পাঁচশ আইসিইউ ও অ্যানেসথেসিয়া ডাক্তার নিয়োগ দেয়া অপরিহার্য বাকী বিল্লাহ

বাংলাদেশ ক্রিটিক্যাল কেয়ার সোসাইটির সভাপতি প্রফেসর ডা. ইউএইচ শাহেরা খাতুন বেলা বলেন, আইসিইউতে যেখানে ডাক্তার দরকার ৫০ জন। সেখানে করোনা রোগীর চিকিৎসায় ২ জন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ছাত্র দিয়ে আইসিইউ ও অ্যানেসথেসিয়া, অ্যানালজেসিয়া অ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগ চালানো হচ্ছে। আর এখন মেডিকেল কলেজগুলোর পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ছাত্র ও আনারি ডাক্তার দিয়ে আইসিইউ চলছে। একজন আইসিইউ বিশেষজ্ঞ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বেশ কিছু অ্যানেসথেসিয়া ডাক্তার এখন আক্রান্ত। দেশে প্রথম যিনি আক্রান্ত তিনি অ্যানেসথেসিয়ার ডাক্তার। দেশে করোনা চিকিৎসা ১শ’ জনে ৫ জন রোগী আইসিইউ দরকার। ৮০ জন বাসায় থেকে চিকিৎসা নিয়ে ভালো হয়ে যায়। আর ২০ জন ভর্তি হয়। তার মধ্যে ৪ থেকে ৫ জন আইসিইউ সাপোর্ট লাগে। তারা নিজের শ্বাসপ্রশ্বাস অক্রিজেন ভেন্টিলেটার মাধ্যমে নেয়। তাদের লাইফ সাপোর্ট দরকার। এখন সারাদেশের করোনা রোগীদের জন্য আইসিইউ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দরকার। দেশে এখনও বেকার আছে আইসিইউ ও অ্যানেসথেসিয়া ডাক্তার। যতটুকু সম্ভব জরুরি ভিত্তিতে ৫শ’ আইসিইউ ও অ্যানেসথেসিয়া ডাক্তার নিয়োগ দেয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশ অ্যানেসথেসিয়া সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বলেন, অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ সংকট নিরসনে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। নতুন করে যে সব ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হয়েছে তার মধ্যে ২০ থেকে ২২ জন ডাক্তার অ্যানেসথেসিয়ার। তাও নতুন। নতুন দিয়ে আইসিইউ চালানো যায় না। অপর দিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা করতে গিয়ে তাদের কমপক্ষে ২৬ থেকে ২৭ জন ডাক্তার করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। বর্তমানে দেশে যেভাবে রোগী বাড়ছে তা আগের রোগীর চেয়ে শতকরা ১৭ থেকে ১৮ ভাগ বেশি হবে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইসিইউ ডাক্তার নিয়োগ দেয়ার উপর জোর দেন। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কোরানা ভাইরাস তাড়াতাড়ি নির্মূল হবে না। এ জন্য এখন থেকে বড় ধরনের প্রস্তুতি দরকার। হাসপাতাল চিকিৎসা বিস্তার আরও বাড়ানোর উপর এ বিশেষজ্ঞ গুরুত্ব দেন। চিকিৎসা নিয়ে যেখানে জনবলের অভাব সেখানে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জনবল নিয়োগ দেয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে আইসিইউ বিশেষজ্ঞ সংকট মারাত্মক। সারাদেশে বিশেষজ্ঞ আছে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন। যার কারণে আপাতত অ্যানেসথেসিয়া, অ্যানালজেসিয়া অ্যান্ড ইনটেনটিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের ডাক্তার দিয়ে কোনমতে কাজ চালিয়ে নেয়ার চিন্তা ভাবনা চলছে। এছাড়াও বিভিন্ন হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট চালু করতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্সেরও দরকার। আইসিইউ চালাতে কমপক্ষে তিন শিফটে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স দরকার। নতুন করে তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এ জন্য সময় লাগবে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাক্তারের দরকার। এছাড়াও আইসিইউনিটে অক্্িরজেন সরবরাহ, এক্স-রে মেশিন, ইসিজি মেশিন, আলাদা মনিটরসহ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ দরকার। সেখানে সর্বক্ষণ ডাক্তার, স্টাফ, টেকনিশিয়ান সব সময় থাকতে হবে।

আইসিইউ বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপ, আমেরিকা, ইটালি ও জার্মানিসহ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে আইসিইউ বেশি থাকলে এখন মহামারীর সময় যে পরিমাণ আইসিইউ বেড দরকার তা পর্যাপ্ত নেই। এখন চিকিৎসা ক্ষেত্রে আইসিইউর চাহিদা বাড়ছে। সেই অনুপাতে আইসিইউ সংকট থাকায় বিশ্বজুড়ে সমস্যা হচ্ছে। আইসিইউ চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরি করতে সময় লাগে। সরকার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ তৈরিতে যে জনবল লাগবে এবং জনবলের উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়ার জন্য ৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।

সূত্র জানায়, সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে অ্যানেথেসিয়া চিকিৎসকের পদ আছে প্রায় ১২শ’। এর মধ্যে অনেকগুলো এখনও শূন্য রয়েছে। যার কারণে জনবল সংকট রয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে আলাদা আইসিইউ ইউনিট চালু করলে ৫শ’ বেডের জন্য ৩ জন করে নার্স পালাক্রমে ডিউটি করলেও কমপক্ষে ১৫শ’ নার্স দরকার। তাদের আবার প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করতে হবে। করোনাভাইরাসের রোগীর ডিউটি করলে তাদের আলাদাভাবে রাখতে হবে। ১৫ দিন উিউটি আর ১৫ দিন কোয়ারেন্টিনে রাখতে হবে। আইসিইউ বেডের জন্য পালাক্রমে ডিউটি করতে হলে কমপক্ষে ৭শ’ থেকে ৮শ’ ডাক্তার দরকার আছে। এ সব বিষয় নিয়ে নতুন করে দায়িত্ব দেয়া কমিটি কাজ করছে।

একজন বিশেষজ্ঞ জানান, বর্তমানে যে হারে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। এ হারে বাড়তে থাকলে অবস্থার আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন। তাই হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে এখন জনবল বাড়ানোসহ সব ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জাম বাড়িয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি থাকা দরকার।