দখল হচ্ছে মেঘনা নদী

image

মেঘনার তীরে দখল করা কিছু স্থাপনা-সংবাদ

নদী ভরাট করে সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, কলকারখানা, ডকইয়ার্ড ও বাড়ি নির্মাণের কারণে দখল হয়ে যাচ্ছে মেঘনা নদী। মেঘনা নদীর কোন সীমানা পিলার না থাকায় বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান নিজেদের ইচ্ছামতো নদী দখল করে কলকারখানা তৈরি করছে। দেড়মাস আগে মেঘনা লঞ্চঘাট এলাকায় দোকানপাটসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও কয়েক দিন যেতে না যেতেই আবার আগের মতো অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগের মতো মেঘনা নদীও হারানোর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

সরেজমিন মেঘনা নদীর দুই পাড় ঘুরে দেখা গেছে মুন্সিগঞ্জে গজারিয়ার পুরাতন লঞ্চঘাট, মেঘনা লঞ্চঘাট, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ পাঁচআনী খেয়াঘাট ও পিরোজপুর মাজারঘাটসহ নদীর পাড়ে প্রায় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা তীর ভরাট করে তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া সোনারগাঁয়ের মেঘনা লঞ্চঘাট, ঝাউচর, প্রতাপের চর ও কাদিরগঞ্জ এলাকায় মেঘনা গ্রুপ নদী তীরের অনেক স্থান দখল করে নিয়েছে। এখনও দখল কার্যক্রম চলমান। উপজেলার গঙ্গানগর এলাকায়ও নদী দখল করেছে মেঘনা গ্রুপ। আষাড়িয়ার চর এলাকায় মেঘনা নদী ও মেনী খালী নদীর প্রায় ২ কিলোমিটার নদী ও নদী তীরবর্তী জমি বালু দিয়ে ভরাট করে দখলে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এছাড়া মেঘনার তীরে গড়ে ওঠা বসুন্ধরা গ্রুপ, আমান গ্রুপ, আল মোস্তফা গ্রুপ, হোলসিম সিমেন্ট, ইউনিক গ্রুপ, মোনায়েম গ্রুপ, মদিনা সিমেন্টসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে নদীর তীর ভরাট করার অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, ১৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ মেঘনা নদীটি কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, মুন্সীগঞ্জ ও চাঁদপুর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এরমধ্যে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া মুখ ও থেকে বেঙ্গল সিমেন্ট কারখানা পর্যন্ত মেঘনা নদীর অংশটি নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের আওতায়। তবে এই অংশের নদীর তীরে বেশিরভাগ এলাকা দখল করে গড়ে ওঠে বিভিন্ন সিমেন্ট কারখানা, ডকইয়ার্ড, পাওয়ারহাউজ, অবৈধ বালু ও তেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তবে মেঘনা নদীর তীরে কতগুলো অবৈধ স্থাপনা তৈরি হয়েছে তার কোন তালিকা নেই বিআইডব্লিউটিএ’র কাছে। এছাড়া নদী তীরে কোন সীমানা পিলার স্থাপন করা হয় নি। তাই বিভিন্ন সময় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও তা স্থায়ী হয় না। কিছুদিন পর তা আবার দখল হয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ বন্দরের যুগ্ম-পরিচালক মাসুদ কামাল সংবাদকে বলেন, মেঘনা নদীর দুই তীরে এর আগে চারদিন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে ওইসব এলাকার লোকজন একটু দুষ্ট প্রকৃতির। তাই উচ্ছেদ করা হলে তা আবার অবৈধভাবে দখল করে নেয়। আমাদের লোকবল কম থাকায় নিয়মিত মনিটর করা হয় না। এছাড়া যতদিন পর্যন্ত নদীর দুই তীরে ওয়াকওয়ে নির্মাণ না করা হবে ততদিন এভাবে অবৈধ দখল চলতেই থাকবে, আমরা উচ্ছেদ করব ওরা আবার অবৈধভাবে দখল করবে।

