বিজয় দিবসের পর থেকে ‘বাংলাদেশ সচিবালয়’ ঘিরে ‘নিরব এলাকায়’ পরিণত হচ্ছে

image

বিজয় দিবসের পরদিন ১৭ ডিসেম্বর থেকে ‘বাংলাদেশ সচিবালয়’ ঘিরে পল্টন মোড় ও সচিবালয় লিংক রোড হয়ে জিরো পয়েন্ট ‘নিরব এলাকায়’ পরিণত হচ্ছে।

পরিবেশ সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব বিল্লাল হোসেনের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত কার্যরের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় ওইসব এলাকায় যানবাহনগুলোকে হর্ন না বাজানোর অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের সচেতন করতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক বিলবোর্ড, ব্যানার স্থাপন, লিফলেট বিলি এবং মাইকিং করার সিদ্ধান্ত হয়। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও গণমাধ্যমকর্মীসহ সকলের সহযোগিতা চাওয়া হয়।

‘বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫’ অনুযায়ী ‘নীরব এলাকায়’ যানবাহনের হর্ন বাজানোর দায়ে প্রথমবার অনধিক এক মাস কারাদন্ড বা অনধিক পাঁচ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ড এবং পরবর্তী প্রতিবারের জন্য অনধিক ছয় মাস কারাদন্ড বা অনধিক দশ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ড দেওয়ার বিধান আছে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অপ্রয়োজনীয়ভাবে হর্ন বাজানোসহ শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কার্যকর করা হবে। সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সভায় শব্দ দুষণ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রচারণার জন্য টেলিভিশেনে স্ক্রল, ফেসবুকে প্রচারণা, মোবাইলে ম্যাসেজ প্রদান এবং লিফলেট বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অতিরিক্ত সচিব আরো বলেন, ‘আমরা সব মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেবো, যাতে তাদের কর্মকর্তাদের গাড়ির চালকেরা সচিবালয়ের আশেপাশে হর্ন না বাজায়। এছাড়াও সচিবালয়ের ভেতরেও লিফলেট বিতরণ করা হবে। বাস চালকদের সচেতন করতে মতিঝিল, গুলিস্তান ও ফুলবাড়িয়া এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হবে।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, ১১ ডিসেম্বর থেকে তারা লিফলেট বিলি শুরু করবেন। ‘নীরব জোন’ বাস্তবায়নে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, জন নিরাপত্তা বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহ পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করবে বলে সভায় জানানো হয়।

গত ২৫ নভেম্বর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ১৭ ডিসেম্বর থেকে ‘বাংলাদেশ সচিবালয়’র চারপাশের এলাকা অর্থাৎ জিরো পয়েন্ট, পল্টন মোড়, সচিবালয় লিংক রোড হয়ে জিরো পয়েন্ট এলাকাকে নিরব জোন বা নো হর্ন জোন হিসেবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।