সংক্রমণ কম দেখাতে পরীক্ষা কম করাচ্ছে সরকার : রিজভী

image

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, এখন করোনার নমুনা পরীক্ষাও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কয়েকদিন আগে ১৫/১৬ হাজার মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছিল। এখন তা ১১/১২ হাজারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ নমুনা পরীক্ষা প্রায় ৪/৫ হাজারে কমে গেছে। এর অর্থ সরকার জবরদস্তিমূলকভাবে করোনা সংক্রমণ কম- এটি জনগণকে দেখানোর জন্য করোনা পরীক্ষার নিয়ন্ত্রণ করছে। মঙ্গলবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

রুহুল কবির বলেন, করোনাকালে সরকার গণমাধ্যমের গলায় ফাঁস পরিয়ে রাখলেও তারপরেও যতোটুকু সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে, তাতে সরকারি দলের লোকদের দুর্নীতির কাহিনী শুনলে গা শিওরে ওঠে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে চুক্তিবদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার রিজেন্ট হাসপাতালে করোনার সঠিক পরীক্ষা না করে হাজার হাজার মানুষদের দেওয়া হয়েছে করোনা পরীক্ষার ভুল রিপোর্ট। যার পজেটিভ তাকে দেওয়া হয়েছে নেগেটিভ, আর যার নেগেটিভ তাকে দেওয়া হয়েছে পজেটিভ রিপোর্ট। এভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে হাসপাতালটি।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, করোনার এই সংকটেও আজগুবি তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করছে বিএনপি। পূর্ণিমার রাতেও বিএনপি অমাবস্যার অন্ধকার দেখতে পায়। বিএনপি জাতিকে বিভ্রান্ত করছে না বরং জাতির সামনে প্রতিনিয়ত সঠিক তথ্য তুলে ধরছে বিএনপি। নিষ্কর্মার ঢেঁকি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অযোগ্যতা ও তার আত্মীয়-স্বজন এবং ক্ষমতাসীনদের সিন্ডিকেটের দুর্নীতির কারণে স্বাস্থ্য সেক্টর ভেঙে পড়েছে। করোনাসহ কোনো রোগেরই চিকিৎসা পাচ্ছে না মানুষ। করোনার টেস্ট না করিয়েই দেয়া হচ্ছে করোনার রিপোর্ট। বিনা চিকিৎসায় পথে ঘাটে মারা যাচ্ছে মানুষ। কবরস্থানে লাশ দাফনের জায়গা নেই। এখনো সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসায় ১০০ টাকার মধ্যে ব্যক্তির পকেট থেকে ব্যয় হয় ৬৬ টাকা। আর বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গেলে তো ঘটি-বাটি, সহায়-সম্পদ সব খোয়াতে হয়।

তিনি বলেন, সরকার চিকিৎসার মতো মানুষের একটি মৌলিক অধিকারকে অগ্রাহ্য করে মেগা প্রজেক্ট নিয়েই ব্যস্ত আছে। মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্নটি সরকারের কাছে কোনো মূল্য নেই। যারা জনগণের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে তারা জনগণের মৌলিক চাহিদাগুলোকে কখনই আমলে নেবে না। তারা কালাকানুন দিয়েই জনগণকে বন্দী রেখে এক মনুষ্যত্বহীন কর্তৃত্ববাদী শাসনকে টিকিয়ে রাখতে চাইবে।

###