শিশুশ্রম বন্ধে আইন হয়েছে শুধু খাতা-কলমে

image

খিলগাঁও-গুলিস্তান রোডে একটি লেগুনার সহকারী হিসেবে কাজ করে আকরাম হোসেন (ছদ্মনাম)। বয়স এগারো। আকরামের বাবা-মা কেউ নেই। ছয় মাস আগেও সে পথে পথে ঘুরত। এখন লেগুনায় কাজ করে দিনের রোজগারে দিন কাটছে। এতে সন্তুষ্ট হলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে কোন রকম ধারণা নেই আকরামের। তার কাজটা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তারও কোন ধারণা নেই। চলন্ত অবস্থায়ই ঝুঁকির মধ্যে যাত্রী ওঠানো-নামানো এবং ভাড়া আদায়ের কাজ করে যাচ্ছে। শুধু আকরাম হোসেনেই নয়, তার মতো অনেককেই দেখা গেছে রাজধানীর বিভিন্ন রোডে লেগুনা, টেম্পোসহ মাঝারি যানবাহনে এমন ঝুকিঁপূর্ণ কাজ করতে। এমনকি অনেক শিশু বাসের হেলপারের কাজও করছে। দেশে ‘শিশুশ্রম’ আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হলেও যানবাহন ছাড়াও হাটবাজার, হোটেল রেস্টুরেন্ট, ওয়েল্ডিং-ওয়ার্কশপে কাজ করছে শিশুরা। অনেকে বিড়ি ফ্যাক্টরিতে বিষাক্ত তামাকপাতা হাতে নিয়ে কাজ করছে। অনেকে ফেলে দেয়া জিনিসপত্র কুড়িয়ে কোন রকমে পরিবারের ভরণ-পোষণে বাবা-মাদের সহায়তা করছে। বিশেষ করে গৃহকর্মে নিয়োজিত রয়েছে শিশুদের বড় একটি অংশ।

শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর নেতারা বলছেন, শিশুশ্রম বন্ধে আইন রয়েছে। কিন্তু সে আইন শুধু খাতা-কলমেই বাস্তবে দেখা যায় না। আইন অনুযায়ী শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ করা যায় না এবং শিশুদের দিয়ে ৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো এবং ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের শ্রম একেবারেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ আলাদা। আইন প্রয়োগের কোন অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই দেশে শিশুশ্রম কমিয়ে আনতে হলে সুনির্দিষ্টভাবে আইনের প্রয়োগ ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার। এ জন্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের সমন্বিত উদ্যোগ ও সর্বস্তরে সচেতনতা সৃষ্টি জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশেষ গুরুত্ব দেয়ায় গত ১০ বছরে শিশুশ্রম অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হলেও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুশ্রম উল্লেখযোগ্যভাবে উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি। এখনও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে বিপুল পরিমাণ শিশু কর্মে নিয়োজিত রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে সরকারের টার্গেট ২০২১ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নির্মূল করা খুবই কঠিন। তবে যথাযথ মনিটরিং এবং জবাবদিহি থাকলে সরকারের এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা। এক্ষেত্রে সংসদে শিশুশ্রম নিরসনের জন্য পৃথক একটি ককাস গঠন করা প্রয়োজন বলেও মত দেন তারা। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের (বিএফএএস) পরিচালক আবদুছ সহিদ মাহমুদ বলেন, শিশুশ্রম নিরসনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন সবার সার্বিক প্রচেস্টা। শুধু সরকারের একক উদ্যোগে এই বিপুল পরিমাণ কর্মে নিয়োজিত শিশুদের শ্রম থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কারণ শিশুশ্রম নির্মূলের কাজ করতে হয় মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মাধ্যমে। তা এনজিও দ্বারা বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়ে থাকে। সেখানে কিছু ভুল, উদাসীনতা আর সঠিক জবাবদিহি না থাকলে সরকারের এই উদ্যোগ ফলপ্রসূ নাও হতে পারে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ সমীক্ষা অনুযায়ী দেশে ১২ লাখ ৮০ হাজার শিশু ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত। পরিসংখ্যান ব্যুরোর জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ ২০১৩ অনুযায়ী ৫ থেকে ৭ বছর বয়সী কর্মজীবী শিশুর সংখ্যা ৩.৪৫ মিলিয়ন। এর মধ্যে ২.১০ মিলিয়ন ছেলে শিশু আর ১.৩৫ মিলিয়ন মেয়ে শিশু। ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা ১.২৮ মিলিয়ন।

