বিএনপি-জামায়াত ক্যাডারদের অনুপ্রবেশ দশ লাখ টাকায় যুবলীগের সদস্য

image

অর্থের বিনিময়ে পদ বিক্রি এবং অনুপ্রবেশকারীদের কারণেই চরম বিতর্কের মুখে পরেছে আওয়ামী লীগের অন্যতম শক্তিশালী অঙ্গসংগঠন ‘আওয়ামী যুবলীগ’। মোটা অংকের টাকা ও তদবিরের মাধ্যমে যুবলীগের বিভিন্ন পদ বাগিয়ে নিয়েছিল বিএনপি-জামায়াতের সুবিধাবাদী নেতারা। যুবলীগে এদের অনুপ্রবেশের কারণেই চরম বিতর্কের মুখে পরেছে আওয়ামী লীগের এই সহযোগী সংগঠনটি। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি, নগর কমিটি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটির বিভিন্ন পদ অনেক সময় বিক্রির অভিযোগ ওঠে।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদকে বলেন, ‘যুবলীগের সদস্য পদ পেতেই নূন্যতম ১০ লাখ টাকা ব্যয় করতে হয়। কমিটি গঠনের দায়িত্বে থাকা অনেক নেতাকেই মোটা অংকের টাকা দিতে হয়। যুবলীগের মাঠ পর্যায়ের কমিটিতে টাকা ছাড়া স্থান পাওয়া বিরল ঘটনা। লাখ লাখ টাকা দিয়েই যুবলীগে অনুপ্রবেশ ঘটেছে বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডারদের।’

অবৈধভাবে ক্যানিসো চালু, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে গ্রেফতার হওয়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া এক সময় ফ্রিডম পার্টির নেতা ছিল। বিপুল অংকের অবৈধ অর্থসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তাহে আটক যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক জিকে শামীমও বিএনপি’র নেতা ছিলেন। বিগত চারদীয় জোট সরকারের শাসনামলে জিকে শামীম ছিলেন ঢাকা মহানগর যুবদলের সহ সম্পাদক এবং বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের ঘনিষ্ট ক্যাডার।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মহানগর আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদকে বলেছেন, ‘ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে অর্থের লোভ ও বিভিন্ন মহলের তদবিরকে প্রাধান্য দিয়ে কমিটি গঠনের কারণেই বিতর্কের মুখে যুবলীগ। এদের কালো টাকা ও ক্ষমতার দাপটে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী অন্যান্য সংগঠনের নিরীহ কর্মীরা কোনটাসা। এজন্য এখন সভা-সমাবেশ আহবান করা হলেও সমাজের অপেক্ষাকৃত ভালো লোকজন আসতে চান না।’ ওই নেতা আরও জানান, ‘শুধুমাত্র যুবলীগ নয়- আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিগুলোরও একই অবস্থা। দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন নেতাকর্মীরা কষ্টকর জীবনযাপন করছেন। আর অনুপ্রবেশকারীরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন।’