বিজিবির ১১৯ সদস্যের মুক্তিযোদ্ধা গেজেট বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত

image

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক হাজার ১৩৪ জনের মুক্তিযোদ্ধা গেজেট বাতিল করার যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে ১১৯ জনের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি জে বি এম হাসানের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ স্থগিতাদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আব্দুল কাইয়ূম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ। বাগেরহাটের সদর উপজেলার বেগুরগাতি গ্রামের মোল্লা মোশাররফ হোসেনসহ ৮৭ জন এবং টাঙ্গাইলের সদর উপজেলারে বেথবাড়ীর ফজলুল হকসহ ৩২ জন দুটি রিট করেছিলেন।

আব্দুল কাইয়ূম বলেন, গেজেট বাতিল আইনানুগ না হওয়ায় সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা সেটি চ্যালেঞ্জ করে দুটি রিট আবেদন করেছিলেন। আদালত সে দুটি রিটের শুনানি নিয়ে ১১৯ জনের ক্ষেত্রে গেজেটটি স্থগিত করেছেন। নিয়মিত আদালত খোলা না পর্যন্ত গেজেটটি স্থগিত থাকবে। এরা সবাই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিডিআর-এ যোগ দিয়েছিলেন। বিডিআর তো সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডেই ছিল। পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই ও স্বচ্ছ একাটি চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সেই গেজেটটি বাতিল করে আবার আরেকটি গেজেটে নেওয়ার জন্য আবার তাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। এক ব্যক্তি কতবার যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যাবেন! এটা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অপমান, হয়রানি।

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে জারি করা এক হাজার ১৮১ জনের গেজেট বাতিল করে গত ৭ জুন প্রজ্ঞাপন জারি করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ২০০২ এর ৭ (ঝ) ধারা অনুযায়ী জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬-এর শিডিউল-১ এর তালিকা ৪১-এর ৫ নম্বর ক্রমিকে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে জামুকার ৬৬তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্বাধীনতা যুদ্ধের পর (১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এ যোগদানকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের ১১৩৪ জনের নামে প্রকাশিত গেজেট বাতিল করা হলো। এই এক হাজার ১৮১ জনের মধ্যে এক হাজার ১৩৪ জন মুক্তিযোদ্ধা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি); ২০০৯ সালে নাম পরিবর্তনের আগে এই বাহিনীর নাম ছিল বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর)।