প্রতিবন্ধী কল্যাণ তহবিলের মতো তৃতীয় লিঙ্গদেরও কল্যাণ তহবিল থাকা দরকার

image

প্রতিবন্ধী কল্যাণ তহবিলের মতো তৃতীয় লিঙ্গদেরও একটি কল্যাণ তহবিল থাকা প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করছেন বক্তারা। বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি (এফপিএবি) এর উদ্যোগে তৃতীয় লিঙ্গদের জনগোষ্ঠীকে নিয়ে প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার বিষয়ক একটি এডভোকেসি সভায় এ মত পোষণ করেন তারা। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) সকালে পল্টনের এফপিএবি জাতীয় কার্যালয় এ বিষয়ে মত দেন তারা। এডভোকেসি সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফপিএবি নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান, এফপিএবি’র কর্মকর্তাবৃন্দসহ ইউএসএআইডি, সেরাক-বাংলাদেশ, ব্রাক, পদ্মকুঁড়ি, বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, টিডিএইচ নেদারল্যান্ড, সুস্থ জীবন, লাইটহাউস, সাদাকালো, বাংলাদেশ সেক্স ওয়ার্কার নেটওয়ার্ক, অবয়ব ও বিডিএইচ নেপাল এর প্রতিনিধিগণ।

সভায় প্রতিনিধিবৃন্দ বলেন, আমাদের দেশে তৃতীয়লিঙ্গ জনগোষ্ঠী বেশ অবহেলিত। বাংলাদেশ সরকার এই বিষয়ে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যা নিতান্তই অপ্রতুল। সরকার সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে কিছু তৃতীয় লিঙ্গকে প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলেও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তারা কর্মস্থলে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না। আবার অনেক তৃতীয়লিঙ্গ তাদের জন্য রাষ্ট্রের যে সুযোগ-সুবিধা আছে তা জানেনই না। তাছাড়া প্রশিক্ষণ শেষে যে অর্থ ঋণ হিসেবে তাদের দেওয়া হয় তা খুবই সামান্য যা দিয়ে প্রশিক্ষণ শেষে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ শুরু করা যায় না। এফপিএবি তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীসহ সকল সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার নিয়ে কাজ করে আসছে। আলোচনার মাধ্যমে তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণয়নের বিষয়ে সভায় বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়।

বক্তারা বলেন, তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে জনগোষ্ঠী স্বীকৃতি পেলেও তা সাংবিধানিকভাবে পূর্ণতা পায়নি। আবার যতটুকু স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে তার মধ্যেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ব্যাংক ঋণ দেওয়ার বিধান থাকলেও তারা ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন না। তাছাড়া প্রতিবন্ধী কল্যাণ তহবিলের মত তৃতীয় লিঙ্গদেরও একটি কল্যাণ তহবিল থাকা প্রয়োজন বলে সভায় আলোচকরা মত প্রকাশ করেন।