স্টার্টআপ ওয়ার্ল্ড কাপের চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে গেজ টেকনোলজিস

http://thesangbad.net/images/2020/February/10Feb20/news/it-page.jpg

বাংলাদেশে স্টার্টআপ এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বান্ধব ইকো সিস্টেম তৈরিতে ভিশন ২০২৫ উদ্বোধন করা হয়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি স্টার্টআপ ওয়ার্ল্ড কাপের বাংলাদেশ অঞ্চলের চূড়ান্ত পর্বে এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, যেখানে ২০২৫ সালের মধ্যে ৪টি বিষয়বস্তুর উপর নির্ভর করে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকো সিস্টেম বর্তমানের চেয়ে সাতগুন উন্নীত করা হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে একটি এক বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি (ইউনিকর্ন) রয়েছে এবং ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত ৫টি বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের কোম্পানি অথবা ইউনিকর্ন তৈরিরল ক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশে বর্তমানে ১.৪৫ বিলিয়ন ডলারের স্টার্টআপ ইকো সিস্টেম রয়েছে, যা ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব স্টার্টআপগুলো বর্তমানে প্রত্যক্ষভাবে ১.৫ লাখ এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ৭ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ভিশন ২০২৫ এর অধিনে ২০২৫ সাল নাগাদ প্রত্যক্ষভাবে ১০ লাখ এবং পরোক্ষভাবে ৫০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মুজিববর্ষকে সামনে রেখে এ বছর বৃহৎ পরিসরে ও জাঁকজমকভাবে স্টার্টআপ ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২০, বাংলাদেশ যৌথভাবে আয়োজন করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইসিটি ডিভিশন, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড প্রাইভেট ইক্যুইটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ভিসিপিয়াব), ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) এবং পাওয়ার্ড বাই ই-জেনারেশন। নলেজ পার্টনার হিসেবে বুয়েটসহ এবারের আয়োজনে অংশীদারদের মধ্যে ছিলো সিঙ্গাপুর ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইক্যুইটি অ্যাসোসিয়েশন (এসভিসিএ), অ্যানুয়াল ইনভেস্টমেন্ট মিটিং (এআইএম)- ইউএই, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, টাই ঢাকা, এন্টারপ্রেওনার্স অর্গানাইজেশন, এফএনএস মিডিয়া, আমেরিকান অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশন এবং চাকরি খুঁজবো না, চাকরি দেবো। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিলো আরটিভি। এছাড়া এই আয়োজনে প্লাটিনাম স্পন্সর হিসেবে রকমারি ও ইভ্যালি এবং গোল্ড স্পন্সর হিসেবে ছিলো চালডাল, এসএসএল ওয়্যারলেস এবং অগ্রণী ব্যাংক।

রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে আয়োজিত স্টাটআপ ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২০, বাংলাদেশের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফর ডাবল ডিজিট গ্রোথ’ শীর্ষক সেশনে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প এবং বিনিয়োগ উপদেষ্ঠার সামনে লক্ষ্যমাত্রাটি তুলে ধরেন পেগাসাস টেকভেঞ্চারস এর জেনারেল পার্টনার, ভিসিপিয়াব চেয়ারম্যান ও ইজেনারেশন গ্রুপের চেয়ারম্যান শামীম আহসান। ঘোষণার পাশাপাশি এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ১০টি পয়েন্ট প্রস্তাাব করা হয়। প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে নীতিমালা, অর্থায়ন, উদ্ভাবন এবং কান্ট্রি ব্র্যান্ডিং ফ্র্রেমওয়ার্ক।

