পাটকল শ্রমিকদের বেতনের জন্য ৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দ

image

সম্প্রতি বন্ধ করে দেয়া রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করতে ৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এ টাকায় শ্রমিকদের জুন মাসের বেতন দেয়া হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় রোববার এই টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে জানানো হয়েছে, পরিচালন ঋণ বা অপারেশন লোন হিসেবে এ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বরাদ্দকৃত অর্থ ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বিজেএমসির মিলগুলোর জন্য বর্ণিত খাত ব্যতীত অন্য কোনো খাতে ব্যয় করা যাবে না। শ্রমিকদের ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট পেয়ি চেকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতে হবে।

আগামী ২০ বছরে (৫ বছরের গ্রস পিরিয়ডসহ) পাঁচ শতাংশ সুদে ষান্মাসিক কিস্তিতে বিজিএমসিকে এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এজন্য অর্থ বিভাগের সঙ্গে বিজেএমসিকে একটি ঋণ চুক্তি করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চিঠিতে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, বরাদ্দ দেওয়া অর্থ কেবলমাত্র শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি খাত ব্যতীত অন্য কোনো খাতে ব্যয় করা যাবে না। এই অর্থ ব্যয়ে সরকারের বিদ্যমান বিধি-বিধান অনুসরণ করতে হবে।

বিধি বহির্ভূতভাবে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন বলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পাটকল শ্রমীকদের নোটিস মেয়াদ অর্থাৎ, জুলাই ও আগস্ট মাসের ৬০ দিনের মজুরিও ওই দুই মাসে পরিশোধ করা হবে।

পিএফ, গ্র্যাচুইটি ও গোল্ডেন হ্যান্ডশেক সুবিধাসহ অবশিষ্ট সকল পাওনার ৫০ শতাংশ শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাবে এবং বাকী ৫০ শতাংশ শ্রমিকদের নিজ নিজ নামে সঞ্চয়পত্র আকারে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে পরিশোধ করা হবে।

গত ২৮ জুন এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী জানান, ধারাবাহিকভাবে লোকসানে থাকা দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ২৬টি পাটকলের ২৪ হাজার ৮৮৬ জন স্থায়ী কর্মচারীর চাকরি গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শ্রমিকদের অবসায়নের পর আগামী ছয় মাসের মধ্যে পিপিপির (সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব) আওতায় আধুনিকায়ন করে এসব পাটকল উৎপাদনমুখী করা হবে। তখন এসব শ্রমিক সেখানে চাকরি করার সুযোগ পাবেন। ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত যে আট হাজার ৯৫৪ জন পাটকল শ্রমিক অবসরে গেছেন, তাদের সব পাওনাও একসঙ্গে বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে সেদিন জানিয়েছিলেন পাটমন্ত্রী।