তদন্ত কর্মকর্তা জবাব দিতে পারেননি কি কারণে মোজাম্মেলকে গ্রেফতার দেখানো হবে

image

চাঁদাবাজির মামলার পর যাত্রীকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চৌধুরী কিভাবে বিস্ফোরক মামলার আসামি হলেন আদালতের করা প্রশ্নের কোন জবাব দিতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তা। এ সময় মোজাম্মেলকে কেন এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে এর জবাব চাইলেও তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার এসআই মো. রায়হান জবাব দিতে পারেনি। ফলে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের করা মামলায় মোজাম্মেলকে গ্রেফতার দেখানোর যে আবেদন পুলিশ করেছে তা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

পুলিশের কারসাজিতে মিথ্যে চাঁদাবাজির মামলায় জামিনে দেয়া মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা একটি পুরোনো মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন কাফরুল থানা পুলিশ। পরে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে শুনানিতে বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) আদালতে হাজির হন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার এসআই রায়হান। তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আদালত জানতে চান গত ফেব্রুয়ারি মাসে দায়ের করা এ মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় কোন আসামি গাজী মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে জড়িয়ে জবানবন্দি দিয়েছিল কিনা। উত্তরে কোন জবাব দিতে পারেনি তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রায়হান। ওই মামলার কোন স্বাক্ষী আছে কিনা যে জানে মোজাম্মেল ঘটনার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এরও কোন জবাব দিতে পারেনি পুলিশ। স্বাক্ষী বা কোন আসামির জবানবন্দিতে নাম না আসা সত্ত্বেও কি কারণে মোজাম্মেলকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে জানতে চেয়ে প্রশ্ন করা হলে কোন জবাব দিতে পারেনি তদন্ত কর্মকর্তা। ৩ বার প্রশ্ন করার পরও মুখে কুলুপ আঁটে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রায়হানের। পরে শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম এই মামলা মোজাম্মেলকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন খারিজ করে দেন।

বিচারক মোজাম্মেলকেও জিজ্ঞেস করেন তিনি কাফরুলের মামলার ঘটনা জানেন কিনা? তখন মোজাম্মেল ‘পুলিশের বৈরীতার’ কারণ ব্যাখ্যায় বলেন, যাত্রীদের কল্যাণে কাজ করছেন বলে তিনি মালিক পক্ষ ও পরিহন শ্রমিক নেতাদের রোষানলে পড়েছেন। পুলিশকে কব্জা করে অন্যায় স্বার্থের বিনিময়ে তাকে একের পর এক মামলায় জড়াচ্ছে ওই মহল। তখন বিচারক পুলিশ কর্মকর্তার প্রতি উষ্মা প্রকাশ করে তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন নাকচ করে দেন।

বিস্ফোরক দ্রব্যের আইনের এ মামলায় গত ১০ সেপ্টেম্বর মোজাম্মেলকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। ওই আবেদনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের হেফাজতও (রিমান্ড) চাওয়া হয়। সেদিন বিচারক ওই আবেদনের শুনানির জন্য তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দিন রেখেছিলেন।

এর আগে দুলাল নামের এক ব্যক্তির স্বাক্ষরে ৪ সেপ্টেম্বর মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর ১১ সেপ্টেম্বর তাকে জামিন দেয়া হয়। জামিন পেলেও এর মধ্যে কাফরুল থানার বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন থাকায় তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাননি। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন খারিজ হলে কেরানিগঞ্জ কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।