প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে অচিরেই নবম ওয়েজ বোর্ড : কাদের

image

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তার পরামর্শ নিয়ে অচিরেই নবম ওয়েজ বোর্ডের রোয়েদাদ ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, অনেকদিন আলোচনার পর বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পর্যায় পৌঁছেছে; আর ঝুলিয়ে রাখা বাস্তব সম্মত নয়, যুক্তিসঙ্গত নয়। ১৬ জুন রোববার তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নে গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী

লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান, তথ্যসচিব আবদুুল মালেক, নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (নোয়াব) সভাপতি মতিউর রহমান, সহসভাপতি এ কে আজাদ, সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল, মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর সূর্য, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদাক ওবায়দুল কাদের বলেন, আজ আমরা মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশন, সবার বক্তব্য শুনেছি। সবাই নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরেছেন। ওয়েজ বোর্ডে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া যুক্ত হবে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওয়েজ বোর্ড শুধু প্রিন্ট মিডিয়ার জন্য। হঠাৎ করে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এখানে সংযুক্ত করার সুযোগ নেই। তবে তাদের জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। বিষয়টি তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিবেচনায় রয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এ সময় বলেন, গণমাধ্যমকর্মী আইন ভেটিংয়ে আছে। এটি পাস হলে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কর্মীরাও ওয়েজ বোর্ডের অধীনে আসবেন।

সংবাদপত্র ও বার্তা সংস্থার কর্মীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের জন্য গত বছরের ২৯ জানুয়ারি নবম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়। ১৩ সদস্যের এই বোর্ডে চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. নিজামুল হক। এছাড়া সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ এবং সাংবাদিক ও সংবাদপত্র কর্মচারী বা শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সমসংখ্যক প্রতিনিধিও ছিলেন ওয়েজ বোর্ডে। সরকারের কাছে সুপারিশ দিতে বোর্ডকে ছয় মাস সময় দেয়া হয়। পরে নবম মজুরি বোর্ডের মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানো হয়। গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর নবম বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার আগে প্রতি মাসের মূল বেতনের উপর ৪৫ শতাংশ হারে মহার্ঘ্য ভাতা ঘোষণা করে সরকার। এ মহার্ঘ্য ভাতা ২০১৮ সালের ১ মার্চ থেকে কার্যকর ধরা হয়। এ মহার্ঘ্য ভাতা বোর্ডের নির্ধারিত সামগ্রিক বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বিত হবে।

গত ৪ নভেম্বর সচিবালয়ে তৎকালীন তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা হাসানুল হক ইনুর কাছে নবম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড রোয়েদাদ ২০১৮ সুপারিশমালা জমা দেন বোর্ডের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. নিজামুল হক। সংবাদকর্মীদের বেতন-ভাতা সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করে নবম ওয়েজ বোর্ড, যা গত ৩ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। ওই দিনই নতুন এই বেতন কাঠামো পরীক্ষা করে বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে তৎকালীন সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠিত হলে গত ২১ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘নবম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড রোয়েদাদ-২০১৮’ পরীক্ষায় ইতোপূর্বে গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ৭ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটির আহ্বায়ক করা হয় ওবায়দুল কাদেরকে।