সারাদেশে ৫শ কি.মি. রেলপথ ঝুঁকিপূর্ণ

image

সারাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথে ঈদযাত্রা নিয়ে শঙ্কায় যাত্রীরা। ২ হাজার ৯২৯ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে ৫০০ কিলোমিটার রেলপথ ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া এবার বন্যায় দেড়শ’ কিলোমিটার রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ওয়াশ আউট (মাটি ধুয়ে) হয়ে গেছে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার রেলপথ। এর মধ্যে ২২ কিলোমিটার পশ্চিম ও ১১ কিলোমিটার পূর্বাঞ্চলের রেলপথ মাটি ধসে গেছে। দুটি রুটে এখনও রেল যোগাযোগ বন্ধ। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতু নড়বড়ে নাটবল্টের কারণে ধীরগতিতে চলছে ট্রেন। তাই ঈদের আগে রেলপথগুলো সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছে রেলওয়ে বিভাগ। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ পরিদর্শনে শুক্রবার গাইবান্ধা যাচ্ছেন রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন।

জানা গেছে, সারাদেশে বন্যায় দেড়শ’ কিলোমিটার রেলপথে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রেললাইনের স্থানে স্থানে মাটি ওয়াশ আউট (ধুয়ে যাওয়া), স্লিপারের নষ্ট হওয়া, নাটবল্ট খোয়া যাওয়াসহ বিভিন্ন স্থানে রেলপথের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রেলওয়ে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ ঈদুল আজহার ১০ দিনের আগে মেরামতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অনেক জায়গায় রেললাইন গভীরভাবে দেবে গেছে। তবে কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও নির্ধারণ করতে পারেননি রেল কর্মকর্তারা। এতে রেলের কয়েকটি স্টেশন থেকে ঢাকার সঙ্গে এখনও সরাসরি রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে গাইবান্ধা জেলায়। এ রেলপথে প্রায় ৭ কিলোমিটার গভীরভাবে দেবে গেছে। এছাড়া জামালপুর জেলায় ৫ ও কুড়িগ্রাম জেলায় অর্ধকিলোমিটার রেলপথ ভেঙেছে। পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ বাজার সেকশন ও জামালপুর-তারাকান্দি সেকশনের সরিষাবাড়ী-বয়ড়া স্টেশনের মধ্যবর্তী স্থানে রেললাইন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বাদিয়াখালী রোড-ত্রিমোহনী জংশন স্টেশনের মধ্যবর্তী স্থানে রেললাইন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ঢাকা-লালমনিরহাট রুটে চলাচলকারী লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা-সান্তাহার-বগুড়া-বোনারপাড়া-কাউনিয়া-লালমনিরহাট রুটের বদলে ঢাকা-সান্তাহার-পার্বতীপুর-লালমনিরহাট রুট দিয়ে চলাচল করছে। একইভাবে রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা-সান্তাহার-বগুড়া-বোনারপাড়া-কাউনিয়া-রংপুর রুটের বদলে ঢাকা-সান্তাহার-পার্বতীপুর-রংপুর রুট দিয়ে যাতায়াত করছে। আন্তঃনগর দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনটি দিনাজপুর-সান্তাহার-দিনাজপুর রুটের বদলে দিনাজপুর-গাইবান্ধা-দিনাজপুর রুটে এবং আন্তঃনগর করতোয়া এক্সপ্রেস সান্তাহার-বুড়িমারী-সান্তাহারের বদলে সান্তাহার-বোনারপাড়া-সান্তাহার দিয়ে চলাচল করছে। এছাড়া গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী স্টেশনে পদ্মরাগ এক্সপ্রেস ট্রেনটি বন্যার কারণে আটকা পড়েছে। ফলে বন্ধ রয়েছে সান্তাহার-লালমনিরহাট-সান্তাহার রুটের ট্রেন চলাচল। পাঁচপীর-উলিপুর স্টেশনের মধ্যে রেললাইন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ৪২১-৪২২ নম্বর লোকাল ট্রেন পার্বতীপুর-কুড়িগ্রাম-পার্বতীপুর ও ৪১৫-৪১৬ নম্বর লোকাল ট্রেন তিস্তা জংশন-কুড়িগ্রাম-তিস্তা জংশন রুটে চলাচল করছে।

এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী সংবাদকে বলেন, এবার বন্যায় গাইবান্ধা জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৭ কিলোমিটার রেলপথ ওয়াশ আউট হয়ে গেছে। এখনও একটি রুটে রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে বিকল্প পথে রেল চলাচল করছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ মেরামতের কাজ চলছে। শুক্রবার সরেজমিন ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ পরিদর্শনে যাব। আশা করছি, ঈদের আগেই রেলপথগুলো সচল করা হবে।

রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল সূত্র জানায়, বন্যার কারণে পশ্চিমাঞ্চলে ২২ কিলোমিটার রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাইবান্ধা জেলায়। এই জেলায় বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৭ কিলোমিটার রেলপথ গভীরভাবে দেবে গেছে। গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী স্টেশন এলাকায় রেলপথ মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। গত ২৬ জুলাই শুক্রবার সকাল থেকে মেরামত শুরু হয়। ঈদুল আজহার আগে এ পথে ট্রেন চলাচল শুরুর আশা করা হচ্ছে। বন্যার পানির চাপে বাদিয়াখালী থেকে ত্রিমোহিনী পর্যন্ত ছয় কিলোমিটারে সড়কে ৯৭ জায়গায় রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে ১৭ জুলাই থেকে এ পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এর পরিবর্তে বিকল্প পথে রেল যোগাযোগ চালু আছে। ওই জেলায় ছয় কিলোমিটার পথে ছোট-বড় মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথের পরিমাণ ৬৫০ মিটার। জরুরি ভিত্তিতে এই কাজ চার ঠিকাদারকে করতে দেয়া হয়েছে। জরুরি কাজ হওয়ায় মেরামতের টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি। তবে সংস্কার করতে সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা লাগতে পারে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গাইবান্ধায় বাঁধ ভাঙার কারণে চারটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর সোনালী বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বাদিয়াখালী ইউনিয়নে পানির চাপ বাড়ে। একই সঙ্গে ফুলছড়ি উপজেলায় কয়েকটি জায়গায় বাঁধ ভাঙায় এ ইউনিয়নের পূর্বদিকে পানির ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়। গত ১৭ জুলাই রেলপথের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে শুরু করে। ¯্রােতের মাত্রা বেড়ে গেলে রেলপথ থেকে পাথর ও মাটি সরে যেতে থাকে। একপর্যায়ে প্রবল ¯্রােতে বাদিয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে রেলপথ ভেঙে গেছে। রেলওয়ের ভাষায় এটাকে ‘ওয়াশ আউট’ হয়ে গেছে। বন্যায় বাদিয়াখালী থেকে ত্রিমোহিনী পর্যন্ত অন্তত ৯৭ জায়গায় ওয়াশ আউট হয়েছে। বেশিরভাগ জায়গায় ৩ থেকে ১০ ফুট ভেঙেছে। বড় আকারে ভেঙেছে তিন স্থানে। এর মধ্যে ৬০০ ফুট রেলপথ ভেঙেছে দুটি জায়গায়। এ দুটি এলাকার মাঝামাঝি একটি স্থানে ৩০০ ফুট পরিমাণ রেলপথ ভেঙে গেছে। মূলত এ তিনটি জায়গায় বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। কোথাও কোথাও রেলপথের নিচ থেকে মাটি ও পাথর সরে গিয়ে ২০ ফুটের মতো গর্ত হয়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের জিএম খন্দকার শহীদুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, বন্যার কারণে এখনও দুটি রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে কোনাপাড়া-গাইবান্ধা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া উলিপুর-রমনাবাজার পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথের মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। তবে বিভিন্ন স্থানে গভীরতা অনেক। মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হচ্ছে। তবুও কাজ থেমে নেই। আবার বন্যা না হলে আশা করছি ঈদযাত্রার আগেই রেলপথ মেরাতম করা হবে।

বাড়ছে মশা বাড়ছে মৃতের সংখ্যা নেই কোন কার্যকর উদ্যোগ

image

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে : স্পিকার

image

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রনে কোলকাতার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান মেয়র আতিক

image

বর্ধিত হারে চাঁদা কর্তনের ফলে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মচারীরা সুফল পাচ্ছে

image

২১ বছরেও পার্বত্য চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়ন হয়নি : সন্তু লারমা

image

২৪ ঘণ্টায় ১৭১২ জন আক্রান্ত : মশার প্রজননস্থল ও লার্ভা ধ্বংস না করলে উপদ্রব বাড়বে

image

শামিম কবির বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতির পথ দেখিয়েছেন : স্মৃতিচারণে বিশিষ্টজনরা

image

বিনম্র শ্রদ্ধায় শেষ বিদায় শামিম কবিরের

image

গুজবে কান না দিয়ে আইন হাতে না নিয়ে গুজবকারীকে পুলিশে সোর্পদ করার আহ্বান : লন্ডন থেকে টেলিকনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী

image