ্লোবাল মার্কেটে নিয়ে যেতে পারি তার একটি ব্রিজিং করতে হবে। বিশ্বের সকল উদ্ভাবন এসেছে সরকার, একাডেমিয়া এবং ইন্ডাস্ট্রি এই তিনটি পক্ষের পারস্পরিক সমঝোতা ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে। তিনি বিশ্বের প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন ইনোভেটরদের উদাহরণ দিয়ে বলেন, প্রথমে একজন উদ্ভাবক তার আইডিয়া নিয়ে ভেবেছে, কল্পনা করেছে ও তার সম্ভাব্য সমাধান করেছে। তারপর সেটার সাথে একাডেমিয়া ও ইনোভেটরের সাথে ইন্ডাস্ট্রির একটি সম্পর্ক স্থাপন হয়েছে এবং সেইটাকে মার্কেটে গ্রহণযোগ্য করা ও স্কেলেবল করার জন্য সরকারের পলিসি ও আইনগত সহায়তার প্রয়োজন হয়েছে। তিনি দেশীয় সমস্যাসমূহের সমাধানে এই হ্যাকাথনে অংশগ্রহণকারী সকল তরুণ ইনোভেটরদের ভবিষ্যতে স্টার্টআপ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সহোযোগিতা করা হবে বলেও জানান।

হ্যাকাথনের সমাপনী অনুষ্ঠানে টেক মাহিন্দ্রা লিমিটেডের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স এর সভাপতি সুজিত বক্সী। তিনি বলেন, হ্যাকাথনে উদ্ভাবকদের কাছ থেকে যে ভালো সমাধানগুলো এসেছে, সেগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যাওয়ার জন্য টেক মাহিন্দ্রার প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করা হবে। বিজয়ী দলগুলোকে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান “টেক মাহিন্দ্রা লিমিটেড” এর মেকারস্ ল্যাবে গবেষণা ও প্রযুক্তি সহয়তাসহ মেনটরিং ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার শ্রী বিশ্বদীপ দে, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) শেখ মুজিবুর রহমান এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানম।

