বর্ধিত হারে চাঁদা কর্তনের ফলে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মচারীরা সুফল পাচ্ছে

image

বর্ধিত হারে চাঁদা কর্তনের ফলে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীরা সুফল পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ‘শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’। সোমবার (৫ আগস্ট) সংগঠনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট দেশের মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তদের ২ শতাংশ চাঁদার অর্থে পরিচালিত সরকারের একটি আর্থিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। সে অনুযায়ী ১৯৯০ সালের জুলাই থেকে কল্যাণ ভাতা প্রদান করে আসছে। ৮ম জাতীয় বেতন স্কেলে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন শতভাগ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং কল্যাণ ট্রাস্ট আইন অনুযায়ী শিক্ষক কর্মচারীদের শেষ বেতন স্কেল অনুযায়ী কল্যাণ সুবিধা প্রদান করায় কল্যাণ ট্রাস্ট চরম ফান্ড সংকটের সম্মুখীন হয়। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত মাসিক চাঁদা ২ শতাংশ হারে আদায় হতো প্রায় ১৮ কোটি টাকা এবং কল্যাণ সুবিধার মাসিক জমাকৃত আবেদন নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজন প্রায় ৪০ কোটি টাকা (নতুন জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী)। এ হিসাবে প্রতি মাসে ঘাটতি প্রায় ২২ কোটি টাকা এবং বার্ষিক ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ২৬৪ কোটি টাকা। এ কারণে শিক্ষক কর্মচারীদের হাজার হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন ছিল। এ সংকট দূরীকরণের লক্ষ্যে শিক্ষা ও শিক্ষকবান্ধব প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে শিক্ষকদের মানোন্নয়নে অর্থ মন্ত্রণালয় সর্বমোট ৩৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করে। অর্থ মন্ত্রণালয় শিক্ষক কর্মচারীদের ২ শতাংশ চাঁদার পরিবর্তে ৪ শতাংশ চাঁদা প্রদানের শর্তে উক্ত অর্থ বরাদ্দ প্রদান করে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের শর্ত অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ২ শতাংশের পরিবর্তে ৪ শতাংশ চাঁদা প্রদানের গেজেট প্রকাশ করে। ফলে ফান্ড সংকট নিরসনের জন্য এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ২ শতাংশের পরিবর্তে ৪ শতাংশ চাঁদা জমা শুরু হয়েছে।

এছাড়াও বার্ষিক ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট, বৈশাখী ভাতা চালু হয়েছে। গত মে মাসে ৪ শতাংশ হারে চাঁদা আদায় হয় প্রায় ৩৬ কোটি টাকা। বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ড দায়িত্ব গ্রহণের পরই ১০০ দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেন এবং এই ১০০ দিনের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত ৬ হাজার ৪ জন শিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৩৫৬ কোটি ৬৯ লক্ষ এক হাজার ৯৩০ টাকা প্রদান করেন, যা কল্যাণ ট্রাস্টের ইতিহাসে এক মাইলফলক অনন্য দৃষ্টান্ত।

এ প্রসঙ্গে কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু বলেন, বর্ধিত চাঁদা কার্যকর হওয়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীরা এর সুফল পেতে শুরু করেছেন। এ ধারা অব্যাহত থাকলে কল্যাণ সুবিধার জন্য আর শিক্ষক কর্মচারীদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না। অনলাইনে আবেদন প্রাপ্তির তিন মাসের মধ্যে যাতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীরা তাদের ব্যাংক হিসাবে কল্যাণ সুবিধা পেতে পারেন সেই লক্ষ্যে কল্যাণ ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে জানান সদস্য সচিব।