বাড়তি বিদ্যুৎ বিল : জড়িতদের বিরুদ্ধে ডিপিডিসির অ্যাকশন শুরু

৪ হাজার অভিযোগ নিস্পত্তি

image

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)

করোনাকালে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল প্রদানে খামখেয়ালি এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল প্রদানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার প্রাথমিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) অ্যাকশন শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ৪ জন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং আউটসোর্সিংয়ের ১৬ জন মিটার রিডার, একজন মিটার রিডার সুপারভাইজারকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া, ৩৬ টি জোনাল অফিসে কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলীদের পৃথক কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান এ বিষয়ে সংবাদকে বলেন, আমরা ইমোধ্যে ৪ হাজার গ্রাহকের অভিযোগ সমাধান করেছি। এখনো যেসব গ্রাহক অভিযোগ দিচ্ছেন, তাদের সমস্যার সমাধান করে দিতে কর্মকর্তারা কাজ করছেন। তবে যেসব কর্মকর্তা, কর্মচারীর অবহেলায় গ্রাহকদের ভোগান্তি হয়েছে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে এবং হবে। এ বিষয়ে গঠন করা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু হয়েছে। অভ্যন্তরীণ প্রশাসনেরও রদবদল চলছে। আরও রবদবল করা হবে।

ডিপিডিসি সূত্র জানায়, করোনাকালে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে নানা অভিযোগের তদন্ত করতে ডিপিডিসির পরিচালক (আইসিটি) শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই ডিপিডিসি প্রশাসন অ্যাকশন শুরু করেছে। যে ৪ জন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, একজন নির্বাহী প্রকৌশলী, একজন সহকারি প্রকৌশলী এবং একজন কম্পিউটার ডাটা এন্ট্রি অপারেটর। অধিকতর তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের চুড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হবে।

ডিপিডিসির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (এইচআর-এমপ্লয়ি রিলেশন এন্ড ডিসিপ্লিন) নূর কামরুন নাহার স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ শুক্রবার রাতে ৩৬টি জোনের নির্বাহী প্রকৌশলীদের প্রত্যেককে পৃথকভাবে প্রেরণ করা হয়। নোটিশে বলা হয়- ‘আপনার দপ্তরের আওতাধীন বেশ কিছু গ্রাহকদের মার্চ ও এপ্রিল-২০২০ এ দুই মাসের বিদ্যুৎ বিলে অস্বাভাবিক রিডিংসহ অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে অবগত ছিলেন। মে/২০২০ মাসের বিদ্যুৎ বিলে যাতে এ ধরণের সমস্যা না হয় সেই বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহোদয় নির্দেশনাসহ পত্র জারি করেন। আংশিক মে মাসের বিলে বেশ কিছু গ্রাহকের অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সঠিক বিল তৈরির বিষয়ে যথাযথ কোন পদক্ষেপ না নেয়ার ফলে গ্রাহকগণ চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। এতে ডিপিডিসির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়াসহ সুনাম নষ্ট হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে উপরোক্ত অনিয়মের দায়-দায়িত্ব আপনার উপর বর্তায়’।

‘আপনার এহেন আচরণ ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এমপ্লয়ারস সার্ভিস রুলস-২০১৭ এর ৭ এর ২ বিধিতে বর্ণিত নির্দেশনায় সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন যা শৃঙ্খলা পরিপন্থী, কর্তব্যকালে অবহেলা ও অসদাচরণের পরিচায়ক। আপনার উপরোল্লিখিত আচরণ এবং আপনার দায়িত্বে অবহেলা ও গাফলতি ডিপিডিসি চাকুরিবিধি অনুযায়ী অসদাচরণ জনিত অপরাধ বিধায় ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এমপ্লয়ারস সার্ভিস রুলস-২০১৭ এর ৭ বিধি অনুযায়ি কেন আপনার বিরুদ্ধে বভিাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার কারণ কৈফিয়তনামা জারির ১০ (দশ) দিনের মধ্যে দর্শানোর জন্য জানানো হলো।’

ডিপিডিসি সূত্র জানায়, মিটার রিডিংয়ে চরম খামখেয়ালির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় একজন সুপার ভাইজারসহ ১৬ জন মিটার রিডারকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করেছে ডিপিডিসি। এসব কর্মচারী আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে নেয়া বিধায় সংশ্লিষ্ট আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানকে বহিস্কারের চিঠি দিয়েছে ডিপিডিসির প্রশাসন।

উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতিতে সংক্রমণ এড়াতে লাইন ধরে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধকে নিরুৎসাহিত করে বিদ্যুৎ বিভাগ ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল মাসের বিলে বিলম্ব মাশুল মৌকুফ করলেও ৩০ জুনের মধ্যে বকেয়া সব বিল পরিশোধের নির্দেশ দেয়। অন্যথায় জরিমানা, সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে আশঙ্কায় বিপাকে পড়েন গ্রাহক। অভিযোগ ওঠে, বিগত মাসে বিল পরিশোধ করেছেন এমন গ্রাহকদের পরবর্তি মাসের মাসের বিলে পুনরায় বকেয়া বিল সংযুক্ত করে দেয়া হয়েছে। অনেকের অভিযোগ, গত দুমাস তাদের মিটার বন্ধ ছিল, ভাড়াটে বাসা ছেড়ে চলে গেছে; অথচ সেখানে মিটার খোলার পর ইউনিট দেখাচ্ছে। অনেকের আগের মাসের তুলনায় বহুগুণ বেশি বিল চলে এসেছে। করোনা দুর্যোগে দুই মাস প্রাক্কলিত বিল করে তৃতীয় মাসে মিটার রিডিং অনুযায়ি বিল করায় ধাপের ফাঁদে পড়েন অসংখ্য বিদ্যুৎ গ্রাহক। কারণ নিম্ন ধাপের গ্রাহকের বিল করা হয় উচ্চ ধাপের দর অনুযায়ি। নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ডিপিডিসিসহ অন্যান্য বিতরণ কোম্পানিগুলো গ্রাহক স্বার্থ রক্ষার উদ্যোগ নেয়।