ফেসবুকের মে ২০২০ এর কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডস এনফোর্সমেন্ট রিপোর্ট প্রকাশ

image

অক্টোবর ২০১৯ থেকে মার্চ ২০২০ পর্যন্ত ফেসবুকের নীতিমালা কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে তার মানদন্ডসহ সম্প্রতি ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড এনফোর্সমেন্ট রিপোর্টের পঞ্চম সংস্করণ প্রকাশ করা হয়েছে। ফেসবৃক কর্তৃপক্ষ বলছেন, বিভিন্ন দেশের নির্বাচনে সহায়তার জন্য আমরা গত কয়েক বছর ধরে আমাদের টুলস, দল ও প্রযুক্তি গড়ে তুলেছি যাতে আমাদের অ্যাপ ভুল তথ্য ছড়াতে ব্যবহৃত না হয় এবং ব্যবহারকারীরা উস্কানিমূলক কন্টেন্ট থেকে সুরক্ষিত থাকে। তাই যখন কোভিড-১৯ ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হলো তখন আমাদের টুলগুলো সক্রিয় ছিল যার ফলে আমরা দ্রুততার সাথে নীতি বহির্ভূত কন্টেন্টগুলো চিহ্নিত করে তা অপসারণ করতে সক্ষম হয়েছি। কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে যখন আমাদের কন্টেন্ট পর্যালোচকরা বাড়ি থেকে কাজ করা শুরু করলেন, সে সময়ে আমাদের অ্যাপগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে অটোমেটেড সিস্টেমের উপর নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে এবং পর্যালোচনার ভিত্তিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কন্টেন্টগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদনে শুধুমাত্র মার্চ ২০২০-এর তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাই মহামারী চলাকালীন যে পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে তার প্রভাব কতটুকু সেটি পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। আমরা আশা করছি আমাদের পরবর্তী প্রতিবেদনগুলোতে তা পুরোপুরি ও স্পষ্টভাবে দেখানো সম্ভব হবে। উদাহরণস্বরূপ, বিগত প্রায় দুই মাস ধরে আমরা সব কন্টেন্ট যাচাই ও অ্যাকাউন্ট অপসারণের আবেদন পর্যালোচনা করতে পারিনি, তাই হয়তো আমাদের পরবর্তী প্রতিবেদনে আবেদনের সংখ্যা অনেক কম হবে। আমরা একদম নিজস্ব প্রচেষ্টায় ক্ষতিকর কন্টেন্টগুলো অগ্রাধিকার দিয়ে অপসারণ করেছি তাই এই সময়ে কতটা বেশি কন্টেন্ট নীতিমালা লঙ্ঘিত হচ্ছে তা হয়তো বোঝা যাবে না। ফেসবুকের নীতিমালা লঙ্ঘন করে এমন কন্টেন্ট চিহ্নিত করে সক্রিয়ভাবে অপসারণ করতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা কতদূর এগিয়েছি তা স্পষ্টভাবে এবারের প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে।

রিপোর্টে নতুন যা আছে: আমরা এখন ফেসবুকে বারোটি এবং ইনস্টাগ্রামে দশটি নীতিমালা ভিত্তিক মানদন্ড অন্তর্ভুক্ত করেছি। প্রতিবেদনে চারটি ইস্যুর ক্ষেত্রে ইনস্টাগ্রাম ডেটা উপস্থাপন করা হয়েছে: বিরূপ মন্তব্য, নগ্নতা ও যৌনতা, আপত্তিকর এবং হয়রানিমূলক কন্টেন্ট। ইনস্টাগ্রামে কন্টেন্ট নিয়ে আবেদনের প্রেক্ষিতে কিংবা আমরা নিজেরাই চিহ্নিত করে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছি প্রথমবারের মতো সেগুলো সম্পর্কে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। একইসাথে আমরা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ঘটে যাওয়া হিংসাত্মক ঘটনাবলী মোকাবেলায় আমাদের পদক্ষেপগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছি।

আপত্তিকর কন্টেন্ট চিহ্নিত ও অপসারণে অগ্রগতি: আমরা আমাদের প্রযুক্তি আরও উন্নত করেছি যাতে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নীতিমালা লঙ্ঘনকারী কন্টেন্ট খুঁজে বের করে অধিকসংখ্যক মানুষ দেখার আগেই তা সরিয়ে ফেলতে সহায়তা করে।

১। ফেসবুকে বিরূপ মন্তব্য প্রতিহত করতে আমাদের বিদ্যমান সনাক্তকরণ প্রযুক্তির পাশাপাশি সক্রিয় সনাক্তকরণ প্রযুক্তিতে অনেকগুলো ভাষা যুক্ত করে আরও সমৃদ্ধ করা হয়েছে। বিগত দুই প্রান্তিকে বিরূপ মন্তব্য সনাক্তকরণ হার ৮ পয়েন্টের চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে যার ফলে সনাক্তকরণের হার মাত্র এক বছরেই প্রায় ২০ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ফলে এখন আমরা কেউ রিপোর্ট করার আগেই ৯০ শতাংশ আপত্তিকর কন্টেন্ট দ্রুততার সাথে সরিয়ে ফেলতে পারি। এছাড়াও আমরা আমাদের সনাক্তকরণ প্রযুক্তিতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি যার ফলে ২০১৯ সালের ৪র্থ প্রান্তিকে আমরা ৮.৮ মিলিয়ন কন্টেন্ট অপসারণ করেছি যা আগের বছরের এই সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ।

