৬৮ বছরেও ৩ জেলার ৮২৮ শিক্ষালয়ে নেই শহীদ মিনার

image

ভাষা আন্দোলনের ৬৮ বছর পার হলেও দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্মিত হয়নি শহীদ মিনার। নওগাঁর ৫৫০,পটুয়াখালির দশমিনার ২১৮, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার ৫৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভাষা শহীদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানাতে পারছেন না । প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে বিস্তারিত..

নওগাঁ

ভাষা আন্দোলনের দীর্ঘ ৬৮ বছর পরেও নওগাঁর ধামুইরহাট সরকারি কলেজসহ জেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো তৈরি করা হয়নি কেন শহীদ মিনার। শহীদ মিনার না থাকায় এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মহান ভাষা আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সম্পর্কে ধারণাও স্পষ্ট নয়। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোমলমতি অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা এ বিষয়ে কিছুই জানে না।

নওগাঁ জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এবং মাদ্রাসা মিলিয়ে জেলায় মোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৬৭১টি। এর মধ্যে শহীদ মিনার আছে ১২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার ১১টি উপজেলায় সরকারি, রেজিস্ট্রার্ড ও অন্যান্য মিলিয়ে মোট ১ হাজর ৩শ’৭৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর বিপরীতে শহীদ মিনার রয়েছে মাত্র ৪২টি।

শহীদ মিনার নেই এ রকম কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে দেখা যায়, অমর একুশে, ভাষা আন্দোলন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সম্পর্কে তাদের অনেকেই কিছুই বলতে পারেনি। এর মধ্যে যে কয়েকজন জানে তাও অস্পষ্ট।

এদিকে, জেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে সেগুলোও অযতœ আর অবহেলায় পড়ে আছে। ২১ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকার কারণে এবং প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যথাযথভাবে দিবসটি পালন না করায় অধিকাংশ শহীদ মিনারে ২১ ফেব্রুয়ারি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় না।

কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনারে স্থানীয় রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান মাঝে মধ্যে ফুল দিয়ে থাকে। তবে ভাষা আন্দোলন বা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কোন আয়োজন হয়না। ফলে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা সম্পর্কে কিছু শিখতে বা জানতে পারছে না।

সদর উপজেলার শিকারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র সাদিক সংবাদকে জানায়, ২১ ফেব্রুয়ারি এই দিবস কিসের জন্য তা সে জানে না। মহাদেবপুর উপজেলার ঘাসিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী মাহমুদা একুশে ফেব্রুয়ারি সম্পর্কে বলে তারা ওইদিন স্কুলে গিয়ে ফুল দেয়। তবে দিবসটির বিষয়ে সেও কিছু বলতে পারেনি। মান্দা উপজেলার গনেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ঝর্ণা পারভীন সংবাদকে বলেন, শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য সরকারি কোন ফান্ড না পাওয়ায় নির্মাণ করা যাচ্ছে না।

নওগাঁ সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার নাইয়ার সুলতানা সংবাদকে বলেন, সদর উপজেলায় ১৩৯টির মধ্যে ১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার আছে। আমি সদর উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা দিয়েছি। আশা করি মুজিব বর্ষের মধ্যে সদর উপজেলার সকল প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. মোবারুল ইসলাম ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমিনুল ইসলাম সংবাদকে জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার নির্মাণের বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই তার একটি তালিকা শিক্ষা প্রকৌশলীর মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে তবে এখনও কোন সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় শহীদ মিনার নির্মাণ করা যাচ্ছে না।

দশমিনা

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ২৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ১২টিতে শহীদ মিনার আছে। অধিকাংশ শহীদ মিনারই অনেকটাই জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। শুধুমাত্র মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সময়েই কেবল একটু পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে কোন মতে দিবসটি পালন করা হয়।

উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৪৫টি থাকলেও শহীদ মিনার আছে মাত্র ১টি। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩১টি থাকলেও শহীদ মিনার আছে মাত্র ১১টি। উপজেলায় দুইটি ডিগ্রী, একটি আলিম এবং ১৬টি দাখিলসহ মোট এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার সংখ্যা ১৯টি। এছাড়াও স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসা রয়েছে মোট ২৯টি। অথচ কোন প্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার নাই। এই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে যেতে হয় অন্য কোন বিদ্যালয়। অনেক সময় নিজস্ব প্রক্রিয়ায় অস্থায়ীভাবে কলা গাছ বা কলা গাছ সাদৃশ্য বস্তু দ্বারা তৈরি শহীদ মিনারে ফুল হাতে শ্রদ্ধা জানাতে হয়। উপজেলায় একটি বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলসহ গড়ে উঠেছে অনেক কিন্ডার গার্ডেন থাকলেও সেখানেও নাই কোন শহীদ মিনার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে, তাও পরে আছে অযতœ, অবহেলায়। গাছ গাছালির পাতাসহ ধুলা বালিতে একাকার হয়ে পড়ে মাসের পর মাস। নাই কর্তৃপক্ষের কোন তদারকি। জানা গেছে কোন কোন স্কুলে শহীদ মিনারের অভাবে বাঁশ বা কলা গাছ দিয়া তৈরি শহীদ মিনারে ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে গুটি কয়েক শিক্ষক/শিক্ষার্থী শ্রদ্ধা নিবেদন করলেও এক মাত্র শহীদ মিনারের অভাবে কোন কোনটিতে ভাষা দিবসের কোন আয়োজনই করা হয় না। কেউ কেউ প্রায় প্রতিবছর অতি উৎসাহী হয়ে দশমিনা উপজেলা সদরে আসেন দেখতে। তখন এখানকার নানা আয়োজন দেখে মনে মনে আফসোসও করেন অনেকে।