সরেজমিন মেঘনা নদীর দুই পাড় ঘুরে দেখা গেছে, মেঘনা সেতুর দু’পাশে নদী দখল করে তৈরি করা হয়েছে একাধিক স্থাপনা। এরমধ্যে সেতুর পশ্চিম পাড়ে নদীর অনেক অংশ জুড়ে গড়ে উঠেছে ফ্রেশ সিমেন্ট কারখানা ও হোলসিম ও আনন্দ শিপইয়ার্ডসহ বড় বড় প্রতিষ্ঠান। নদী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও এ সব প্রতিষ্ঠানের কোন অংশ কখনও উচ্ছেদ করা হয় না বলে স্থানীয়রা জানায়। এ বিষয়ে মেঘনা লঞ্চ ঘাটে আমির হোসেন নামে এক দোকানদার সংবাদকে বলেন, ‘প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকা করে এই দোকানের মালিককে ভাড়া দেয়া হয়। আমি ২০ বছর যাবত এই দোকান চালাই। মেঘনাঘাটে যত দোকান আছে সব অবৈধ, সরকারি জায়গা দখল করে তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে দোকান উচ্ছেদ করা হয়। পরে আবার তা বসানো হয়। তবে এই সিমেন্ট কোম্পানিসহ বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কোন অংশ কখনও উচ্ছেদ করা হয় না। কারণ তাদের হাত অনেক বড়, সরকার তাদের কাছে অসহায়। এছাড়া সোনারগাঁ পাঁচানী এলাকায় নদী ভরাট করে ওরিয়ন গ্রুপ পাওয়ার হাউজ তৈরি হচ্ছে। এখানে সরকার দেখেও না দেখার ভান করছে।

মেঘনা সেতুর পূর্বপাড়ে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া পুরাতন লঞ্চঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীরে নতুন করে ঘরবাড়ি তৈরি করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগে বিআইডব্লিউটিএ অভিযান চালিয়ে এই এলাকায় কিছু স্থাপনা ভেঙে ফেলে। কিন্তু এখন সেগুলো আবার তৈরি করা হচ্ছে। এই এলাকায় মেসার্স ফাহিম এন্টারপ্রাইজ নামে বালি, পাথর ও ইট বিক্রয়ের একটি সাইনবোর্ড দেখা যায়।

মেঘনা নদীর পশ্চিমপাড় দিয়ে একটু পিছনের দিকে গিয়ে দেখা যায়, নদী তীরে বিশাল এলাকায় জুড়ে চলছে নিমার্ণজজ্ঞ। জিজ্ঞেস করা হলে এক নির্মাণ শ্রমিকরা বলেন, ‘এখানে ওরিয়ন গ্রুপের বিদ্যুৎ হাউজের প্ল্যান করা হচ্ছে। আগামী ৬-৭ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’ সেখানে ওরিয়ন পাওয়ার, সোনারগাঁ লিমিটেড নামের একটি সাইনবোর্ড দেখা গেছে। এ বিষয়ে নয়ন নামের সোনারগাঁ পাঁচআনী এলাকার বাসিন্দা সংবাদকে বলেন, ‘ওরিয়ন গ্রুপ এই বিদ্যুৎ প্লান তৈরির আগে কিছু জমি ক্রয় করে। আর বেশিরভাগ জমি স্থানীয়দের কাজ থেকে জোড়পূর্বক ও নদী দখল করে নিয়েছে। এলাকাবাসী তেমন প্রতিবাদ করতে পারে না। কারণ স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের হাত করে নিয়েছে কোম্পানির লোকজন। এছাড়া বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা দেখেও না দেখার ভান করে চলে যায়।’

নদীর তীর ঘেষে গড়ে ওঠা কল-কারখানার বর্জ্যরে কারণে নদী দূষণে মাছ হারিয়ে যাচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর এম মাহবুব উল ইসলাম সংবাদকে বলেন, মেঘনা নদীর সীমানা পিলার না থাকার কারণে অনেকে ভুয়া কাগজ বানিয়ে নদীর জায়গা নিজেদের করে নিচ্ছে। যত বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান হোক না কেন সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হবে। নদীকে রক্ষার জন্য সরকার কঠোর অবস্থানে আছে। নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দিতে হবে এটা আমাদের অঙ্গিকার।

সংসদে শামিম কবিরসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব

image

জিয়া-এরশাদের শাসন আমল ছিল অবৈধ : প্রধানমন্ত্রী

image

নানা আয়োজনে শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেছে বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ

image

খেলাধুলায় সম্পৃক্ততার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে দূরে রাখার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

image

জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রথম অধিনায়ক শামিম কবিরের চেহলাম অনুষ্ঠিত

image

৫ম বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্ব ৬ সেপ্টেম্বর

image

দীর্ঘ ৯ বছর বন্ধ থাকার পর প্রিপেইড মিটারে আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ চালু হচ্ছে

image

অভিন্ন টেকসই সমুদ্র অর্থনৈতিক বেষ্টনী গড়ে তোলার আহ্বান : আইওরা সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

image

বাসযোগ্য শহর হিসেবে ঢাকা একধাপ এগিয়েছে

image