কলাপাড়ায় ১৩২০ মে.ও. কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র : ২০২২ এ উৎপাদনে আসবে

image

বাংলাদেশ এবং চায়নার যৌথ উদ্যোগে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় নির্মিতব্য ১৩২০ মেগাওয়াট (মে.ও.) কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০২২ সালে উৎপাদনে আসবে। আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ চলছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির জন্য প্রতিদিন প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন কয়লা প্রয়োজন হবে, যা ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কয়লা আমদানি করা হবে।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল) এবং চায়নার নরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার লিমিটেডের সমন্বয়ে গঠিত আরপিসিএল-নরিনকো ইন্টা. পাওয়ার লি. (আরএনপিএল) বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা, ধানখালী ও নিশানবাড়িয়া মৌজায় ৯১৫ একর ভূমি অধিগ্রহণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে ১৮৪ একর জমি বুঝিয়ে দিয়েছে। আরও ১০০ একর জমি বুঝিয়ে দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

আরপিসিএল-নরিনকো ইন্টারন্যাশনার পাওয়ার লিমিটেড (আরএনপিএল)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইকবাল করীম নতুন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের চলমান উন্নয়ন কর্মকা- নিয়ে গত শুক্রবার (৫ অক্টোবর) কলাপাড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, প্রকল্প এলাকার উন্নয়নের জন্য এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রির আয় থেকে তিন পয়সা করে রাখা হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কোন ছাই বা অ্যাশ পরিবেশের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। কেন্দ্রটিতে ২৭৫ মিটার উঁচু চিমনি ও অ্যাশপন্ড থাকবে। যেখানে ৯৯ ভাগ ফ্লাইএ্যাশ বয়লার টিউবের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তার ছাই শোধন হওয়ার পর একটা নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা হবে। এ ছাই সিমেন্ট কারখানার সিমেন্ট তৈরির জন্য ব্যবহার হবে।

আরএনপিএল ও আরইবি’র প্রেস কনসালটেন্ট তালুকদার রুমী মতবিনিময় সভায় বলেন, পরিবেশ রক্ষায় বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ব্যবহার করা হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। মতবিনিময় সভায় আরএনপিএল এর উপ-ব্যবস্থাপক মো. খায়রুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

আরপিসিএল সূত্র জানায়, ভূমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২৫ একর জমিতে আধুনিক গ্রাম তৈরি করা হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পাঁচ কক্ষের বাড়ি নির্মাণ করা হবে। ৩৫০ জন ক্ষতিগ্রস্তের প্রত্যেককে একটি করে বাড়ি দেয়া হবে। এর সঙ্গে থাকবে বারান্দা ও রান্না ঘর। প্রত্যেকটি বাড়ি নির্মাণে ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে। আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসের মধ্যে বাড়িগুলো হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া, এ প্রকল্পে কমিউিনিটি সেন্টার, মসজিদ, স্কুল, দোকানপাট ও খেলার মাঠ থাকবে। চলাচলের জন্য ৩০ ফুট এবং ১২ ফুট প্রশস্ত সড়ক তৈরি করে দেয়া হবে।