ভারতে ভর্তুকি দিয়ে ইলিশ রপ্তানি হলেও দেশের অভ্যন্তরে দাম বেড়েছে

image

মূল প্রজননের সময় ঘনিয়ে আসার আগে ভর্তুকি দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ১০ অক্টোবরের মধ্যে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির সিদ্ধান্ত কার্যকর হলেও ইলিশ উৎপাদনের মূল এলাকা দক্ষিণাঞ্চলে এখনও ভালোমানের প্রতি কেজি ইলিশ এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহ থেকে বরিশাল ও ভোলার পাইকারি মোকাম থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রতি কেজি ৫ ডলার মূল্যে ইলিশ রপ্তানি হচ্ছে। বাংলাদেশি টাকায় যার দাম প্রতি কেজি ৫শ’ টাকারও কম। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে বাংলাদেশ থেকে ৫শ’ টন ইলিশ ভর্তুকি দরে ভারতে রপ্তানির কথা জানিয়েছিল সরকার। যার সিংহভাগই বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সারা দেশ থেকে মোট ৫শ’ টন ইলিশ পাঠানোর কথা থাকলেও শুধু দক্ষিণাঞ্চল থেকেই তার অনেক বেশি ইলিশ ইতোমধ্যে রপ্তানিকারক সংগ্রহ করেছেন। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে ইলিশের দাম বেড়ে গেছে।

বিষয়টি নিয়ে মৎস্য অধিদফতর বা সংশ্লিষ্ট কোন দফতরই সঠিক কিছু বলতে পারেননি। মৎস অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অন্য দফতরও এপর্যন্ত ঠিক কত টন ইলিশ দক্ষিণাঞ্চল থেকে ভারতে গেছে তা বলতে পারেনি। তাদের মতে, বিষয়টি দেখভাল করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ভারতে রপ্তানির জন্য এক কেজি সাইজের ভালো মানের ইলিশ বাছাই করেই পাঠানো হয়েছে। যেহেতু দেশের ৬৫/৭০ ভাগ ইলিশ দক্ষিণাঞ্চলে উৎপাদন ও আহরণ হয়, সেহেতু এ অঞ্চল থেকেই বেশি যাওয়ার কথা।

এদিকে ভারতে ভর্তুকি দরে ইলিশ রপ্তানি হলেও বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বাজারে এক কেজি সাইজের প্রতি মণ (৪০ কেজি) ইলিশের পাইকারি দর ৪০ হাজার টাকার ওপরে। ফলে খুচরা বাজারে ওই সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এলাকাভেদে ১২শ’ থেকে দেড় হাজার টাকা কেজি দরে। আর ৫শ’ গ্রাম থেকে সাড়ে ৭শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে হাজার টাকা কেজি দরে। ৮শ’ গ্রাম থেকে সাড়ে ৯শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ১১শ’ টাকা থেকে ১২শ’ টাকা ।

বৃষ্টিপাতের কারণে প্রায় মাসখানেক যাবৎ দক্ষিণাঞ্চলে প্রচুর ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা পড়ছে। ফলে বাজারে এর দামও কমে এসেছিল। ইলিশের প্রভাবে অন্য মাছের দামও কিছুটা হ্রাস পায়। তবে ইলিশ রপ্তানির কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর বাজারে সব ধরনের মাছের দামই চড়া। ব্যবসায়ীদের মতে, ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ রপ্তানি অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে আশি^নের বড় পূর্ণিমার সময়কে ইলিশের মূল প্রজননকাল ধরে তার আগের ও পরের ২২ দিন ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিপণনে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে ৯ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে। এ সময়ে উপকূলের ৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার মূল প্রজনন এলাকায় নদীতে সব ধরনের মৎস্য আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞার এই ২২ দিনে ভারতীয় জেলেরা যাতে কোন অবস্থাতেই বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সাগর সীমানায় প্রবেশ করে কোন মাছ ধরতে না পারে তা নিশ্চিত করার জন্য নৌবাহিনীর টহল প্রদানের দাবি করা হয়।

দেশে ৪৪৮টি নদী-খাল পুনঃখনন করা হবে।