বাজেট প্রত্যাখান করলো বিএনপি

image

জাতীয় সংসদে পাস হওয়া নতুন অর্থবছরের বাজেট একটি গতানুগতিক ও অবাস্তবায়নযোগ্য উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার উত্তরার বাসা থেকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই বাজেটটা কোনোমতেই বাস্তবায়নযোগ্য নয়। অর্থাৎ এতো আয় তারা কোত্থেকে করবেন সেটা তারা সুনির্দিষ্টভাবে বলেনি। রাজস্ব আয় যেটা বলেছেন, এটা একেবারেই সম্ভব নয়। কারণ গত বছরের সমস্ত অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে, ৫০ ভাগও তারা আদায় করতে পারেনি। এই বাজেট করোনাকালীন সময়ের বাজেট নয়। এটা হচ্ছে একটা প্রোটোটাইপ ব্যুরোক্রেটিভ একটা ফরমেটে ফেলে দিয়ে তারা এই বাজেট তৈরি করেছে। এই বাজেট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এই বাজেট ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। মহামারীর মধ্যে স্বাস্থ্য ও মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে এখন আপদকালীন একটা বাজেট সরকারের তৈরি করা উচিত ছিল। বাজেটে যেসব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে তা সার্বজনীন নয়। কর্মসূচিগুলো কিছু নির্দিষ্ট দল-গোষ্ঠিকে লক্ষ্য করে গৃহীত। এভাবে মূলত রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় গোষ্ঠীতন্ত্র লালন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মহামারীর কারণে অর্থনীতিতে দীর্ঘকাল যে মন্দা থাকবে তাতে মানুষের আয় ও অভ্যন্তরীণ ভোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে রাজস্ব আয়ে চরম ঘাটতি তৈরি হবে। এই ঘাটতি গিয়ে ঠেকবে প্রায় ৪ লক্ষ কোটি টাকায়। ঘাটতি মেটানোর জন্য সরকারের মূল পদক্ষেপ হবে ঋণ করা। বাজেটেই উল্লেখ করা হয়েছে ব্যাংক থেকে নেওয়া হবে ৮৫ হাজার কোটি টাকা যেটা শেষ পর্যন্ত দ্বিগুণে গিয়ে দাঁড়াবে। ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের এই অকল্পনীয় পরিমাণ টাকা ধার করার ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ একেবারে শূণ্যের কোঠায় চলে আসবে যা, কর্মসংস্থানের পথ একেবারেই বন্ধ করে দেবে। তার ফলে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি তৈরি হয়ে সামষ্টিক অর্থনীতি প্রচন্ড দুর্বল হবে, যার ফল হবে মারাত্মক।

এই বাজেট প্রত্যাখ্যান করে দল থেকে কোনো কর্মসূচি দেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রতিবাদ কর্মসূচি নির্ভর করে সময় ও কালের উপরে। এখন যে সময়টা চলছে এ সময়ে কোনো কর্মসূচি দেওয়াটা খুবই কঠিন। আমরা তো আমাদের বক্তব্য বলে যাচ্ছি। আমাদের নেতা-কর্মী তাদেরকে বাঁচানোটা আমাদের দায়িত্ব। ইতিমধ্যে আমাদের প্রায় ৭৬ জনের বেশি নেতা-কর্মী মৃত্যুবরণ করেছেন। আমাদের অসংখ্য কর্মী আক্রান্ত হয়েছে। এমন কোনো কর্মসূচি আমরা করব না সেখানে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মোবাইল ফোন সেবার ওপর কর না কমানোয় এবং করোনাভারাইস সংক্রামণ শনাক্তকরণে পরীক্ষায় ফি নির্ধারণের সমালোচনাও করেন তিনি।