চলে গেলেন সুর সম্রাট আলাউদ্দিন আলী

image

চিরবিদায় নিলেন সংগীত জগতের কিংবদন্তি, আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী গীতিকার ও সুরকার আলাউদ্দিন আলী (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ রোববার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর মহাখালীর আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। কিংবদন্তির মৃত্যুর পর তার কন্যা আলিফ আলাউদ্দিন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সবার কাছে বাবার জন্য দোয়া চেয়েছেন মেয়ে আলিফ আলাউদ্দিন। তিনি জানান, শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে শনিবার ভোরে হাসপাতালে তার বাবাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে করোনা পরিক্ষা করা হলে তা নেগেটিভ আসে। কিন্তু তার পালস ঠিক মতো পাওয়া যাচ্ছিল না, ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছিলো। চিকিৎসকরা তেমন কোনও আশা দিতে পারেনি।

অনেক দিন ধরেই নানা অসুখে ভোগার কারণে ২০১৫ সালের ৩ জুলাই তাকে ব্যাংকক নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা করোনো হলে তার ফুসফুসে একটি টিউমার ধরা পড়ে। এরপর তার অন্যান্য শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি ক্যান্সারের চিকিৎসাও চলছিল। এর আগে বেশ কয়েক দফায় তাকে আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

গত শনিবার (৮ অগাস্ট) ভোর পৌনে ৫টায় হঠাৎ করে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে মহাখালীর আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখে লাইফ সাপোর্টে রাখার পরামর্শ দেন। এরআগে দেশ-বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে খানিকটা সুস্থ ছিলেন আলাউদ্দিন আলী।

এই কিংবদন্তি ১৯৫২ সালের ২৪ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ওস্তাদ জাদব আলী। মায়ের নাম জোহরা খাতুন। বাংলা চলচ্চিত্রে অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান তৈরি করেছেন এই গীতিকার। তিনি একই সঙ্গে সুরকার, সংগীত পরিচালক, বেহালাবাদক ও গীতিকার ছিলেন।

দেড় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে ঢাকার মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে চলে আসেন আলাউদ্দিন আলী। তিন ভাই ও দুই বোনের সঙ্গে সেই কলোনিতেই বড় হন এই গুণী শিল্পী। সংগীতে প্রথম হাতেখড়ি ছোট চাচা সাদেক আলীর কাছে। পরে ১৯৬৮ সালে বাদ্যযন্ত্র শিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন। শুরুটা শহীদ আলতাফ মাহমুদের সহযোগী হিসেবে, পরে প্রখ্যাত সুরকার আনোয়ার পারভেজের সঙ্গে কাজ করেন দীর্ঘদিন।

১৯৭৫ সাল থেকে সংগীত পরিচালনা করে বেশ প্রশংসিত হন আলাউদ্দিন আলী। গোলাপী এখন ট্রেনে, সুন্দরী, কসাই এবং যোগাযোগ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া ১৯৮৫ সালে তিনি শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। তিনি খ্যাতিমান পরিচালক গৌতম ঘোষ পরিচালিত ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন। তার সুর করা গানের সংখ্যা ৫ হাজারেরও বেশি।