সারাদেশ থেকে নির্বাচিত প্রায় ১৫০ জন উদ্ভাবকের সমন্বয়ে ৫১টি টিম নিয়ে দেশের ১০টি জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যার তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক উদ্ভাবনী সমাধানের লক্ষ্যে শুরু হয় “ন্যাশনাল হ্যাকাথন অন ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজিস”। প্রচার-প্রচারণার অংশ হিসেবে ১০টি বিশ্ববিদ্যায়ে অনুষ্ঠিত হয় হ্যাকাথনের প্রোমোশনাল ক্যাম্পেইন। প্রাথমিক বাছাইকৃত ৩৪৯টি টিম থেকে নির্বাচিত ৫১টি দল মূল হ্যাকাথনে অংশ নিয়েছেন যাদের মেনটরিং করেছেন ৪০ জন মেনটরের একটি টিম। হ্যাকাথনে ১০টি চ্যালেঞ্জের জন্য ১০টি জাজিং বোর্ড গঠন করা হয় যেখানে ৩০ জন অভিজ্ঞ বিচারক এই চূড়ান্ত বিজয়ীদের বাছাই করেন। ২৯ ফেব্রুয়ারি হ্যাকাথনের সমাপনী অনুষ্ঠানে এই হ্যাকাথন থেকে প্রাপ্ত সেরা ১০টি ইনোভেশনকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচিত ১০ চ্যালেঞ্জে বিজয়ীরা হলেনঃ ১. “গুজব প্রতিরোধে সমন্বিত ব্যবস্থা প্রবর্তন” চ্যালেঞ্জে “অন্যেষা” প্রকল্প নিয়ে “টিম অনটন”। ২. “পল্লী সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পগুলির মনিটরিং এর জন্য একটি ইফেক্টিভ টুল তৈরি” চ্যালেঞ্জে “ডিজিটাল পাবলিক সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম” প্রকল্প নিয়ে “সাউট#২”। ৩. “একটি কার্যকর ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির প্রবর্তন” চ্যালেঞ্জে “গ্রীন বিডি” প্রকল্প নিয়ে “ট্রজান”। ৪. “নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ইনটেগ্রেটেড মার্কেট ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম তৈরি” চ্যালেঞ্জে “ইন্টিগ্রেটেড মার্কেট ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম” প্রকল্প নিয়ে “অরিজিন্যাটিভ-১”। ৫. “যথাযথ ভাবে খাদ্যশস্য সংরক্ষণে স্মার্ট ওয়্যারহাউস (এলএসডি/সিএসডি/সাইলো)” চ্যালেঞ্জে “অ্যান আইওটি বেইজড স্মার্ট ওয়্যারহাউস ফর প্রিজার্ভিং গ্রেইনস প্রপার্লি” প্রকল্প নিয়ে “ব্রগ্রামার্স”। ৬. “অনুমোদিত বিল্ডিং কোড অনুযায়ী স্থাপনা তৈরিতে রিয়েল টাইম ইমারত নির্মাণপরিবীক্ষণ ব্যবস্থা প্রবর্তন।” চ্যালেঞ্জে “পর্যবেক্ষণ” প্রকল্প নিয়ে “ল্যাম্বডা”। ৭. “পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে যথাযথ ব্যবস্থা প্রবর্তন” চ্যালেঞ্জে “অকুপেশনাল সেইফটি অ্যান্ড হেলথ” প্রকল্প নিয়ে “রুয়েট অ্যাবাকাস”। ৮. “রেল দুর্ঘটনা রোধে ‘ক্যাব সিগন্যালিং’ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন” চ্যালেঞ্জে “কমিউনিকেশন বেইজড রেইল ট্রাফিক কন্ট্রোল উইথ ক্যাব সিগনেইলিং” প্রকল্প নিয়ে “টিম সিগনাস”। ৯. “নৌ-দুর্ঘটনা রোধে আধুনিক নৌযান সিগন্যালিং/ট্র্যাকিং পদ্ধতি চালুকরণ” চ্যালেঞ্জে “দি কোস্ট গার্ড” প্রকল্প নিয়ে “জ্যান্ডার”। ১০. “সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স’ এবং ‘মোটরযান ফিটনেস সার্টিফিকেট’ প্রদান ব্যবস্থার আধুনিকায়ন” চ্যালেঞ্জে “ড্রাইভ সেইভ লাইভ” প্রকল্প নিয়ে “বুয়েট স্ক্যামারস্”।

সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) এর নির্বাহী পরিচালক পার্থ প্রতিম দেব এবং সভাপতিত্ব করেন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ রাশেদুল ইসলাম।

ই-গভর্নমেন্ট ইআরপি প্রকল্পের ইনভেন্টরি মডিউলের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম উদ্বোধন

image

আইইডিসিআর এর হটলাইন নম্বরে বাংলালিংক গ্রাহকদের ফ্রি কল করার সুযোগ

image

ভিশনস্প্রিং এর ক্লিয়ার ভিশন ওয়ার্কপ্লেস (সিভিডব্লিউ) প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

image

১৫তম বছর পূর্ণ করলো ইমপ্যাক্ট পিআর

image

তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ঢাকা-১০ আসন তথা দেশের উন্নয়ন করতে চাইঃ শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন

image

লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে গবেষণা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করবে বিডা, এটুআই এবং বামা

image

ঢাকায় শেষ হল নারীদের জন্য ইনোভেশন ও উদ্যোক্তা বুটক্যাম্প

image

গ্যালাক্সি এস২০ সিরিজের প্রি-অর্ডার নিচ্ছে স্যামসাং ও গ্রামীণফোন

image

ঢাকায় শুরু হলো তিন দিনব্যাপী গার্লস ইনোভেশন ও উদ্যোক্তা বুটক্যাম্প

image