হুয়াওয়ে অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ভার্চুয়াল সামিট ২০২০ অনুষ্ঠিত

image

সম্প্রতি, অনলাইনে হুয়াওয়ে অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ভার্চুয়াল সামিট ২০২০ সফলভাবে শেষ হয়েছে। ‘ডাটা টু ব্যারেল’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক ক্রেতা, এ শিল্পখাতের অংশীদার, খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনে আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (এডিএনওসি), শ্লুমবার্জার এসআইএস’র ডিজিটাল রূপান্তরের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিগণ এবং ফরাসি তেল ও গ্যাস উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান টোটালের সাবেক প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (সিআইও) ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে কীভাবে তেল ও গ্যাস প্রতিষ্ঠানগুলো মুনাফা বৃদ্ধি করতে পারে এবং ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে কীভাবে প্রতিষ্ঠানে ভ্যালু সংযোজন করা যায় সে বিষয়গুলো নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এছাড়া, বর্তমান সঙ্কটকালে এ খাত কীভাবে চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে পারে এবং বৈশ্বিক মহামারির নতুন স্বাভাবিকতা মেনে নিয়ে কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে কী করা যায় ষে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশও তুলে ধরা হয় সম্মেলনে।

চলতি বছরের প্রথমার্ধে কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্কটে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য প্রতি ব্যারেল ৩০ মার্কিন ডলারে নেমে আসে। মে মাসের দিকে তেল শিল্প খাতে একটি নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে, এ সময় ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের ভবিষ্যত মূল্যে ঋণাত্মক প্রবণতা দেখা দেয়। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, তেল ও গ্যাস শিল্প প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এ খাতে পরিবর্তন লক্ষণীয়, যা গত এক শতাব্দী ধরে দেখা যায়নি।

এ প্রতিকূল সময়ে তেল ও গ্যাসের ক্রেতাদের উদ্ভূত পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেয়ার জন্য সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে হুয়াওয়ে। এ নিয়ে হুয়াওয়ের এন্টারপ্রাইজ বিজনেস গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবসা বিভাগের পরিচালক ডেভিড সান বলেন, ‘গত এক দশক ধরে হুয়াওয়ে তেল ও গ্যাস শিল্পখাতের ক্রেতাদের সাথে কাজ করেছে এবং এ সময়ে আমরা একসাথে তেলের মূল্য প্রতি ব্যারেল সর্বোচ্চ ১২০ মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে ও সর্বনিম্ন ৩০ মার্কিন ডলারে নামতে দেখেছি। এ সময় তেল ও গ্যাস প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় ও হুয়াওয়ের অংশগ্রহণে অগ্রগতিমূলক পরিবর্তন এসেছে। সুইচ, রাউটার ও নেটওয়ার্ক সরঞ্জামাদি সরবরাহকারী থেকে প্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি ডিজিটাল রূপান্তর সমাধানকারী অংশীদারে পরিণত হয়েছে হুয়াওয়ে। একইসঙ্গে তেল ও গ্যাস শিল্পখাতে হুয়াওয়ে তাদের অংশীদার ও ক্রেতাদের সাথে যৌথভাবে ফাইভজি, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিগ ডাটার মতো অ্যাপ্লিকেশনগুলোর উন্নয়নে কাজ করছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ধারাবাহিকভাবে নতুন প্রযুক্তি ও অ্যাপ্লিকেশনগুলোর বিকাশে আমাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও বিগ ডাটা অ্যানালিটিকস বাস্তবায়নে অংশীদারদের সাথে কাজ করছে হুয়াওয়ে এবং প্রতিষ্ঠানটি এ খাতের গ্রাহকদের জন্য কম্পিউটিং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। এটি তেল ও গ্যাস উভয় খাতের রিজার্ভ ও উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করেছে। এছাড়াও, সমাধানগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্টিফিশিয়াল-লিফট ফল্ট ডায়াগনোসিস, ওয়েল-লগিং, সম্পদ মজুদের স্থান চিহ্নিতকরণ, ভূকম্পনের পূর্বাভাস এবং অব্যবহৃত ডাটা (পূর্বতন ‘অকার্যকর’) থেকে তাৎপর্যপূর্ণ উপযোগিতা বের করা।

হুয়াওয়ে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে নির্দিষ্ট ক্লাউড তৈরি করেছে। ক্লাউড ডাটা কেন্দ্র কম্পিউটিং পাওয়ারকে আটগুণ বৃদ্ধি করেছে। প্রকল্প এলাকার ৪০০ বর্গকিলোমিটার থেকে ২,০০০ বর্গকিলোমিটারে কার্যসম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত মেলাতে অনুরূপভাবে প্রতিষ্ঠানটি প্রি-স্ট্যাক ভূকম্পন ডাটা প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতা পাঁচগুণে উন্নীত করেছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে এবং তেলের খনিতে নতুন ভ্যালু যোগ করতে এআই ও বিগ ডাটা সক্ষমতা ব্যবহার করে গ্রাহকের আগের ১০ পেটাবাইট ডাটা পুনঃবিশ্লেষণ করা হয়েছে।

ফাইভজি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিস্তৃত পরিসরের শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতায়নে কাজ করছে হুয়াওয়ে। তেল ও গ্যাস শিল্পখাতে ভূকম্পনের মাধ্যমে ডাটা সংগ্রহ কার্যক্রমের ধরনে পরিবর্তন নিয়ে আসছে ফাইভজি প্রযুক্তি। হুয়াওয়ে কম্পনজনিত ডাটার উচ্চগতি ব্যাকহল, প্রথাগত কাজের চাপহ্রাসকরণে ও ভূকম্পন ডাটা সংগ্রহের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নীতকরণে ফাইভজি নেটওয়ার্কের ফিচারগুলো (উচ্চ ব্যান্ডউইথ, বিস্তৃত পরিসরের কানেক্টিভিটি ও কম লেটেন্সি) ব্যবহার করছে।

রোবট ও ড্রোনের মাধ্যমে সাইট দেখার পাশাপাশি অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর) ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) অ্যাপ্লিকেশনগুলোর সহায়তার জন্য হুয়াওয়ের ফাইভজি নেটওয়ার্ক তেলক্ষেত্র ও স্থাপনাগুলোতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সনাতনী সেবা প্রক্রিয়া বদলে ফেলতে এবং এ শিল্পের জটিল ও পরিবর্তিত চাহিদা মেটাতে মাইক্রো-পরিষেবা হিসেবে সেবা সংশ্লিষ্ট অ্যাপলিকেশনগুলো নিয়ে এসে তেল ও গ্যাস খাতের ক্রেতাদের সহায়তা করছে হুয়াওয়ে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আলজেরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি এসওএনএটিআরএসিএইচ এর জন্য এন্টারপ্রাইজ ক্লাউড স্থাপন করেছে হুয়াওয়ে। এ ক্লাউড-ভিত্তিক সমাধানটি বহু ডাটা কেন্দ্র পরিচালন ও সমন্বয় করে, অপ্রয়োজনীয় অংশগুলো দূর করে এবং সার্বিক কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়ায়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড, এজ কম্পিউটিং ও ফাইভজি’র মতো উদ্ভাবনী প্রযুক্তিগুলো তেল ও গ্যাস শিল্পখাতের পুনর্বিন্যাসে সহায়তা করবে। সম্মেলনে জানানো হয়, আইডিসির সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, চীনের প্রযুক্তি ব্যবহারকারীরা হুয়াওয়েকে ডিজিটাল রূপান্তরের শীর্ষস্থানীয় ও র‌্যাকিংয়ে এক নম্বর প্রতিষ্ঠান হিসেবেই দেখছে।