ঢাকা-৫ : সরেজমিন

করোনাকালীন ঘটনাবহুল নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম

ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনে শনিবার (১৭ অক্টোবর) ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। কোথাও ভোটারদের লম্বা লাইন চোখে পড়েনি। বেশিরভাগ কেন্দ্রেই দিনভর অলস বসেছিলেন ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। সরকারি ও বিরোধীদলের বিভিন্ন মন্তব্য এবং কর্তব্যরত সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা ও অসহযোগিতা লক্ষ করা গেছে ঘটনাবহুল এ উপনির্বাচনে। সরেজিমন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় অনেকেই ভোট দিতে যাননি। আবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীই জয়লাভ করবে, এমন ধারণায় সাধারণ মানুষ ভোট দেয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের জটলা একেবারেই ছিল না। তবে কেন্দ্রগুলোর আশপাশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উৎসবমুখর পরিবেশে অবস্থান করেছেন।

মহিলা ভোটার উপস্থিতি ছিলো কম : শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় রাজধানীর উত্তর যাত্রাবাড়ীর শহীদ জিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের কোন লাইন নেই। ভিতরে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা অলস সময় পার করছে। এই কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৫ হাজার ৭৮৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ হাজার ২৬১ জন ও মহিলা ভোটার ৩ হাজার ৫২৪ জন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ কেন্দ্র ভোট পড়েছে ৭ শতাংশ। কেন্দ্রে মহিলা ভোটার ছিল না বললেই চলে। দুপুর ২টায় উত্তর যাত্রাবাড়ীর সবুজ বিদ্যাপিঠ উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা একই অবস্থা। ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবেই কম। পুরুষ ভোটারে তুলানায় মহিলা ভোটার উপস্থিতি কমছিল। মহিলা কেন্দ্রর ১ নম্বর বুথে মোট ভোটার ছিল ৪০২টি, দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে মাত্র ১০টি। ২ নম্বর বুথে ৪০২টি ভোটের মধ্যে ভোট দিয়েছে ১৫ জন। ৩ নম্বর বুথে ৪০২টি ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছে ৭ জন। দুপুর ২টা পর্যন্ত এই কেন্দ্রে মহিলা ভোটারে গড় উপস্থিতি ছিল ৩ শতাংশ। এ বিষয়ে সবুজ বিদ্যাপিঠ উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরুষ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার স্বজন কুমার বিশ^াস সংবাদকে বলেন, উত্তর যাত্রাবাড়ীর পুরুষ ভোটারের ৮টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩৪৭৩ জন। দুপুর ১টা পর্যন্ত ২৪০টি ভোট কাস্ট হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের কাজ সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ করা। ভোটার উপস্থির দায়িত্ব আমাদের না। এটা সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থী ও কর্মীদের কাজ। করোনার কারণে ভোটার উপস্থিতির কিছুটা কম হতে পারে।

এদিকে ভোট কেন্দ্রেগুলো আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট দেখা গেলেও বিএনপিসহ অন্য কোন প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট দেখা যায়নি। এ বিষয়ে সবুজ বিদ্যাপিঠ উচ্চ বিদ্যালয়ের কাওসার নামের নৌকার একজন পোলিং এজেন্ট সংবাদকে বলেন, ভোট গ্রহণ শুরুর আধ ঘণ্টা আগে ৩ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করেছি। সকাল ৯টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। দুপুর ২টা পর্যন্ত ধানের শীষের কোন পোলিং এজেন্ট দেখলাম না। এছাড়া জাতীয় পার্টির কোন এজেন্ট দেয়া হয়নি। ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার কারণ জানতে চাইলে সিরাজ মিয়া নামের নৌকা মার্কার অপর এক পোলিং এজেন্ট সংবাদকে বলেন, অন্যান্য নির্বাচনের সময় নির্বাচন এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এবার উপনির্বাচনে এটা করা হয়নি। তাই অনেকেই কাজকামে চলে গেছে। এছাড়া করোনাভাইরাসের ভয় তো আছেই। তাই ভোটার সংখ্যা কিছুটা কম। তবে মহিলা থেকে পুরুষ ভোটারের উপস্থিতি বেশি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ভোটকেন্দ্রের বাইরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুদি দোকানদার বলেন, ভোট দিয়ে কি লাভ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। তারাই আবার ক্ষমতায় আসবে। উপনির্বাচনে এই ভোট নামেমাত্র আয়োজন। যে জিতবে সে তো জিতেই আছে। তাই ভোটের প্রতি এখন মানুষের আগ্রহ কমে গেছে। কারণ ভোট দিলেও নৌকার জয় হবে। না দিলেও নৌকাই হবে। হোসেন নামের জাতীয় পার্টির এক কর্মী বলেন, জাতীয় পার্টি তো সরকারের সঙ্গে আছে। তাই ঢাকা-৫ আসনে উপনির্বাচনে লাঙ্গল তো নৌকাকে সঙ্গ দেয়ার জন্য দাঁড়িয়েছে। তাই অনেকে কেন্দ্র জাতীয় পার্টির এজেন্ট দেয়া হয়নি।