স্টার্টআপ ওয়ার্ল্ডকাপ বাংলাদেশ পর্বে বিজয়ী হয়েছে ‘গেজ টেকনোলজিস’, যারা সিলিকনভ্যালিতে স্টার্টআপ ওয়ার্ল্ডকাপ ২০২০ এর চূড়ান্ত পর্বে প্রতিযোগিতায় অংশ নিবে এবং এক মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পুরস্কার লাভের জন্য লড়বে। এছাড়া তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতে অ্যানুয়াল ইনভেস্টমেন্ট মিটিংয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে। এছাড়া প্রথম ও দ্বিতীয় রানার্সআপ নির্বাচিত হয়েছে যথাক্রমে ‘অল্টার ইয়্যুথ’ এবং ‘ট্রাক লাগবে?’। চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে পোষা পেটস ও কুক আপস । সেরা ৫ স্টার্টআপকে সিলিকনভ্যালিতে নিয়ে যাওয়া হবে এবং অংশগ্রহণকারী সকল স্টার্টআপ আইসিটি ডিভিশন থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাবে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, আমরা মুজিব বর্ষ পালন করছি। এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন, যেখানে স্টার্টআপ খাতও জড়িত রয়েছে। আমি মনেকরি স্টার্টআপ খাত বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে ও ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে। সেজন্য স্টার্টআপসহ বেসরকারি খাতকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

উদ্বোধনী পর্বে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প এবং বিনিয়োগ উপদেষ্ঠা সালমান এফ রহমান বলেন, সরকার এই খাতের জন্য নিজস্ব উদ্যোগ নিচ্ছে এবং এই খাতের উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই আমাদের দেশে সফল স্টার্টআপ গড়ে উঠেছে, যার অন্যতম উদাহরণ বিলিয়ন ডলারের ইউনিকর্ন বিকাশ। বাংলাদেশে আগামী ৫ বছরের মধ্যে বিনিয়োগ বান্ধব স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার জন্য এখানে ঘোষিত ভিশন ও লক্ষ্যমাত্রাকে আমরা স্বাগত জানাই।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, সরকার চাকরিজীবি নয়, চাকরিদাতা তৈরি করতে চায়। মুজিববর্ষকে সামনে রেখে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা স্টার্টআপ কালচার, ইনোভেশন সেন্টার তৈরি করছি। আমরা স্টার্টআপ বাংলাদেশকে লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছি এবং এই খাতের জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা ফান্ড তৈরি করা হয়েছে। আমি স্টার্টআপ ওয়ার্ল্ডকাপের চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী স্টার্টআপের সফলতা কামনা করছি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, স্টার্টআপ ওয়ার্ল্ডকাপের চেয়ারম্যান পেগাসাস টেক ভেঞ্চারস এর জেনারেল পার্টনার ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসউজ্জামান প্রমুখ।

উল্লেখ্য স্টার্টআপ ওয়ার্ল্ডকাপের বাংলাদেশ আঞ্চলিক পর্বে দেড় শতাধিক স্টার্টআপ আবেদন করে, যার মধ্য থেকে আঞ্চলিক চূড়ান্ত পর্বে অংশনেয়ার জন্য সেরা ৮টি কোম্পানি নির্বাচিত করা হয়। নামের ক্রমানুসাওে এসব স্টার্টআপগুলো হলো- অল্টারইয়্যুথ, কুক আপস, গেজ টেকনোলজিস, পার্কিং কই, পোষা পেটস, সিগমাইন্ড.এআই, তরুণ ডিজিটাল এবং ট্র্যাক লাগবে।

ইন্টারনেটকে জরুরী সেবা ঘোষনার পরও হয়রানি ও টিকে থাকার ঝুঁকি

image

করোনার প্রভাব মোকাবেলায় প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ে পলকের ভিডিও কনফারেন্স

image

২০২০-২২ মেয়াদে বিসিএস সভাপতি শাহিদ-উল-মুনীর মহাসচিব মনিরুল ইসলাম

image

১৪ মার্চ বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির নির্বাচন

image

ই-গভর্নমেন্ট ইআরপি প্রকল্পের ইনভেন্টরি মডিউলের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম উদ্বোধন

image

আইইডিসিআর এর হটলাইন নম্বরে বাংলালিংক গ্রাহকদের ফ্রি কল করার সুযোগ

image

ভিশনস্প্রিং এর ক্লিয়ার ভিশন ওয়ার্কপ্লেস (সিভিডব্লিউ) প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

image

১৫তম বছর পূর্ণ করলো ইমপ্যাক্ট পিআর

image

তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ঢাকা-১০ আসন তথা দেশের উন্নয়ন করতে চাইঃ শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন

image