জঙ্গিদের বিষয়ে গণমাধ্যম রিপোর্ট যেন জঙ্গিদের হিরো হিসেবে উপস্থিত না করে

image

জঙ্গিদের উদ্দেশ্য হামলা চালিয়ে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করা। নিজেদের হিরো হিসেবে উপস্থাপন করা। হিরোইজমের মাধ্যমে প্রচার ও মোটিভেশনের মাধ্যমে জঙ্গিবাদের প্রচার করে নতুন জঙ্গি তৈরি করা। তারা চায় মেইনস্ট্রিম প্রচারণা। অনেক সময় গণমাধ্যম সেই কাজটিই করে। জঙ্গিদের ব্যবহ্নত ভাষা (শব্দ) ও ছবি প্রচার করে। পরে তা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রকাশ পায়। এতে করে জঙ্গিদের হামলার পেছনে যে উদ্দেশ থাকে তা সফল হয়। ৬ মে সোমবার রাজধানীর সিরডাপে এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) ও ডিএমপি’র কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের যৌথ উদ্যোগে অপরাধ বিষয়ক সাংবাদিকদের নিয়ে ‘রিপোর্টিং অন টেররিজম’ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, জঙ্গিরা ‘জিহাদ’ শব্দ ব্যবহার করে। দেখা গেছে, মিডিয়ায়ও এই শব্দ ব্যবহার করে। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন থেকে আর্থিক সহায়তা পেতে, তাদের নজরে আসতে এবং জনমনে ভীতি সৃষ্টি করতে জঙ্গিরা হামলা চালায়। কিন্তু মিডিয়া যদি ওই হামলার যাবতীয় তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করে তাহলে আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীর কাছে তাদের সেই বার্তা পৌঁছে যায়। জঙ্গি হামলার কথা শুনে বা ছবি দেখে জনমনে ভীতি কাজ করে। কমিশনার বলেন, নিউজিল্যান্ডে ও শ্রীলঙ্কায় জঙ্গি হামলা দেখলো বিশ্ব। সেখানে ক’টা বীভৎস লাশের ছবি আমরা দেখেছি? কারণ শ্রীলঙ্কান সাংবাদিকরা তাদের জাতীয় স্বার্থ বড় করে দেখেছে। আমাদের দেশে এমন সব ইস্যুতে সময় এসেছে চিন্তাভাবনা করার, বিশেষ করে গণমাধ্যমের টেলিভিশন লাইভ টেলিকাস্টের ক্ষেত্রে। আমাদের দেশের অবস্থা ও শ্রীলঙ্কার অবস্থা এক রকম না হলেও জাতীয় স্বার্থে জঙ্গিবাদসহ সব ইস্যুতে গণমাধ্যমের সেল্ফ সেন্সরশিপ দরকার। তাই যে রিপোর্ট জঙ্গিবাদের পক্ষে প্রচার পায় বা সন্ত্রাস কিংবা জঙ্গিদের হিরো হিসেবে যেন উপস্থাপিত না হয়। বরং উচিত জঙ্গিরা যে দেশের শত্রু, মানবতার শত্রু তা প্রচার করা।

তার দাবি বলেন, উন্নত বিশ্ব উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করেও সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করতে পারেনি, আমরা পেরেছি। আমরা সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে পেরেছি। আপামর জনসাধারণ এক্যবদ্ধ হয়েছি। কারণ, আমাদের গণমাধ্যম সচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। মিডিয়া সব পারে মন্তব্য করে পুলিশ কমিশনার বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা, উল্টোপথে গাড়ি চলা বন্ধে প্রথমে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়েছি এবং পেয়েছিও। পরে উল্টোপথে চলতে গিয়ে কিন্তু পুলিশ, সাংবাদিক, মন্ত্রী, সচিব, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আমলারাও মামলা খেয়েছেন। ট্রাফিক আইন অমান্যকারী, উল্টোপথে চলাচলকারী সবার বিরুদ্ধে ট্রাফিক প্রসিকিউশন দিয়েছি। যে কারণে উল্টোপথে যানবাহন চলাচল ৮০ শতাংশ কমে এসেছে এবং ৯৫ শতাংশ মানুষ এখন হেলমেট ব্যবহার করছে। কমিশনারের উদ্বোধনের পর সিটিটিনি প্রধান ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম, ডিবিসি চ্যানেলের সম্পাদক জাহেদুল আহসান পিন্টু ও ক্র্যাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক হারুন উর রশীদ জঙ্গিবাদ ও জঙ্গিবাদ নিয়ে নিউজ করার বিভিন্ন ধরণ নিয়ে আলোচনা করেন।