স্মৃতিপদক প্রদান অনুষ্ঠানে স্পিকার

বজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমৃত্যু গণমাধ্যমের প্রচারে কাজ করেছেন

image

অতিথিদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাংবাদিকতায় বজলুর রহমান স্মৃতিপদকপ্রাপ্তরা-সংবাদ

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, দেশবরেণ্য খ্যাতনামা সাংবাদিক ও ‘দৈনিক সংবাদ’ সম্পাদক প্রয়াত বজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত থেকে আমৃত্যু গণমাধ্যমের প্রচার ও প্রসারে কাজ করে গেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে দেশের গণমাধ্যমগুলো যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে- এরই স্বীকৃতিস্বরূপ পরিশ্রমী, সাহসী, নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক ও নির্মাতাদের বজলুর রহমান স্মৃতিপদক প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। তা সত্যিই অনন্য। ১১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে বজলুর রহমান স্মৃতিপদক ২০১৮ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্পিকারের কাছ থেকে কালের কণ্ঠের যশোর প্রতিনিধি ফখরে আলম প্রিন্ট মিডিয়া ও একাত্তর টিভির সাংবাদিক শিল্পী মহলানবিশ ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বজলুর রহমান স্মৃতিপদক ২০১৮ গ্রহণ করেন। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারোয়ার আলী ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি রবিউল হোসাইন। এছাড়া বজলুর রহমান স্মৃতিপদক ২০১৮-এর প্রশংসাপত্র পাঠ করেন সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামান ও অধ্যাপক রুবাইয়াত ফেরদৌস। এ সময় দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক বজলুর রহমান আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন অগ্রসৈনিক। তিনি ছিলেন সৎ, নির্ভীক ও দৃঢ়চেতা সাংবাদিক। ইতিহাস, সাহিত্য ও দর্শনÑ সবক্ষেত্রেই তার ছিল সরব পদচারণা। শোষণমুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে কাজ করে গেছেন সংস্কৃতিমনা সাংবাদিক বজলুর রহমান। তার কর্মদক্ষতা ও স্বদেশপ্রেম সাংবাদিকতার গ-ি ছাড়িয়ে তাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে অনন্য উচ্চতায়। তিনি বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্র সুসংহত করতে তার লেখনী চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল, সৎ ও যোগ্য সাংবাদিক তৈরিতে বজলুর রহমানের আদর্শ সাংবাদিক সমাজকে অনুপ্রাণিত করবে। সাংবাদিক ও নির্মাতাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ এবং প্রচারের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের অসংখ্য গৌরবগাথা ইতিহাস প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হচ্ছে।

সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামান বলেন, সাংবাদিকতায় বস্তুনিষ্ঠতা, দেশ, সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা ছিল সাংবাদিক বজলুর রহমানের সাংবাদিকতার মূলমন্ত্র। এক্ষেত্রে তার আদর্শ থেকে কখনোই তিনি বিচ্যুত হননি।