সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

image

কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে রাষ্ট্রপতিকে পৌরসভার চাবি উপহার দেন মেয়র মাহমুদ পারভেজ

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, আমি সরাসরি নির্বাচনের কথা বলতে পারি না। তবে সকল রাজনৈতিক দলকে এ কথাই বলবো, যারা ঠিকাদারের কাছে টাকা খায়, দুর্নীতি করে, টিআর-কাবিখার চাল লুট করে-তাদের মনোনয়ন দেবেন না। সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেবেন। অনেকেই বড় হলে মানুষকে মানুষ মনে করেন না, বাহাদুরি দেখান। এটা ঠিক নয়। একথা জনপ্রতিনিধিদের মনে রাখতে হবে। জনগণকে সম্মান করতে হবে। তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমি ভোটের কথা বলতে পারি না। তবে যে দলকে ভোট দিলে দেশের সার্বিক উন্নতি হবে, সেই দলকে ভোট দেবেন। রাষ্ট্রপতি তিন দিনের সফরে সোমবার (৮ অক্টোবর) কিশোরগঞ্জে পৌঁছলে তাকে বিকাল সাড়ে ৩টায় শহরের সরকারি গুরুদয়াল কলেজ মাঠে দেয়া বিশাল গণসংবর্ধনার জবাবে এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি দুপুর ২টায় হেলিকপ্টারযোগে কিশোরগঞ্জ শহরের সৈয়দ নজরুল স্টেডিয়ামে অবতরণ করেন। এরপর সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার গ্রহণ করে সংবর্ধনাস্থলে পৌঁছান। মো. আবদুল হামিদ টানা দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হওয়ায় তাকে কিশোরগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে স্মরণকালের বৃহত্তম ও বর্ণাঢ্য গণসংবর্ধনা দেয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, আমি দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হয়েছি। ভারত-পাকিস্তানসহ উপমহাদেশে পর পর দুইবার রাষ্ট্রপতি হওয়ার এরকম নজির নেই। আমি আজ এ জায়গায় এসেছি, সবই কিশোরগঞ্জবাসীর অবদান। স্কুল জীবনে দুই বছর ছাত্র রাজনীতি করলেও আমি ১৯৬১ সালে মেট্রিক পাস করে গুরুদয়াল কলেজে ভর্তি হয়েছি। তখন পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খানের ছবি ভেঙে কলেজ জীবনে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেছি। কাজেই গুরুদয়াল কলেজ আমার রাজনীতির বিশ্ববিদ্যালয়। আমি রিকশাচালক, পান দোকানদার, মুচি, মুটে, হোটেল শ্রমিক, বিড়ি শ্রমিক-সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। কারণ আমি তাদের কাছ থেকে এক আনা, দুই আনা চাঁদা তুলে সংগঠন করেছি। আমার আহ্বানে তারা কাজ বন্ধ রেখেছেন। তিনি বলেন, আমার কোন কাজে কিশোরগঞ্জবাসীর লজ্জা হয়, এমন কাজ যেন না করি- আপনারা দোয়া করবেন। আমার কাছে আপনারা অনেক কিছু দাবি করেন। আমিও কিশোরগঞ্জের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করবো। একটি নতুন ট্রেন, ট্রেনের বগি বৃদ্ধি এবং ভৈরবে গিয়ে যেন ইঞ্জিন ঘোরানোর জন্য ৪৫ মিনিট সময় নষ্ট করতে না হয়, একটি বাইপাস তৈরির জন্য রেলমন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বঙ্গভবনে আসতে বলবো। তাদের সঙ্গে কথা বলবো এই কাজগুলো করার জন্য। একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় করার জন্যও জায়গা পরিদর্শন করবো। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত সহধর্মিণী রাশেদা হামিদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি যখন ছাত্রলীগ করি, তখন মেয়েরা ছাত্রলীগ করতে আসতো না। আমার স্ত্রীকে দিয়েই মেয়েদের মধ্যে ছাত্রলীগের কাজ করেছি। তিনি আমার রাজনৈতিক জীবনে অনেক সহযোগিতা করেছেন। তখন গ্যাস ছিল না। কাঠের জ্বালানি আর কেরোসিনের চুলায় রান্না করতে হতো। তখন বাসায় যত নেতাকর্মী আসতেন, আমার স্ত্রী তাদের চা খাওয়াতেন, আপ্যায়ন করতেন। রাষ্ট্রপতি অসুস্থ জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

রাষ্ট্রপতিকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ পৌরসভার পক্ষ থেকে সোনার চাবি উপহার দেন এবং মানপত্র পাঠ করেন। আর কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন বীর ঈশাখাঁর অনুকরণে মুকুট উপহার দেন। রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ করে মাঠে বরণ সঙ্গীত এবং নৃত্য পরিবেশিত হয়। সংবর্ধনা কমিটির সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা সভায় আরো বক্তৃতা করেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে এমপি আফজাল হোসেন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি সোহরাব উদ্দিন, মহিলা এমপি দিলারা বেগম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমএ আফজাল, পৌর মেয়র মাহমুদ পারভেজ, গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন, জেলা ন্যাপ সভাপতি অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হক খান রতন, জেলা সিপিবির সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, জেএসডি সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান, পাবলিক প্রসিকিউটর শাহ আজিজুল হক, বিসিবি পরিচালক সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম, রাষ্ট্রপতির দ্বিতীয় ছেলে রাসেল আহমেদ তুহিন, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, জাসদ সভাপতি নজরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার কামাল, জেলা যুবলীগ আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম বকুল ও জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শফিকুল গণি লিমন।

সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি সার্কিট হাউজে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এরপর তিনি শহরের খরমপট্টি এলাকার নিজ বাসায় রাত্রিযাপন করেন। মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতি সকাল সাড়ে ১১টায় জজকোর্ট প্রাঙ্গণে আইনজীবী সমিতির সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। এরপর তিনি পৌর এলাকার প্রয়াত ১৬ জন গণ্যমান্য ব্যক্তির বাড়িতে যাবেন। পরে তিনি সদর উপজেলা ও করিমগঞ্জ উপজেলার সীমানায় জয়কা এলাকায় একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষে সরেজমিন সম্ভাব্য জায়গা পরিদর্শন করবেন। নিজ বাসায় রাত্রিযাপন করে আগামীকাল বুধবার বিকাল ৩টায় রাষ্ট্রপতি হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।