আওয়ামী লীগের কৌশলের কাছে বিএনপি কোণঠাসা

image

রাজনীতির মাঠে আওয়ামী লীগের কৌশলের কাছে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি এখন অনেকটাই কোণঠাসা। ক্ষমতাসীনদের মোকাবিলায় ‘কেন্দ্র থেকে তৃণমূল’- সবখানেই সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে বিএনপি। দলটির প্রধান দুর্নীতির দায়ে কারাগারে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা সাজা মাথায় দেশান্তরী। এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপিতে নেতৃত্বশূন্যতা বিরাজ করছে। অনৈক্যের কারণে দলটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা এখন রাজনীতির মাঠে অসহায়। এদিকে আওয়ামী লীগের দীর্ঘমেয়াদি (টানা এগার বছর) ক্ষমতা সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে গতি আনলেও সাংগঠনিক কোন্দলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দল। রাজধানীসহ সারাদেশের রাজনীতি এখন আওয়ামীকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। ক্ষমতার সুবিধা নিতে বিতর্কিত ও সুযোগসন্ধানীরা আওয়ামী রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন। বঞ্চিত হচ্ছেন ত্যাগী নেতারা।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে এগার বছরের বেশি ক্ষমতায় আছে দলটি। বিডিআর বিদ্রোহ, বিএনপির লাগাতার হরতাল ও আগুন-সন্ত্রাসসহ নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে টানা দুই মেয়াদ (নবম ও দশম) সরকার পরিচালনার পর তৃতীয় মেয়াদেও বহাল তবিয়্যতে আছে আওয়ামী লীগ। গত এক দশকে যোগাযোগ, বিদ্যুৎসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বেশকিছু মেগা প্রকল্প হাতে নিয়ে দেশকে উন্নয়নের পথে অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে গেছে আওয়ামী লীগ। দলটির লক্ষ্য, ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত, সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে রূপান্তর করা।

বিএনপি প্রধান (চেয়ারপারসন) বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তি আন্দোলন ইস্যুতে উত্তপ্ত বক্তব্য দিলেও রাজপথে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃশ্যমান সক্রিয়তা নেই। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থেকে মামলায় জর্জরিত বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ এখন নিজ নিজ বলয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আঁতাত করে সহাবস্থান করছেন। শীর্ষ নেতারা লোক দেখানো কর্মসূচি দিয়ে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। তবে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ স্থানীয় রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে- ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত, সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারের পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর জন্যও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সার্বক্ষণিক নির্দেশনা দিচ্ছেন তিনি। তবে এক দশকের বেশি ক্ষমতায় থাকার কুফলও আক্রান্ত করেছে আওয়ামী লীগকে। স¤্রাট, জিকে শামীম, খালিদ, পাপিয়ার মতো বিষফোঁড়াদের হাতে সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে। তাদের হাত ধরে ক্যাসিনোকাণ্ড দুর্নীতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সন্ত্রাসী, ক্যাসিনো ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, টাকা পাচারকারী, মাদক ব্যবসায়ী ছাড়াও বিএনপি-জামায়াত ঘরানার অনুসারীদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। অনুপ্রবেশকারীদের অনেকেই নিজ নিজ বলয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পদ-পদবী বাগিয়ে নিয়ে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের কোণঠাসা করেছে।

কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতা, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী পর্যায়ের কারও কারও বিরুদ্ধে এসব অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা দেয়া এবং পৃষ্ঠপোষকতা করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় অপকর্ম দিন দিন বেড়েছে। অনুপ্রবেশ থামাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সক্রিয়তার অভাবে শীর্ষ নেতা শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়েছে। শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে তিনি দলের ‘বিষফোঁড়া’ পরিষ্কার করার কাজ শুরু করেছেন, যা অব্যাহত আছে।

আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোতে স্বচ্ছতা ও গতি ফিরিয়ে আনতে নেতৃত্বে নতুন মুখ উপহার দিয়েছেন। বাদ পড়েছেন ওমর ফারুক চৌধুরী, পঙ্কজ নাথ, মোতাহার হোসেন, মোল্লা কাওছারের মতো প্রভাবশালী রাজনীতিকরা। দুর্নীতির কারণে ছাত্রলীগ থেকে শোভন-রাব্বানীকে বাদ দিয়েছেন তিনি। তবে গত ডিসেম্বরে দলটির ২১তম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে অধিকাংশ জেলায় সম্মেলন না করেই। দলীয় প্রধান বিষয়টি উল্লেখ করে কাউন্সিলের পরে দ্রুত এসব মেয়াদোর্ত্তীণ জেলায় সম্মেলন করার নির্দেশ দিলেও এখনও তা সম্পন্ন করতে পারেননি দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতারা। ৭৮টি জেলার মধ্যে ৪৭টি সাংগঠনিক জেলায় এখনও সম্মেলন হয়নি। যেগুলো চলছে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূলে ব্যাপক কোন্দলের কারণেই বেশিরভাগ জেলা সম্মেলন করা সম্ভব হচ্ছে না। কেন্দ্রীয়ভাবে কমিটি গঠন করা হলে তৃণমূল তাতে আস্থা রাখবে কিনা এ বিষয়ে সংশয়ে আছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টানা এক দশক ক্ষমতায় থাকায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। একমাত্র সভাপতি পদ ছাড়া, দলটির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল, সর্বস্তরে নেতৃত্বের কোন্দল বিরাজ করছে। শীর্ষনেত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ ছাড়া কেউ কারও নির্দেশ মানতে চায় না। কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে ‘চেইন অব কমান্ড’ ভেঙে পড়েছে। আওয়ামী লীগের সবাই এখন নেতা হতে চায়।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতা সংবাদকে বলেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগে যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের অনুপ্রবেশ সাধারণভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। বড় অঙ্কের অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমেই এটি বাস্তবায়ন হয়েছে। কারণ ঐতিহ্যবাহী দল আওয়ামী লীগে যুগ যুগ ধরে গ্রাম-ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি রয়েছে। হঠাৎ করে এই দলের কোন স্তরে ঢুকার সুযোগ নেই। তার মতে, অনুপ্রবেশ যাদের মাধ্যমে ঘটেছে তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেয়ার নজির সৃষ্টি করা হলে, দলে সাংগঠনিক ভারসাম্য ফিরে আসবে।

তবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অস্থিরতার সুযোগ নিতে পারছে না বিএনপি। ২০১৪ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দলটি। ওই নির্বাচনের আগে ও পরে আন্দোলনের নামে লাগাতার হরতাল, আগুনসন্ত্রাস করে জনসমর্থন হারানো দলটি এখন অনেকটাই চুপসে গেছে। এখন দলীয় প্রধানের মুক্তির জন্য রাজপথে বিক্ষোভ, হরতালের মতো কর্মসূচি দিয়ে তার ছিটেফোঁটাও বাস্তবায়ন করতে পারছে না বিএনপি। এই পরিপ্রেক্ষিতে রাজনীতির ফাঁকা মাঠে একের পর এক গোল করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ।

জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে : ওবায়দুল কাদের

image

চলতি সপ্তাহে করোনা নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ জানাবে বিএনপি

image

ক্ষমতাসীনরা দেশকে মগের মুল্লুকে পরিণত করেছে : রিজভী

image

করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিএনপির ১০ সাংগঠনিক সেল

image

করোনায় সরকার গার্মেন্টস-দোকানপাট খুলে দিয়ে গণসংক্রমণের সুযোগ করে দিয়েছে: রিজভী

image

রিলিফে অস্বচ্ছতা থাকলে যে কেউ সত্যটি তুলে ধরতে পারে: ওবায়দুল কাদের

image

ডিজিটাল নিরাপত্তা নামের গণবিরোধী আইন বাতিল করতে হবে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কেবল সরকারকে

করোনায় ৯০ লাখ ২৫ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে আওয়ামী লীগ

image

ঢাকা-৫ এর সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লার ইন্তেকাল

image