কাঙ্খিত মাত্রায় নৈতিক মূল্যবোধ বিকশিত হচ্ছেনা পরিবার থেকে হচ্ছেনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেও

image

অপ্রিয় হলেও সত্য সমাজের একটি অংশ ভোগবাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এতে পারিবারিক বন্ধন ধীরে ধীরে শিথিল হচ্ছে। পরিবার থেকে নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ কাঙ্খিত মাত্রায় প্রতিভাত হচ্ছে না। শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কোর্সের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম ।

দুদক কমিশনার বলেন, পরিবারের পরেই মহান শিক্ষক তথা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা। এখানেও মানসম্মত শিক্ষা এবং উত্তম চর্চার বিকাশে প্রথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের যেভাবে আত্মনিয়োগ করার কথা। কিন্তু কতিপয় শিক্ষক সেভাবে দায়িত্বপালন করছেন না। তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সকলের অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়া জরুরি। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলসহ বহুমাত্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, তেমনি সংসদও বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করছে। এসবের মাধ্যমেই দুদক, সরকার, এনজিও, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমসহ সকলের সমন্বিত ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

দুদক কমিশনার বলেন এ পর্যন্ত দুদক ১৩০ টিরও অধিক গণশুনানি করেছে । আমি তৃণমূল পর্যায়ে অধিকাংশ গণশুনানিতে উপস্থিত থেকেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে শতাধিক বিদ্যালয় ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। বিদ্যালয়ে যেয়ে দেখেছি , শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে কিন্তু কতিপয় সম্মানিত শ্রেণি শিক্ষক আসেননি। তিনি হয়তো কোচিং বা অন্য কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। বিষয়গুলো স্থানীয় শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। ছাত্ররা বলেছে শিক্ষকগণ কোচিং নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এই কোচিং বাণিজ্য নিয়ে কমিশন থেকে কিছু ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, একদিন এক হাসপাতালে গিয়ে জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসকের চেয়ারে একজন কম্পাউন্ডারকে পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক হাসপাতালে আসেননি, কম্পাউন্ডার চিকিৎসক সেজে চিকিৎসকের চেয়ারে বসে আছেন। প্রথমে আমিও বুঝতে পারিনি। পরে কথা-বার্তা কিছু বলার পরে বুঝতে পারলাম উনি চিকিৎসক নন। বিষয়টি সিভিল সার্জনকে জানিয়েছি, তিনি হয়তো প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নিয়েছেন।

তিনি বলেন, গণশুনানিতে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ জিআর, টিআর, টাকিখা ও কাবিখার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ করে। অনেকেই বলেন এগুলোর সঠিক ব্যবহার হলে গ্রামের চেয়ারা দৃশ্যমান পরিবর্তন হতো। ওভার-ইনভয়েসিং আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং ও রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে ব্যবসায়ী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড , বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুদক-কে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করা সমীচীন। কারণ কমিশনে এসংক্রান্ত্র অনেক অভিযোগ আসে। এ বিষয়ে বেশকিছু মামলাও করা হয়েছে। এ জাতীয় ঘটনা ঘটার আগেই প্রতিরোধের জন্যই সমন্বয়ের প্রয়োজন।

কমিশনার বলেন, মাঠ পর্যায়ে এসিল্যান্ড অফিস, ভূমি অধিগ্রহণ অফিস ও সেটেলমেন্ট অফিসসমূহের প্রতি মানুষের এক সময় আস্থা ছিল। এখন অফিসগুলোর প্রতি তৃণমূলের মানুষের ব্যপক হতাশ। এমনকি গণশুনানিতে এসব অফিসের কর্মকর্তারা অভিযোগকারীদের সাথে কর্কশ ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের নিজস্ব শুদ্ধাচার নিয়ে যে কেউ প্রশ্ন করতেই পারেন। তবে আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে পারি বিগত সাড়ে তিন বছরে এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নৈতিকমানের প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে। কমিশন প্রতিটি নথি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে, নথি দেখেই নৈতিকতার মানদণ্ড বুঝা যায়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম বলেন, শুদ্ধাচার বিকাশে সরকার তথ্য অধিকার আইন, জণ-স্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা) আইন, মানিলন্ডারিং আইনসহ বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেছে , পাশাপাশি সরকারি পরিষেবা তৃণমূল জনগণের নিকট পৌঁছে দেওয়ার জন্য তথ্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে।