নৌ দুর্ঘটনা পরিকল্পিত হত্যাকান্ড প্রমাণিত হলে ৩০২ ধারায় ব্যাবস্থা নেয়া হবে : নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী

image

নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী নৌ দুর্ঘটনাটি এখনো হত্যাকান্ড বলেই মনে হয়। তবে, ঘাতক লঞ্চটির ফিটনেসে ঘাটতি নেই। পুলিশী তদন্তে এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড প্রমাণিত হলে, ৩০২ ধারায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মামলার তদন্তের স্বার্থে দুর্ঘটনার কারণ জানানো যাচ্ছে না। মঙ্গলবার সচিবালয়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

খালিদ মাহমুদ বলেন, প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে বিচার কাজ শুরু হবে। মূল তদন্ত যেটা হচ্ছে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সেই তদন্তটা যেন কোনোভাবে বিঘিœত না হয় সেজন্য এটা জনসমক্ষে প্রকাশ করছি না। আমরা একটা শৃঙ্খলার মধ্যে আনার চেষ্টা করছি। প্রতিবেদনে ২০টি সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশগুলো যাচাই বাছাই করে দেখা হচ্ছে। যেগুলো সম্ভব দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। যেগুলো বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ সেগুলো সময় নিয়েই বাস্তবায়ন করা হবে। প্রয়োজনে এ নিয়ে সরকারের উচ্চ মহলের পরামর্শও গ্রহণ করা হবে।

গত ২৯ জুন লঞ্চ দুর্ঘটনার দিনই সাত সদস্যের উচ্চপর্যায়ের ওই তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। তদন্ত কমিটিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (উন্নয়ন) রফিকুল ইসলাম খানকে আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিএ) পরিচালক (নৌ-নিরাপত্তা) রফিকুল ইসলামকে সদস্য সচিব করা হয়। কমিটিকে সাতদিনের মধ্যে দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি/সংস্থাকে শনাক্তকরণ এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় উল্লেখ করে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় ময়ূর-২ এর মাস্টার, চালক ও সুকানিসহ অন্যদের দায়িত্বে অবহেলাকেই মূলত দায়ী বলে মনে করা হয়। এছাড়া ডুবে যাওয়া ভাঙাচোরা ছোট আকারের লঞ্চ মর্নিং বার্ডের চলাচলে অনুমোদনের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই অনুমোদনের জন্য বিআইডব্লিউটিএ’র সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতিকেও দায়ী করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সকাল নয়টার দিকে মুন্সিগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা দুই তলা মর্নিং বার্ড লঞ্চটি সদরঘাট কাঠপট্টি ঘাটে ভেড়ানোর আগ মুহূর্তে চাঁদপুরগামী ময়ূর-২ লঞ্চটি ধাক্কা দেয়। এতে সঙ্গে সঙ্গে তুলনামূলক ছোট মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়। তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযানে নামে ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনীর সদস্যরা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা টানা অভিযানে ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।