পদ্মা সেতুর ব্যয় তিন দফায় বেড়ে ৩০ হাজার কোটি টাকা

image

ঋণের টাকায় নির্মাণ হচ্ছে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ স্বপ্নে পদ্মা সেতু। তবে বিদেশি নয়, স্বয়ং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঋণের টাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প। ১ শতাংশ হারে সুদসহ ৩৫ বছরে এই ঋণ পরিশোধ করবে সেতু কর্তৃপক্ষ। বর্তমানের প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। ২০০৭ সালে রেলপথ ছাড়া একনেকে প্রকল্প অনুমোদনের সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ টাকা। ২০১১ সালে রেলপথ যুক্ত করে প্রথম দফায় প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি করা দ্বিগুণের বেশি। তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০ হাজার ৫০৭ কোটি ২০ টাকা। দ্বিতীয় দফায় ২০১৬ সালে ৮ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা বাড়িয়ে ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। তৃতীয় দফায় ২০১৮ সালে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। চতুর্থ দফায় আরও ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

এছাড়া প্রকল্পের সময় ২১ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১৪ পিয়ারের পাইলিং সমস্যা, নতুন ডিজাইনে চূড়ান্ত করতে অনেক সময় চলে যায়। তাই নির্মাণ সময় ১ বছর বৃদ্ধি ২০১৯ সালে ৩০ ডিসেম্বরে নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে ১ বছর ৬ মাস মেয়াদ বৃদ্ধির সুপারিশ করে ডিপিপি সংশোধনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। সে হিসেবে ২০২১ সালের জুনে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

সেতু বিভাগের সূত্র জানায়, ২০১২ সালে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঋণের টাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প। এই সেতু নির্মাণ করতে যত টাকা প্রয়োজন তা অর্থ মন্ত্রণালয় ঋণ হিসেবে সেতু কর্তৃপক্ষকে দেয়া হবে। তা প্রকল্পে শেষে ৩৫ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এ পর্যন্ত পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপান সরকারের ঋণ মওকুফ ফান্ডের অর্থ রয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে না। ফলে সেতু বিভাগকে আসল হিসেবে ২৯ হাজার ৯০০ কোটি টাকা সরকারকে ফেরত দিতে হবে। এর সঙ্গে বাড়তি ১ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। গত ২৯ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সেতু বিভাগের এ নিয়ে চুক্তি হয়। এই চুক্তিতে পদ্মা সেতুতে চলাচলকারী যানবাহনের টোলের হার কী হবে, কত বছরে টোল আদায় হবে, টোলের টাকা কীভাবে পরিশোধ করতে হবে তা উল্লেখ করা হয়। ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হবে। তবে সর্বশেষ পদ্মা সেতুর ব্যয় বিশ্লেষণ করে টোলের হার নির্ধারণ করা হবে। পদ্মা সেতুতে কি পরিমান টোল ধরা হবে তা এখনও ঠিক করা হয় নি। এছাড়া পদ্মা সেতু প্রকল্পের (ডিপিপি) সংশোধনের ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রয়োজনে যত খুশি ডিপিপি সংশোধন করা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এ বিষয়ে সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন সংবাদকে বলেন, পদ্মা সেতুর প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ভালো। মূল সেতু থেকে নদী শাসন কিছুটা পিছিয়ে আছে। আশা করছি নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। তাই প্রকল্পের মেয়াদ ২০২১ সালে জুন পর্যন্ত বৃদ্ধির জন্য ডিপিপি সংশোধনের পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের সামান্য কিছু বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। সিডি ভ্যাট ও পরামর্শক সেবাখাতেও প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয় বাড়তে পারে।

প্রকল্প সূত্র জানায়, প্রকল্পের ইতোমধ্যে বেশ কিছু খাতে ব্যয় বেড়ে গেছে। আরও নতুন ব্যয়ের খাত যুক্ত হয়েছে। বাজেটে ঠিকাদারের ভ্যাট ও আয়কর ৪ শতাংশ বেড়েছে। বিদেশি পরামর্শকদের ভ্যাট ও কর বেড়েছে ১০ শতাংশ। দেশীয় পরামর্শকদের ভ্যাট ও কর বেড়েছে ২ শতাংশ। এই তিন খাতে ভ্যাট ও কর বাবদ ব্যয় বৃদ্ধির পরিমাণ ৬৮৬ কোটি টাকা। চুক্তির অতিরিক্ত কাজ করার দাবিতে ইতোমধ্যে মূল সেতু ও নদীশাসনের ঠিকাদার প্রায় ১৬০ কোটি টাকার বাড়তি বিল দাবি করেছে। সেটা আরও বাড়তে পারে। এছাড়া নদীর তলদেশের মাটির জটিলতার কারণে মাঝনদীতে ১৪টি পিয়ার নিচে একটি করে পাইল বেশি বসানো হয়েছে। যুক্তরাজ্যের একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করে পিয়ারে (খুঁটি) সমস্যার সমাধান এবং সেই অনুযায়ী নকশা সংশোধন করা হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও বাড়তি পাইলের খরচ আগে ধরা ছিল না। এসব বিবেচনা করে প্রকল্পের ব্যয় কিছু বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, প্রকল্পর ব্যয় ও সময় বৃদ্ধি বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশন বিস্তারিত বলতে পারবে। কারণ আমার জানামতে ডিপিপি সংশোধনের জন্য কমিশনে পাঠানো হয়েছে। সেখানে কি সিদ্ধান্ত হয় সেটা আমি বলতে পারব না। তবে প্রকল্পের অগ্রগতি ভালো। এ পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭৫ শতাংশ। এর মধ্যে মূল সেতুর অগ্রগতি ৮৫ দশমিক ৬ শতাংশ, নদীর সামনের কাজ শেষ হয়েছে ৬৪ শতাংশ। এছাড়া সংযোগ সড়ক ও অন্যান্য অংশের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। সেতুটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঋণের টাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সেতু বিভাগকে ঋণ দিয়েছে। প্রকল্পের নির্মাণ শেষে সেতু বিভাগ কর্তৃপক্ষ এই টাকা অর্থ মন্ত্রণালয়কে পরিশোধ করবে।

