দলের শক্তি বৃদ্ধি ও জনমতের ওপর গুরুত্বারোপ শেখ হাসিনার

image

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘দেশের উন্নয়নের ধারা’ অব্যহত রাখতে দলের সাংগঠিনক শক্তি বৃদ্ধির পাশপাশি জনমত যেন সরকারের পক্ষে থাকে সেদিকে নজর দিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। ১২ জুলাই শুক্রবার বিকেলে গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় তিনি এই নির্দেশ দেন।

বিগত দশ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ যেভাবে উন্নতির পথে এগিয়েছে, আগামী দিনে দেশের উন্নয়নে নেওয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সমর্থনের পাশাপাশি র্তণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করারও প্রয়োজনীয়তা সভায় তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। শোকের মাস আগস্টে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি, তৃণমূল পর্যায়ে দলকে আরো গোছানোসহ দলের নীতি নির্ধারণী বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় সভায়। সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগামী দিনে দেশকে কোথায় নিয়ে যাব সে পরিকল্পনাও আছে এবং সেটা ইতোমধ্যেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেই প্রস্তুতিটা আমাদের নিতে হবে। সেই পথগুলি আমাদের ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে হবে। বাধাগুলি অতিক্রম করতে হবে। তার জন্য সব থেকে বেশি প্রয়োজন সাংগঠনিকভাবে আমাদের দলকে যেমন শক্তিশালী করা, তেমনি জনমত সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, পাশাপাশি চিন্তা-চেতনাগুলিকে সমন্বয় করে প্রতি পদক্ষেপে আমরা যেন সুষ্ঠুভাবে পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে পারি, যা আমাদের চলার পথে যত বাধাই আসুক অতিক্রম করে আমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে বাংলাদেশকে একটি স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে রেখে গিয়েছেন। আমরা তারই পথ ধরে এগিয়ে গিয়ে আজকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি। তিনি বলেন, আমাদের চলার পথ কিন্তু খুব সহজ ছিল তা না। প্রতি পদে পদে বাধা। অগ্নিসন্ত্রাস, খুন, নির্যাতন অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে। তারপরেও আমরা কিন্তু এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি। আমরা যে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি সেটা ধরে রাখা। আর রাজনৈতিক শক্তিটা খুব বেশি প্রয়োজন, সংগঠন প্রয়োজন, জনগণের সমর্থন প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমরা আরও সামনে যেতে চাই। আমরা বাংলাদেশটাকে দক্ষিণ এশিয়ায় একটা উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়তে চাই। আমাদের উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত রেখেছি। এই বছরে কিন্তু কখনো আমরা হোঁচট খাইনি বা পিছিয়ে যাইনি। আবার হঠাৎ করে কিন্তু আমরা লাফ দেইনি। আমরা খুব স্থিরভাবে ধাপে ধাপে এগিয়ে এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছি। একটা নিয়মের মধ্য দিয়ে লক্ষ্য স্থির করে কাজগুলো যে করা সম্ভব সেটা আমরা প্রমাণ করেছি। সরকারের সমালোচনাকারীদের নিয়ে শেখ হাসিনা, এটাও ঠিক যে আমাদের দেশে কিছু লোক থাকেই কোনও কিছুই ভালো লাগে না। এই যে আমরা অর্থনৈতিকভাবে যতদূরই আগায় কিছু লোক সব সময় এটাকে ভিন্ন একটা চোখে দেখার অভ্যাস। এরা আসলে কখনো গণতান্ত্রিক ধারাটা চায় না। গণতান্ত্রিক ধারাটা হলে আমার মনে হয় যেন, তাদের মনে হয় দমবন্ধ, তারা মনে হয় নিঃশ্বাস নিতে পারে না-এ রকম একটা ভাব তাদের। দেশে অস্বাভাবিক একটা অবস্থা থাকলে তাদের খুব দাম বাড়ে বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, কাজেই দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটা অব্যাহত থাকুক সেটাই আমরা চাই।

দেশের বিভিন্ন খাতের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব কিছুর ব্যাপারেই আমরা যথেষ্ট সজাগ রয়েছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করার সেই সক্ষমতা বাংলাদেশের আছে। আমরা প্রতিনিয়ত খবর নিচ্ছি। যার যা দায়িত্ব সেটা দেয়া আছে। তারা সঙ্গে সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন বৃষ্টি হচ্ছে, বন্যা হচ্ছে, কোথাও নদী ভাঙ্গন হতে পারে বা পাহাড়ে ধস নামতে পারে। আমরা কিন্তু প্রতিনিয়ত সারা দেশে কোথায় কী ঘটছে, খবর নিচ্ছি। যেখানে যার যেটা দায়িত্ব, দেওয়া আছে। তারা সঙ্গে সঙ্গে সে দায়িত্ব পালন করছেন। এখানে এতটুকু শৈথিল্য নেই।

এ সময় ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের একটি ঘটনার কথা স্মরণ করেন শেখ হাসিনা। উপস্থিত ব্যক্তিবর্গকে সে কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘৯১ সালে যখন প্রবল ঘুর্ণিঝড় হয়, তখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। তারা জানেই না বড় একটা ঘূর্ণিঝড় হয়েছে, কত মানুষ মারা গেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, পার্লামেন্টে আমি বললাম, ঘুর্ণিঝড় হয়েছে; এত মানুষ তখন মারা গেছে। তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পার্লামেন্টে বলে দিলেন, যত মানুষ মরার কথা ছিল, তত মানুষ মরে নাই। আমি জিজ্ঞেস করতে বাধ্য হলাম, কত মানুষ মরলে আপনার তত মানুষ হবে বলেন; এ ছাড়া বলার মত কিছু ছিল না। কারণ, উনি জানেনই না। এই যে একটা দূর্যোগ আসলে সিগন্যাল দেওয়া হচ্ছে, কিচ্ছু জানেনই না।

দলের উপদেষ্টাদের ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে উপদেষ্টাদের আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার অনুরোধ করছি। আপনাদের সকলকে সক্রিয় হতে হবে। বিভিন্ন উপকমিটি করা আছে। আপনারা মিটিং, সেমিনার করছেন। সেটা অব্যাহত রাখেন।