ফারমার্স ব্যাংকের ৭ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

image

জালিয়াতীর মাধ্যমে ৪ কোটি টাকার ঋন দেওয়া এবং ওই ঋনের টাকা সাবেক প্রধান বিচারপতির ব্যাংক একাউন্ডে জমা দেয়ার ক্ষেত্রে দুই ব্যবসায়ীকে সহযোগিতা করা হয়েছে এমন সন্দেহে ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ৬ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের পরিচালক ও অভিযোগ অনুসন্ধান কর্মকর্তা সৈয়দ ইকবাল হোসেন। এদিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ৭ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক। বুধবার দুদক কার্যালয় থেকে ওই চিঠি পাঠানো হয়।

দুদক সূত্র জানায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ব্যাংক হিসাবে ৪ কোটি টাকা স্থানান্তর করেছিলো দুই ব্যবসায়ী মোঃ শাজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র শাহা। ওই দুই ব্যবসায়ী ওই টাকা ফারমার্স ব্যাংক থেকে জালিয়াতীর মাধ্যমে ঋন নিয়েছে বলে অভিযোগ পায় দুদক। এর পর দুদক বিষয়টি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। জালিয়াতীল মাধ্যমে ঋন নেওয়া এবং ওই টাকা সাবেক প্রধান বিচারপতির বাংক একাউন্টে জামা দেয়ার ঘটনায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলো দুদক। দুই ব্যবসায়ীকে ঋন দেওয়া ও সাবেক প্রধান বিচারপতির বাংক একাউন্টে ওই টাকা জমা দেয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছেন সন্দেহে ব্যাংকটির সাবকে এমডি কে এম শামীম সহ ৭ জনকে তলব করা হয়েছিলো। বুধবার তারা দুদক কার্যালয়ে হাজির হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সকাল থেকে বিকেল পর্যণÍ তাদের পর্যায়ক্রমে এসব বিষয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে অভিযোগ সংশ্লিস্ট অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল।

সূত্র জানায়, সাবেক প্রধান বিচারপতির ব্যাংক একাউন্টে ৪ কোটি টাকা স্থানান্তরের সঙ্গে ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির সম্পৃক্ততা রয়েছে এমন অভিযোগ অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের আরো জিজ্ঞাসাদা প্রয়োজন। দুদকের কাছে মনে হয়েছে তারা পালিয়ে যেতে পারে। তাই তাদের বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক। যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে তারা হলেন- ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কে এম শামীম, এক্সিকিউটিভ অফিসার উম্মে সালমা সুলতানা, অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিউদ্দিন আসকারী আহমেদ, সাবেক ম্যানেজার অপারেশন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুতফুল হক, সাবেক হেড অব বিজনেস ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট গাজী সালাউদ্দিন, সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জিয়া উদ্দিন আহমেদ ও ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়।

দুদক সূত্র জানায়, বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা সৈয়দ ইকবাল হোসেনের সই করা চিঠি পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন) শাখায় পাঠানো হয়েছে। দুদক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পেরেছে, ওই ব্যাংক কর্মকর্তারা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাই অনুসন্ধান কর্মকর্তা তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন।