রিজেন্ট সাহেদের যাবজ্জীবন

image

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় করা অস্ত্র আইনের মামলার রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। আজ (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহানগর ১ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক কেএম ইমরুল কায়েশ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, সাহেদ অত্যন্ত চালাক ও ধুরন্ধর ব্যক্তি। আমাদের এ সমাজে সাহেদের মতো ভদ্রবেশে অনেক লোক রয়েছে, এই রায়ে তাদের কাছে বার্তা পৌঁছে যাবে। সাহেদ ২০ লাখ টাকা লোন নিয়ে গাড়ি ক্রয় করেন। কিন্তু আদালতের কাছে সে বিষয়টি অস্বীকার করে মিথ্যা তথ্য দেন। গাড়িতে অস্ত্র রাখার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় সে আদালতের কাছে কোন অনুকম্পা পেতে পারে না।

রায় ঘোষণার আগে আজ (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কারাগার থেকে আসমি সাহেদকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় সাহেদের হাতে হাতকড়া ও মাথায় হেলমেট দেখা যায়। এছাড়া গায়ে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরোনে ছিল জিন্সের প্যান্ট। আদালতে উপস্থিত সাহেদ রায় শুনে অনেকটাই নিবির্কার ছিলেন। রায় ঘোষণার পর সাহেদকে কারাগারে নিতে প্রিজনভ্যানে উঠানো হয়। এ সময় সাহেদ বলেন, আমি ন্যায়বিচার পাইনি। উচ্চ আদালতে যাব। সেখানে আমি ন্যায়বিচার পাব।

এদিকে রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবদুল্লাহ আবু বলেন, সাহেদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা গুলোর মধ্যে উত্তরা পশ্চিম থানার অস্ত্র আইনের এই মামলারই প্রথম রায় ঘোষণা হয়েছে। অস্ত্র আইনের ১৯ (এ) ধারায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড সাজা। পাশাপাশি আরেকটি ধারায় সাহেদকে সাত বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে রায়ে। তবে দুই ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে তার ক্ষেত্রে যাবজ্জীবনই প্রযোজ্য হবে। আসামি সাহেদ যে অপরাধী তা এ মামলার রায়ে প্রমাণিত হয়েছে। এ রায় সমাজে দৃষ্টান্ত হিসেবে থাকবে। সাহেদ নিজ হেফাজতে অবৈধ পিস্তল রাখায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও গুলি রাখায় সাত বছরের কারাদন্ডের আদেশ দেন আদালত। রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।

এদিকে সাহেদের আইনজীবী মনিরুজ্জামান বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাব।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়। মামলায় ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য নেয় আদালত। একই আদালত ২৭ আগস্ট তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এরআগে গত ৩০ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাহেদ করিমকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।

চার্জশিটে বলা হয়, অস্ত্রটি আসামি সাহেদের কেনা। তবে সেটি অবৈধ। অস্ত্রটি কেনার পর কোথাও ব্যবহার করা হয়নি। এজন্য ব্যালাস্টিক পরীক্ষায় কোন হাতের ছাপ আসেনি। মামলার তদন্ত কালে প্রামাণিত হয়েছে, আসামি সাহেদ অবৈধভাবে অস্ত্র ও গুলি তার নিজ দখলে রেখেছে। এরআগে গোয়েন্দা পুলিশের রিমান্ড চলাকালীন অবস্থায় সাহেবকে নিয়ে উত্তরার একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়। পরে সেখান থেকে অস্ত্র, গুলি মাদক উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ডিবি আলাদা দুটি মামলা করে।

এরআগে গত ১৫ জুলাই ভোরে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করা হয় সাহেদকে। পরদিন করোনা পরীক্ষার নামে ভুয়া রিপোর্টসহ বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাহেদের ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। রিমান্ড চলাকালীন সময়ে সাহেদ করিমকে নিয়ে ১৮ জুলাই রাতে উত্তরায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে উত্তরা পশ্চিম থানায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা হয়।

এর আগে গত ৬ জুলাই সাহেদের মালিকানাধীন রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুরের দুই শাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‌্যাব। অভিযানে ভুয়া করোনা টেস্টের রিপোর্ট, করোনা চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম উঠে আসে। ওই দিনই রিজেন্ট হাসপাতালের দুটি শাখাকেই সিলগালা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরপর সন্ধ্যায় হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর।