করোনার প্রভাবে যথাসময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতের প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়

image

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতের বেশকিছু প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। বিদেশি কর্মীদের অবাধে বাংলাদেশে প্রবেশে জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় মালামাল আমদানিতে সংকট তৈরি হওয়ায় প্রকল্পের কাজ বাধার মুখে পড়েছে। বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের রাষ্ট্রীয় কয়েকটি কোম্পানি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট চীনা কর্মীদের ভিসা অব্যাহত রাখতে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। তাদের মতে, চীনা প্রকৌশলী ও অভিজ্ঞ কর্মীরা অবাধে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পাড়লে প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াতে হলে, ব্যয়ও বাড়বে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক কোম্পানির পক্ষ থেকে বিদেশিদের বিশেষ করে চীনা নাগরিকদের ভিসা সুবিধা দিয়ে দেশে আনার বিষয়ে মন্ত্রণালয়গুলোতে যোগাযোগ করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতের একাধিক কোম্পানি বিদ্যুৎ বিভাগে চিঠি দিয়ে বলছে যাতে চীনাদের ভিসা দেয়া হয়। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর সম্মতি পাওয়া যাচ্ছে না। একক প্রকল্প হিসেবে সবচেয়ে বেশি চীনা প্রকৌশলী ও শ্রমিকরা কাজ করে পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। প্রকল্পটিতে কর্মরত প্রায় চার হাজার চীনা নাগরিকের মধ্যে যারা সম্প্রতি ছুটিতে নিজ দেশে গেছেন, তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এদিকে দীর্ঘ সময় কাজ করে প্রকল্পটি যখন চূড়ান্ত উৎপাদনে যাবে, তখন করোনার প্রভাবে প্রকল্পটি উৎপাদনে আসতে পারছে না। কারণ চীনা প্রকৌশলীদের সহায়তা ছাড়া প্রকল্পটির বাকি কাজ শেষ করা যাচ্ছে না।

নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের (এনডব্লিউপিজিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী খুরশেদ আলম এ বিষয়ে বলেন, আমরা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি চীনা লোকবলকে ভিসা দিয়ে বাংলাদেশে আসার সুযোগ করে দিতে। তারা আসলেও ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর কাজে সুযোগ পাবে। তিনি বলেন, আমি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিসিসি) তাদের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ১০ জন চীনা প্রকৌশলীর জন্য ভিসা দেয়ার অনুরোধ করেছে। এ বিষয়ে ডিপিডিসি বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি দিয়েছে। ডিপিডিসি অবশ্য বলেছে, যে ১০ জন বাংলাদেশে আসার অপেক্ষায় আছেন তাদের কেউ উহান শহর বা হুবেই প্রদেশ থেকে আসছে না। প্রত্যেকে চীন সরকারের প্রদত্ত বৈধ মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট গ্রহণ করেই বাংলাদেশে আসবে। বাংলাদেশে আসার আগে প্রত্যেককে চীনে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। বাংলাদেশে আসার পর কাজে যোগদানের পূর্বে প্রত্যেককে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রেখার পরামর্শ দিয়েছে ডিপিডিসি। বিআর পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড মিরসরাইয়ে তাদের ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ১৭ জন বিদেশি কর্মীকে বিজনেস ভিসা দিয়ে বাংলাদেশে আসার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের অধিকাংশ কোম্পানিতেই চীনা লোকবল সম্পৃক্ত। করোনাভাইরাসের কারণে চীনাদের ভিসা বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ। কোম্পানির কাজ এগিয়ে নিতে সব কোম্পানিই চাইছে চীনা লোকবলকে ভিসা দিয়ে বাংলাদেশে আসার সুযোগ করে দিতে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, বিভিন্ন কোম্পানি চাইছে তাদের প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে চীনা লোকবলকে ভিসা দিয়ে দেশে আনতে। কিন্তু বাস্তবতা হলো এখনও এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় হয়নি। আমরা আরও দেখব। পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ সচিব ড. সুলতান আহমেদ বলেন, বিদ্যুতের একাধিক প্রকল্পে চীনাদের সর্ম্পৃক্ত আছে। করোনাভাইরাসের কারণে কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে। তবে আশার কথা হলো চীনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচেছ। আশা করছি দুই মাসের মধ্যে সংকট কেটে যাবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।