যাত্রাবাড়ী আাইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মহিলা কেন্দ্রে সকাল ৯টা হতে দুপুর ১টা পর্যন্ত ১৮৭৭ ভোটারের মধ্যে ১৭-১৮ জন ভোট দেন। প্রিজাইডিং অফিসার বলেন, হয়ত বিকেলে আরও ভোটার আসবে। এখানকার পুরুষ ভোটাকেন্দ্রগুলোর একটির প্রিজাইডিং অফিসার মো. শাহেদুল আলম বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এ কেন্দ্রে সাড়ে তিন হাজার ভোটের মধ্যে ১২০টি ভোট পড়েছে। যাত্রাবাড়ী আাইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অপর কেন্দ্রগুলোরও একই অবস্থা। এখানকার মোট ১২৭৭০ ভোটের মধ্যে ৫২২টি ভোট পড়ে।

দুপুর দুইটা পর্যন্ত ধলপুর কমিউনিটি সেন্টারের ৩২৯৪ ভোটের মধ্যে ভোট পড়েছে মাত্র ২০০টি। দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত যাত্রাবাড়ী প্রাইমারি স্কুল কেন্দ্রে ৩৪৩৯ ভোটের মধ্যে ভোট পড়েছে মাত্র ৩০০টি। একই সঙ্গে অন্য কেন্দ্রগুলো যেমন- দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, অগ্রদূত বিদ্যানিকেতন হাইস্কুলে ভোটার স্বল্পতা চোখে পড়ার মতো। এসব কেন্দ্রে ভোটার স্বল্পতা থাকলেও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভিড় ছিল প্রচুর। তারা কেন্দ্রের প্রবেশ মুখে এবং কেন্দ্রের ভিতরে গলায় কাজী মনিরুল ইসলামের কার্ড ঝুলিয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগের প্রাথী কাজী মনিরুল ইসলাম যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, তার জয় নিশ্চিত। তবে কাজী মনিরুল এই আসনের ভোটার নয় বিএনপির প্রার্থীর এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মনিরুল যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের ভোটার কিনা এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা অনুসন্ধান করতে যায়। এ সময় পুলিশ ও আনসার সদস্যরা চ্যানেল আই’র সিনিয়র সাংবাদিক সোমা ইসলামসহ অন্যান্য সাংবাদিকদের বাধা দেন। এপর সাংবাদিকরা প্রতিবাদ শুরু করলে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার হামিদুল ইসলাম তাদের কাছে ক্ষমা চান।

আপনি (কাজী মনিরুল ইসলাম ) এ আসনের ভোটার কিনা? পরে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মনিরুল বলেন, আমি ভোট দিয়েছি আপনারা দেখেছেন। অবশ্য কাজী মনিরুল ইসলামের ভোটদানকালে কোন মিডিয়াকর্মীকে নির্বাচন কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এরপর গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার হামিদুল ইসলাম বলেন, কাজী মনিরুল ইসলাম এ কেন্দ্রের ভোটার নন। তিনি এখানে ভোট দেননি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় বলেন, আমরা নির্বাচনকালীন পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু রাখতে চাইছি। কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা এখানে নেই। সবাই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিচ্ছেন। নির্বাচনে বিরোধীদলের পোলিং এজেন্টরা কোথায়? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তাদের পোলিং এজেন্টরা যদি কেন্দ্রে না আসে, সেক্ষেত্রে প্রশাসন কি করতে পারে। কোন পোলিং এজেন্টকে বের করে দেয়া হয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। এগুলো অপপ্রচার।

ওয়ারী থানার সহকারী উপ-কমিশনার (এডিসি) সাইফুর রহমান বলেন, এখানে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হচ্ছে, এখানে কাউকে বাধা দেয়া হচ্ছে না। মিডিয়াকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা কি দেখেছেন যে, এখানে কেউ ভোটদানে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সালাহ উদ্দিনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) অভিযোগ করতে হবে, তাই অভিযোগ করেন। এটা কোন কারণ ছাড়াই অভিযোগ।

করোনা প্রসঙ্গে স্থানীয় ভোটার আবদুর রহিম বলেন, তিনি ভোটকেন্দ্রে এলেও বাসায় শিশুদের কথা চিন্তা করে তার পরিবারের অন্য সদস্যদের ভোট দেয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে। শুধু আবদুর রহিম নয় আরও এ এলাকার সচেতন অনেক ভোটারই করোনাকালে ইসির ভোটের আয়োজনকে নেতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন।

রফিক-উল হককে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিএনপি

image

সাংগঠনিক ব্যর্থতা ঢাকতে বিএনপি মিথ্যাচার করে : ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মানবিক কারণে বেগম জিয়া জামিনে মুক্ত আছেন।

রাজনীতির মাঠে শুধুই আ’লীগ : ধুঁকছে বিএনপিসহ অন্যান্য দল

image

নারায়ণগঞ্জে মান্নার অনুষ্ঠানে হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর

image

বিএনপি জনরায়ের বিরুদ্ধে কর্মসূচি করছে : ওবায়দুল কাদের

image

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির মানববন্ধন

image

স্বৈরাচাররা ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য ময়েজউদ্দিনকে হত্যা করেছে

image

আমরা মধ্যবর্তীর কথা বলিনি, ফ্রেশ নির্বাচন চায় বিএনপি

image

সময় হলেই নির্বাচন : ওবায়দুল কাদের

সময় হলেই নির্বাচন হবে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘মধ্যবর্তী নির্বাচনের নামে মধ্যবর্তী টালবাহানার প্রয়োজন নেই। সময় হলেই নির্বাচন হবে, তখন জনগণই ঠিক করবে পরবর্তী সরকারে কে থাকবে।