কেরাণীগঞ্জের ৮ ইউপিতে ব্রডব্যান্ড

সব ই-সেবা মানুষের দরজায় পৌঁছে যাবে : নসরুল হামিদ

৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা: পলক

image

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেছেন, দ্রুত গতির ইন্টারনেট সংযোগ বিদ্যমান ও আগত সব ই-সেবা মানুষের দ্বার গোড়ায় পৌঁছে দেবে। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে কেরাণীগঞ্জের আটটি ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক ও ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম। ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব, কেরাণীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন। পরে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি উদ্বোধন করেন।

বাংলাদেশে অনলাইন সেবার বিস্তারে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের এর অবদান স্মরণ করে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, তার পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানেই বাংলাদেশ আজ ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ইন্টারনেট আজ বিশ্বকে একটি গ্রামে পরিণত করেছে। বাংলাদেশেও গ্রাম পর্যায়ে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। ইন্টারনেট ব্যবহার করে ব্যাংকিং সেবায় পেমেন্ট সিস্টেম সচল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে । ফলে সব অর্থনৈতিক কার্যক্রম ইন্টারনেটকেন্দ্রীক হবে। এর জন্য প্রয়োজন নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ। দেশের ৯৭ ভাগ মানুষ এখন বিদ্যুৎ পাচ্ছে। মুজিববর্ষেই শতভাগ এলাকা বিদ্যুতায়নের আওতায় আসবে। তিনি বলেন, কেরাণীগঞ্জে হাইটেক পার্ক নির্মাণ অত্র এলাকার তরুণ-তরুণীদের আরও ডিজিটাইজড করে সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। কেরণীগঞ্জের বাকি চারটি ইউনিয়নেও দ্রুত ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করতে আইসিটি বিভাগের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা: পলক

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক বলেন, ইনফো-সরকার ( ৩য় পর্যায় ) প্রকল্পের মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড কানেক্টিভিটি প্রান্তিক এলাকায় ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিচ্ছে। ফলে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার অর্থনৈতিক কার্যক্রমের অন্যতম হাবে পরিণিত হচ্ছে। পলক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের এর তত্ত্বাবধানে বিগত ১১ বছর দেশে ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার কারণে গত ৫ মাসে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনোদন এমনকি কোরবানির গরুর হাট পর্যন্ত ডিজিটাল প্লাটফর্মে চলে এসেছে। তাই এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রযুক্তির কল্যাণে করোনা মহামারীকালীন ঝড় ও বন্যাকবলিত মানুষকে সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে আইসিটি খাতে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অর্জনে নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, ইনফো-সরকার ৩য় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় প্রান্তিক গ্রামীণ জনপদে দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্রডব্যান্ড সংযোগ প্রদানের জন্য ২ হাজার ৬শ’ ইউনিয়নে পয়েন্ট অফ প্রেজেন্স (পিওপি) স্থাপন এবং ১৯ হাজার ৫শ’ কি.মি. অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপনের মাধ্যমে উচ্চগতির নেটওয়ার্ক অবকাঠামো স্থাপন করা হচ্ছে। আইসিটি বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ি, ২০২১ সালে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গ্রাহক ২ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ এ উন্নীত হবে। ফলে জিডিপি ১ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।