এই বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য এস.এম শাহজাদা সাজু এমপি বলেন, আমার মাত্র একটি বছর অতিবাহিত হয়েছে ক্ষমতা পেয়েছি। অপরদিকে উপজেলায় এতগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শহীদ মিনার শুন্য আমার জানাছিল। আশা করি আগামী দুই বছরের মধ্যে উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি করে স্থায়ী শহীদ মিনার করে দেয়ার ব্যবস্থা করে দেব।

দশমিনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে আমি চেষ্টা করব যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিদ্যালয়গুলোতে শহীদ মিনার করে দেয়া যায়।

দশমিনা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইকবাল মাহামুদ লিটন বলেন, উপজেলায় এতগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নাই, এটা শুনতেই বেমানান। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোড় দাবি জানাই যাতে উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি করে শহীদ মিনার স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হয়।

সাটুরিয়া

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ৮০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২১টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকলেও ৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। সাটুরিয়ার ইউএনও আশরাফুল আলম মুজিববর্ষে প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করার ঘোষণা করেছেন।

সাটুরিয়া উপজেলা প্রাথমিক অধিদফতর থেকে জানা গেছে, উপজেলার ৮০ বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৯টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। ২১টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনারে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়। যেসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই ওইসব বিদ্যালয়ে কলাগাছ, কাঠ ও মাটি দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ তরে ভাষা দিবস উদযাপন করে শিক্ষার্থীরা।

সাটুরিয়া উপজেলার একটি মাত্র সরকারি বালিয়াটি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়টি উপজেলা পরিষদ থেকে ৫ শত গজ দূরে। সেই বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। এই বিদ্যালয়ে আসা কয়েকজন অভিভাবকদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, প্রতিবছরই সিøøপের টাকা আসে বিদ্যালয়ে। ওই টাকা কোন খাদে খরচ হয় তার কোন হিসাব নেই। ওই টাকা দিয়েই তো শহীদ মিনার নির্মাণ করা যায়। এভাবে উপজেলা প্রতিটি বিদ্যালয়ে বছরে ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা সিøøপের টাকা আসে। তার আরও বলেন, আমাদের সন্তানরা অমর একুশ বা ভাষা শহীদ দিবস কি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা কি জানে না। তারা বলেন, শিক্ষকরা ক্লাসে বাংলা ভাষায় কথা বলে, বাংলা ভাষায় পড়া লেখায়। কিন্তু বাংলা ভাষা কিভাবে এলো সে বিষয়ে কোন জ্ঞান নেই শিক্ষকদের। আর শহীদ মিনার থাকলে ওই দৃশ্য দেখে স্যাররা আমাদের সন্তাদের বাংলা ভাষা কি শেখাতে পারত বলে জানান।

সাটুরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বলা হয়েছে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তির সহযোগিতা নিয়ে শহীদ মিনার করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। সরকারিভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করার কোন বাজেট না থাকায় স্কুলে শহীদ মিনার নির্মাণ করা যাচ্ছে না। তবে যেসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই সেসব বিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কলাগাছ, কাঠের তৈরি ফ্রেম ও মাটি দিয়ে তৈরি করা জায়গায় ভাষা দিবস পালন করে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে সাটুরিয়ার ইউএনও আশরাফুল আলম বলেন, চলতি মাসের ১০ তারিখে এক সভায় উপজেলার যেসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই সেইসব বিদ্যালয়ে মুজিব বর্ষে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে। এ বিষয়টি মুজিব বর্ষের একটি অংশ বলে তিনি জানান।

করোনা প্রতিরোধে সশস্ত্রবাহিনীকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাস্ক হস্তান্তর

image

ক্যাপ্টেন মাজেদের মৃত্যু পরোয়ানা জারি, অচিরেই রায় কার্যকর

image

করোনায় আক্রান্ত রোগীদের বহনে প্রস্তুত বিশেষ হেলিকপ্টার

image

বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদ লিবিয়া-পাকিস্তান ঘুরে ২৫ বছর ছিল কলকাতায়

image

ডিএমপিকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়

image

করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৪১

image

সরকারকে বিনামূল্যে ৫০০ ভেন্টিলেটর দিতে চায় টাইগার আইটি

image

হাসপাতালে ভর্তি না নেওয়ায় ক্যান্সার আক্রান্ত ঢাবি ছাত্রের বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু,ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী

image

যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ দিনে করোনায় ৮৬ বাংলাদেশির মৃত্যু

image