প্রকল্প সূত্র জানায়, পদ্মা সেতুর কাজের সার্বিক অগ্রগতি ৭৫ শতাংশ। এর মধ্যে মূল সেতুর কাজ হয়েছে ৮৫ শতাংশ। নদীশাসনের কাজ এগিয়েছে ৬৪ শতাংশ। মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে চীনের চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। আর চীনেরই সিনো হাইড্রো করপোরেশন করছে নদী শাসনের কাজ। তাদের সঙ্গে চুক্তি হয় ২০১৪ সালের শেষের দিকে। চার বছরের মধ্যে কাজ শেষ করতে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী, গত বছর ডিসেম্বরেই সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। পরে সময় এক বছর বাড়ানো হয়। চায়না মেজর ব্রিজ গত বছরের শেষের দিকে ২০২১ সালের জুনে মূল সেতুর কাজ শেষ করার কর্মপরিকল্পনা দেয়। সেই অনুযায়ী প্রকল্পের সময় ১ বছর ৬ মাস বৃদ্ধি সুপারিশ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মূল সেতুতে ১৫তম স্প্যান (ইস্পাতের কাঠামো) বসানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ট্রেন চলাচল করবে। এর ওপর নির্মাণ করা হবে চার লেনের সড়কপথ। ১৫টি স্প্যান বসানোর মাধ্যমে সোয়া দুই কিলোমিটার অংশ দৃশ্যমান হয়েছে। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুতে ৪২ পিয়ারে (খুঁটি) ৪১টি স্প্যান বসানো হবে। পদ্মা সেতু দ্বিতলবিশিষ্ট। নিচতলায় অর্থাৎ স্টিলের স্প্যানের ভেতর দিয়ে রেল চলবে। মিটারগেজ ও ব্রডগেজ দুই ধরনের ট্রেনই চলতে পারবে। আর ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন। এজন্য স্টিলের কাঠামোর ওপরে কংক্রিটের স্ল্যাব বসাতে হবে। ওপরের এই অংশ চওড়ায় ২২ মিটার, চার লেনের সড়কের সমান। এছাড়া সেতু দিয়ে ৭৬০ মিলিমিটার ব্যাসের গ্যাসের পাইপলাইন বসানোর কথা রয়েছে। ১৫০ মিলিমিটার ব্যসের ফাইবার অপটিক ও টেলিফোন লাইনের পাইপের ব্যবস্থা রয়েছে। গত ২২ অক্টোবর পদ্মা সেতুর ২৩ ও ২৪ নং পেয়ারে বসানো হয়েছে ১৫তম স্প্যান। এর ফলে সোয়া ২ কিলোমিটার বা ২২৫০ মিটার অংশ দৃশ্যমান হয়েছে। এর আগে গত ২৯ জুন মাওয়া প্রান্তের ১৫ ও ১৬ নাম্বার পেয়ারে ১৪তম স্প্যান বসানো হয়। চলতি মাসে ২২ ও ২৩ নাম্বার পেয়ারে ১৬ স্প্যানসহ দ্রুত সময়ের মধ্যে আরও ৫টি স্প্যান বসানো হবে। এ পর্যন্ত সেতুর ৪২টি পিয়ারের মধ্যে ৩২ পেয়ার সম্পূর্ণ হয়েছে। এছাড়া রেলওয়ে স্ল্যাব ও রোড স্ল্যাব বসানোর কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানায়।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে : মৎস ও প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

image

ইইডি’র ত্রিমুখী দ্বন্ধে বাধাঁগ্রস্থ ২ ডজন প্রকল্প

image

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তুরস্ক বাংলাদেশের পাশে থাকবে : স্পিকারকে তুরস্কের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত

image

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এখন দিনে সরকারি আর রাতে বেসরকারি চরিত্র ধারণ করেছে

image

উগ্রবাদীরা যাতে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান স্পিকারের

image

বিজয় দিবসের পর থেকে ‘বাংলাদেশ সচিবালয়’ ঘিরে ‘নিরব এলাকায়’ পরিণত হচ্ছে

image

বিজয় দিবসের পর থেকে ‘বাংলাদেশ সচিবালয়’ এলাকা ‘নিরব এলাকায়’ পরিণত হচ্ছে

image

এনার্জি বাংলার নতুন কলেবরে অনলাইন পোর্টাল এবং বের করা হচ্ছে প্রিন্ট ভার্সন

image

ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগের সমন্বয় দরকার : প্রধানমন্ত্রী

image