ক্ষমতার সঙ্গে যারা যুক্ত তারাই আইন ভাঙছেন

image

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো.মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, আমাদের দেশের মহাসড়কগুলো আন্তর্জাতিক মানের নয়। এসব সড়কে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চালানোর সুযোগ-সুবিধা থাকলেও চালানো হচ্ছে ১০০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার গতিবেগে। এর কারণে দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও ভয়াবহতা বাড়ছে। ৯ মে বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে পঞ্চম বিশ্ব নিরাপদ সড়ক সপ্তাহ উপলক্ষে ‘নিরাপদ সড়ক : আমাদের দায়িত্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হলো আইন না মানার প্রবণতা। ক্ষমতার সঙ্গে যারা যুক্ত তারাই আইন ভাঙছেন। ফলে দুর্ঘটনা ও বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। এর থেকে উত্তোরণের জন্য নাগরিকদের মধ্যে আইন মানার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি।

মোজাম্মেল হক বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে- প্রতিবছর সারা বিশ্বে ১.২ মিলিয়ন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। আহত হয় ২০ থেকে ৫০ মিলিয়ন মানুষ। সংস্থাটির হিসাব মতে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে হতাহতের সংখ্যা (প্রতি ১ লাখ মানুষে যথাক্রমে ২১.৫ ও ১৯.৫ জন ) উচ্চ আয়ের দেশগুলোর (১০.৩ জন) তুলনায় অনেক বেশি। গত চার থেকে পাঁচ দশক ধরে উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পরিমাণ হ্রাস পেলেও এসব দেশে এখনও সড়ক দুর্ঘটনাকে মৃত্যু, আঘাত ও পঙ্গুত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্তের ৪৮ শতাংশ পথচারী, সাইক্লিস্ট ও মোটরসাইক্লিস্ট। যাদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহারকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে এদের মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি। সভায় বাজেটে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে একটি অর্থনৈতিক কোড চালুসহ সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালক প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা সৃষ্টি, আক্রান্তদের উদ্ধার, চিকিৎসা সহায়তা ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা তথা ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানানো হয়। এসব খরচ মেটাতে বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলেন আলোচকরা।

সভায় সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে জাতিসংঘের অণুস্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য চালক প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা সৃষ্টি, ডিজিটাল পদ্ধতিতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, বিআরটিএ’র সক্ষমতা ও জনবল বৃদ্ধি, লাইসেন্স প্রদানের পদ্ধতি আধুনিকায়ন, ট্রমা সেন্টার চালু, পরিবহনখাতে চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত করাসহ ১৫ দফা প্রস্তাবনা দেয়া হয়। যাত্রীকল্যাণ সমিতির আয়োজনে আলোচনা সভায় সংগঠনটির সহ-সভাপতি তাওহিদুল হক লিটন, বিআরটিএ’র সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমানসহ বিভিন্ন সংস্থার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।