বর্ধিত ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহার না হলে সারাদেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধ করার হুমকি আইএসপিএবির

image

বর্ধিত ভ্যাট-ট্যাক্স বাতিল না হলে সারাদেশে কিছু সময়ের জন্য ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি। শনিবার বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানাতে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি আমিনুল হাকিম এ ঘোষণা দেন।

আমিনুল হাকিম বলেন, ভ্যাট জটিলতার সমাধান না হলে সীমিত আকারে সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ করার পরিকল্পনা নিয়েছি। সুবিধামতো সময়ে দুই থেকে এক ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ রাখব। কবে কখন এই কর্মসূচি নেওয়া হবে তা সংগঠনের নেতাদের সাথে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে। জুলাই মাসের মধ্যে দাবি না মানা হলে এ কর্মসূচিতে যাব আমরা। দাবি মানা না হলে ইন্টারনেট বন্ধের এ কর্মসূচি ধাপে ধাপে অর্থাৎ প্রতিমাসে বা সপ্তাহে সপ্তাহে চলমান থাকবে।

আমিনুল বলেন, ৫ শতাংশ ভ্যাট ইন্টারনেট গ্রাহক থেকে আদায় করে আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো আর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ভ্যালু চেইনের অন্যান্য খাত আইএসপিগুলো থেকে আদায় করে থাকে। এর ফলে ৫ শতাংশ ভ্যাট গ্রাহক থেকে আদায় করা হলেও আইটিসি, আইআইজি, এনটিটিএনকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট পরিশোধ করতে হচ্ছে। সবমিলে প্রায় ৩৫ শতাংশ ভ্যাট বাবদ খরচ দিতে হচ্ছে আইএসপিগুলোকে। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ইন্টারনেটে ৫% ভ্যাট এবং ভ্যালু চেইনের অন্যান্য খাতে ১৫% ভ্যাট নির্ধারিত হওয়ায় ইন্টারনেট সেবা খাতে জটিলতা সৃষ্টি হয়। পরে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ইন্টারনেটের প্রতিটি স্তরে (আইটিসি, আইআইজি, এনটিটিএন) ৫% ভ্যাট আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। কিন্তু এর কয়েক মাসের ব্যবধানে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেটে পুনরায় ইন্টারনেট সেবায় ৫% ভ্যাট এবং অন্যান্য স্তরে ১৫% ভ্যাট আরোপ করায় বিষয়টিতে আবারও আগের জটিলতা সৃষ্টি হয়। এর ফলে প্রান্তিক পর্যায়ে ইন্টারনেটের মূল্য ৩০% থেকে ৪০% বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইন্টারনেটের সকল ক্ষেত্রে ৫% অথবা ০% হারে ভ্যাট আরোপে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে (ইন্টারনেট সেবায় ৫% ভ্যাট এবং ভ্যালু চেইনের অন্যান্য ১৫% ভ্যাট) জটিলতা নিরসন হবে। প্রান্তিক পর্যায়ে ইন্টারনেটের মূল্য ৩০% থেকে ৪০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কাও দূর হবে। এর ফলে সর্বস্তরের ইন্টারনেট গ্রাহক ও দেশের জনসাধারণ অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে ইন্টারনেট সেবার আওতায় আসতে পারবেন।

আইএসপিএবি সভাপতি বলেন, আইএলডিসি (ইন্টারন্যাশনাল লং ডিসটেন্স কেবল),আইআইজি এবং আইএসপি একসঙ্গে নির্ভরযোগ্য উচ্চ গতির ইন্টারনেট এক্সেস সরবরাহ করে যা অনেক সংস্থাকে আইটি এনাবেলড সার্ভিসেস (আইটিইএস) এ সফলতা অর্জন করতে সক্ষম করে তোলে। যৌক্তিক কারণেই আইএলডিসি, আইআইজি ও আইএসপিকে আইটিএস ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন ও দেশের সকল শ্রেণির জনগণের কথা বিবেচনা করে ইন্টারনেটে ভ্যাট জটিলতা নিরসন করে চলতি অর্থবছরের বাজেটে ইন্টারনেটে ভ্যাট আরোপের পরিবর্তিত কাঠামোটি অন্তভুক্ত করার অনুরোধ জানায় আইএসপিএবি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইএসপিএবি সহ-সভাপতি এফএম রাশেদ আমিন বিদ্যুৎ, সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ মো. সারওয়ার আলম সিকদার, পরিচালক নাজমুল করিম ভূঁঞা, মো. কামাল হোসেন, মো. নাসির উদ্দিন, রাইসুল ইসলাম তুহিন এবং মোঃ অহিদউল্লাহ ভূঁইয়া।