বিএনপির গঠন ও রাজনীতি মানুষের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত : তথ্যমন্ত্রী

image

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বরেছেন, বিএনপি গঠিত হয়েছে জিয়াউর রহমানের রক্তে রঞ্জিত হাতে। মানুষের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বিএনপি গঠন করা হয়েছে। বিএনপির রাজনীতি মানুষের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ৩১ আগস্ট শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা পরিষদের উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। পরিষদের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার জাকির আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার ও এমএ করিমসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

ড. হাছান বলেন, জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে ক্ষমতাকে নিষ্কণ্টক করার জন্য একহাজার ৬০০ সেনাসদস্যকে হত্যা করেছেন। সেনাবাহিনীর অনেক সদস্য ছুটিতে ছিলেন, তাদের ডেকে পাঠিয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অথচ তারা জানতেও পারেননি তার অপরাধ কী। সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনীর কযয়েক হাজার সদস্যকে হত্যা করেছেন স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান। যে বিএনপি মানুষের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তারা আবার বড় বড় কথা বলছে কী করে?

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের এই প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বলেন, ২০১৪-১৫ সালে পেট্রোল বোমা কারা নিক্ষেপ করেছে? পেট্রোল ও বোমা হামলায় এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এ সময় প্রায় ৪ হাজার গাড়ি পুড়িয়েছে, ৩০টি লঞ্চে আগুন দিয়েছে, ৫০০ স্কুল পুড়িয়ে দিয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন দিয়েছে, ৩০টি সরকারি অফিসে অগ্নিসংযোগ করেছে। যারা এভাবে মানুষ হত্যা করে তাদের এমন বক্তব্য রাখার কোনো অধিকার নেই। শুধু বিএনপি নয়, বিএনপির প্রশ্রয়ে জঙ্গিরাও বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে নানা সময় অনেক মানুষ হত্যা করেছে।

তিনি বলেন, এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও অগ্নিসন্ত্রাসে বিএনপি নেতারা হুকুমের আসামি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর- আপনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং মহাসচিব হওয়ার পর আপনার নেতৃত্বে এসব হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি একটি কমিশন গঠন করে এসব ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা উচিৎ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পেছনে শুধুমাত্র গুটিকয়েক সেনাসদস্য জড়িত ছিল না। যারা বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের কুশীলব ছিল তার মধ্যে অন্যতম প্রধান জিয়াউর রহমান। কর্নেল ফারুক, রশীদরা যখন জিয়াউর রহমানের কাছে গেলো তখন জিয়াউর রহমান বলেছিল আমি সিনিয়র অফিসার তাই সরাসরি যেতে পারি না, গো অ্যাহেড। জিয়াউর রহমান যদি এই হত্যাকান্ড ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত না থাকতেন তাহলে হত্যাকান্ডের পর সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যেতেন এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন। তিনি সেটা করেননি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের এক সপ্তাহ পর জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন বিশ্বাসঘাতক খন্দকার মোশতাক। তাই জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের অন্যতম প্রধান কুশীলব।