শিশু অধিকার ফোরামের তথ্যানুযায়ী, শুধু গৃহকর্মেই নিয়োজিত শিশু শ্রমিকের সংখ্যা চার লাখ ২১ হাজার। এই শ্রমও এই কারণে ঝুঁকিপূর্ণ যে, অধিকাংশ শিশুর গৃহকর্মের কাজেও কমপক্ষে ১৫-১৬ ঘণ্টা কাজ করতে হয় একনাগাড়ে। সেই অনুপাতে না আছে পেট পুরে খাবার ও পুষ্টি। বরং প্রতিনিয়ত জোটে বকাঝকা-লাঞ্ছনা-গঞ্জনা-মারধর। নির্মম অত্যাচারে একাধিক মৃত্যুর খবরও আছে। এর পাশাপাশি নারী গৃহকর্মীদের ক্ষেত্রে রয়েছে অহরহ যৌন নিপীড়ন-নির্যাতনসহ হত্যার ঘটনা। অনেক ক্ষেত্রে মামলা-মোকদ্দমা হলেও সুবিচার তথা ন্যায়বিচার পাওয়া যায় না বললেই চলে। আর কলকারখানায় কর্মরত শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমদানের বিষয়টি তো সুবিদিত। চুরির অপরাধে অথবা ছুতানাতায় শিশু শ্রমিককে অকথ্য মারধরসহ পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যার অভিযোগও রয়েছে একাধিক।

এ বিষয়ে আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর তুমু পৌতিয়ানিন বলেন, বাংলাদেশ এসডিজি লক্ষ্য অর্জনের জন্য বদ্ধপরিকর এবং এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ৮.১ অর্জনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার জেনেভাতে অঙ্গীকার করেছে যে তারা ২০২১ সালের মদ্ধ্যে নিকৃষ্ট ধরনের শিশুশ্রম নির্মূল করবে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা খুবই কঠিন মনে হচ্ছে। যথাযথ মনিটরিং এবং জবাবদিহি না থাকলে এই লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব। তাই সরকারকে স্থানীয় প্রসাশনকে সঠিকভাবে এই কাজে ব্যবহার করতে হবে।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের (বিএসএএফ) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন মাহবুবুল হক বলেন, শিশুদের দারিদ্র্য বিমোচন, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করাসহ সব অধিকার নিশ্চিত করা গেলে শিশুশ্রম কমে যাবে। এ জন্য বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন জরুরি। এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

কৃষি জমি নষ্ট করে শিল্পায়ন নয় : কৃষক লীগের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

image

অস্তিত্ব সংকটে আদি বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা

image

এসডিজি অর্জনে উন্নয়নের সব প্রক্রিয়ায় যুবকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে : স্পিকার

image

কমিশন শুধু চুনোপুঁটিদের ধরছে না, রাঘব বোয়ালদেরও ধরছে : দুদক চেয়ারম্যান

image

বৃদ্ধি পাওয়া জরিমানা ও সাজার পরিমান বাড়াবে আইন মানার প্রবনতা : ডিএমপি কমিশনার

image

সিন্ডিকেটের কারণে ২৪ বার পিয়াজের দাম বৃদ্ধি

image

বিআরটিএ ও পুলিশের প্রস্তুতির অভাবে কার্যকর হচ্ছে না নতুন সড়ক আইন

image

বৈষম্য দূর করে নারীদের উন্নয়নের মূল স্রোতে সম্পৃক্ত করতে হবে : স্পিকার

image

ই-নামজারি আরও বেগবান করতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের পত্র জারি

image