২। ইনস্টাগ্রামে আত্মঘাতী ও আত্মহত্যায় উস্কানিমূলক কন্টেন্ট চিহ্নিত করতে সহায়তা করার জন্য আমরা আমাদের ‘টেক্সট এন্ড ইমেজ ম্যাচিং টেকনোলজি’কে আরও উন্নত করেছি। ফলে নীতিমালা লঙ্ঘন করে এমন কন্টেন্টের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার পরিমাণ ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে যা সর্বশেষ প্রতিবেদনের পর থেকে এখন পর্যন্ত স্বপ্রণোদিত সনাক্তকরণের হার ১২ পয়েন্টে উন্নীত করেছে। অনলাইনে হয়রানিমূলক ঘটনা রোধে আমরা বেশ কিছু নতুন ফিচার যোগ করেছি যাতে ব্যবহারকারীরা অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা প্রতিরোধ করে ভার্চুয়াল সময়টুকু স্বস্তিদায়ক করতে পারেন। আমরা ‘নিউ ইনস্টাগ্রাম কন্ট্রোল’ প্রকাশ করেছি যে প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো ইনস্টাগ্রামে ঘটে যাওয়া আপত্তিকর ঘটনার তথ্যাবলী সংযোজন করা হয়েছে। সেই সাথে ২০১৯-এর চতুর্থ প্রান্তিক ও ২০২০-এর প্রথম প্রান্তিকে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এমন ১.৫ মিলিয়ন কন্টেন্টও প্রকাশিত হয়েছে।

৩। সর্বোপরি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন আমাদের ডেটাবেজে বিদ্যমান নীতিমালা লঙ্ঘন করে এমন কন্টেন্টের সাহায্যে নতুন অনুরূপ কন্টেন্ট চিহ্নিত করে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে চাইল্ড নুডিটি ও যৌনহয়রানিমূলক কন্টেন্ট অপসারণ করতে সহায়তা করেছে।

বিগত ছয় মাস ধরে আমাদের দল পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের মধ্যে ভাইরাল হওয়া ও বহুল প্রচলিত কন্টেন্টগুলোকে যাচাই করতে ব্যাপকভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে। ভবিষ্যতে আমরা আরও পোস্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে দেয়াসহ বিভিন্ন কন্টেন্ট সরাতে প্রযুক্তি কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছি। এতে করে আমাদের পর্যালোচক দল যেসকল কন্টেন্টে বেশি বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে এবং যেগুলোর ক্ষেত্রে আরও পর্যালোচনা প্রয়োজন সেগুলোতে মনোনিবেশ করতে পারবেন।

কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড এনফোর্সমেন্ট রিপোর্টটি আমাদের দ্বি-বার্ষিক ট্রান্সপারেন্সি প্রতিবেদনের সাথে যৌথভাবে প্রকাশিত হয়েছে যাতে এখনও পর্যন্ত সরকারি অনুরোধে কতগুলো অ্যাকাউন্টের তথ্য হস্তান্তর করা হয়েছে, স্থানীয় আইনের উপর ভিত্তি করে কী কী কন্টেন্টে বিধিনিষেধ আরোপিত হয়েছে, স্বত্বাধিকার খর্বকৃত কতগুলো কন্টেন্ট সরিয়ে ফেলার অনুরোধ এসেছে এবং সরকারি নির্দেশে কতবার কোন বিশেষ এলাকায় বা দেশে ফেসবুক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এসব সংখ্যা প্রকাশ করা হয়। কর্তৃপক্ষ বলছে, ভবিষ্যতে তিন মাস পর পর কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড এনফোর্সমেন্ট রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। রিপোর্টটি দেখতে https://transparency.facebook.com/community-standards-enforcement ভিজিট করুন।

চিকিৎসকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী উপহার দিচ্ছে ইন্টেগ্রো

image

অনলাইনে ইনফো-সরকার ৩য় পর্যায় প্রকল্পের স্টীয়ারিং কমিটির সভা

image

করোনা পরিস্থিতিতে ডিজিটাল মার্কেটিং-এ দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

image

অনলাইন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে শহর-গ্রামের বৈষম্য দূর হবে

image

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় ও এটুআই এর আয়োজনে শেষ হলো “অনলাইন লার্নিং সামিট-২০২০”

image

অনলাইন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে শহর-গ্রামের বৈষম্য দূর হবে: পলক

তথ্য ওযোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি পরবর্তী পৃথিবী

১৭ মে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস

image

শ্রমিকদের কোভিড-১৯ সম্পর্কে শিক্ষা ও পরামর্শ প্রদানের উদ্দেশ্যে শুরু হয়েছে ‘বর্ডারলেসডটক্লিনিক’

image

যাকাত ও আর্থিক অনুদান প্রদানে চালু হলো দেশের প্রথম ক্রাউডফান্ডিং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘একদেশ’

image