সমঝোতা ছাড়াই সংলাপ শেষ

image

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে শুরু হওয়া ঐক্যফ্রন্ট এবং ১৪ দলের সংলাপ সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে গত ১ নভেম্বর শুরু হওয়া এই সংলাপ বুধবার ৭ নভেম্বর শেষ হয়। চলমান সংলাপে সাতটির বেশি রাজনৈতিক জোটের এবং জোটের বাইরে থাকা মোট প্রায় একশ’ দল অংশ নেয়। জাতীয় পার্টিসহ কয়েকটি দল বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে আস্থা প্রকাশ করলেও ক্ষমতাসীনদের প্রধান প্রতিপক্ষ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও তার শরিক বিএনপি আস্থা রাখতে পারেনি।

নির্বাচন সংক্রান্ত নানা বিষয়ে মতবিরোধের মধ্যে ড. কামাল হোসেনের উদ্যোগে বিএনপিকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ডাকে সাড়া দিয়ে তাদের গণভবনে সংলাপে আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সঙ্গে সংলাপের প্রথম দিনের আলোচনায় সমঝোতা বা সমাধানে না পৌঁছাতে পেরে সংলাপের শেষ দিন দ্বিতীয় দফায় আলোচনায় বসে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তবে সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয় সংলাপ।

আওয়ামী লীগ বলছে, সংবিধানের মধ্যে থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সব দাবি মেনে নিতে প্রস্তুত তারা। তবে যেসব দাবি সংবিধানসম্মত নয় সেগুলো মেনে নেয়ার কোন সুযোগ নেই। সব বিষয়ে সমঝোতা না হলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নেবে বলে আশা প্রকাশ করে ক্ষমতাসীনরা। দ্বিতীয় দফায় সংলাপে অংশ নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ৭ দফা নিয়ে আরও সংলাপের (আলোচনা) প্রস্তাব দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঐক্যফ্রন্টের এই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার দুপুরে সংলাপ শেষে গণভবনে বলেন, সংলাপ শেষ, এখন নির্বাচনী প্রক্রিয়াও চলবে, আলোচনাও চলবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচনে আসার জন্য অনুরোধ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বলেছেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন করে দেখিয়ে দেবেন এবং তিনি যা বলেছেন সেটাই সত্য ওবায়দুল কাদের বলেন, ঐক্যফ্রন্ট সাত দফা দাবি দিয়েছেন- বেশির ভাগই মেনে নিতে আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মত হয়েছেন। কিন্তু আজকে তারা এমন কিছু বিষয় নিয়ে এসেছেন, ‘সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান’- এটা জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার বাহানা। তিনি বলেন, নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে ফাঁকফোঁকর তুলে দেয়া হচ্ছে, যেখান দিয়ে তৃতীয় কোন অপশক্তি এসে, এক-এগারোর মতো কোন ঘটনার, অনভিপ্রেত-অস্বাভাবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে। আমরা সেটাই মনে করছি।

দ্বিতীয় দফা সংলাপ শেষে বুধবার বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডে নিজ বাসায় সংবাদ ব্রিফিংয়ের শুরুতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন লিখিত বক্তব্যে বলেন, সাত দফা নিয়ে সীমিত পরিসরে আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া সারাদেশে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা প্রত্যাহার ও ভবিষ্যতে আর মামলা দায়ের না করা এবং নেতাকর্মীদের গ্রেফতার না করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। রাজনীতি কোন দিকে যাচ্ছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, আমরা তো চেষ্টা করে যাচ্ছি যে একটা স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে সবকিছু হোক। দায়িত্ব তো সরকারের, বল সরকারের কোর্টে।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা আন্দোলনে আছি। কাল রাজশাহীতে সমাবেশ হবে। সংলাপ আমাদের আন্দোলনেরই অংশ। যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। সরকার যদি তা না চায়, তার দায়ভার তাদের। আমরা আমাদের দাবিগুলো নিয়ে জনগণের কাছে যাচ্ছি। মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, সরকারের কাছে আরও আলোচনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আলোচনা ফলপ্রসূ কি না, সেটা জনগণই ঠিক করবে।

সংলাপ শেষে গণভবনে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের আরও বলেন, ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ১০ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি তুলেছেন; এটা সংবিধানসম্মত নয়। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা সংবিধানের বাইরে যাব না, এটা আমরা পরিষ্কার করে বলে দিয়েছি। ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, বিদেশি পর্যবেক্ষক, রাজবন্দীদের মুক্তি এসব বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এসব দাবি মেনে নিতে আওয়ামী লীগের কোন আপত্তি নেই। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন এগুলো করবে।

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, তফসিলের পর মন্ত্রীরা নিজের এলাকায় জাতীয় পতাকা ব্যবহার করবেন না, সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেবেন না, সার্কিট হাউজ ব্যবহার করবেন না, সরকারি গাড়ি ব্যবহার করবেন না। কোন প্রকার সরকারি সুযোগ সুবিধা ব্যবহার হবে না।

সেনাবাহিনীর বিচারিক ক্ষমতা প্রসঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের দাবির বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, পৃথিবীর কোন গণতান্ত্রিক দেশে এ ধরনের নিয়ম চালু নেই। নির্বাচনে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় জন্য, যখনই, যেখানে চাওয়া হবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী নিয়োজিত থাকবে।

বেগম খালেদা জিয়ার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঐক্যফ্রন্টের নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে জামিন চেয়েছেন, তারা ওইভাবে মুক্তি চাননি। তারা কিন্তু প্যারোল বলেননি। ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার মামলা তো এই সরকার করেনি। এটা করেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এখন খালেদা জিয়ার জামিন বা মুক্তির বিষয় আদালতের ব্যাপার।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে আসবে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা তো আশাবাদী। যখন একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যাপারে আমাদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দলনেতা পরিষ্কারভাবে তাদের বৈঠকে এবং ব্যক্তিগতভাবে বলেছেন যে, আসুন আমি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চাই। এ ব্যাপারে সহায়তা করুন। তাদের তো নমনীয়ই মনে হলো। ওবায়দুল কাদের জানান, রাতে (বুধবার) আরও ২৫টি দলের সঙ্গে সংলাপ হবে। সংলাপে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে আমাদের দলনেতা, আমাদের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে এই কয়দিনের সংলাপে যেসব বক্তব্য এসেছে, এগুলো নিয়ে তিনি আমাদের অবস্থান-আমাদের বক্তব্য জানাবেন।

ঐক্যফ্রন্ট কঠোর কর্মসূচিতে গেলে আওয়ামী লীগ কী করবে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা বলেছেন, তারা কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন, রোডমার্চ করবেন; এগুলোকে আমরা অগণতান্ত্রিক ভাবি না। তবে পদযাত্রা আর রোডমার্চ করতে গিয়ে যদি বোমাবাজি করে বা জ্বালাও-পোড়াও করে, সেই পরিস্থিতে আমরা বসে থাকব না।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ সংলাপ শেষে গণভবন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধান পরিপন্থী ও সাংঘর্ষিক কিছু বক্তব্য তারা নিয়ে এসেছে, যেটা গ্রহণযোগ্য না। সংলাপ এখানে শেষ। তফসিল ঘোষণার পর তারা যদি কোন ব্যাপারে আবার বসতে চান, আপত্তি নেই।

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, দুই পক্ষই নিজেদের দাবিতে অনড়। কোন ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি। ঐক্যফ্রন্ট আবারও সংলাপের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনা মনপূত হয়নি। সংলাপে কোন সমাধান আসেনি।

বুধবার দ্বিতীয় দফা সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন গণফোরাম সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। প্রতিনিধিদলে ছিলেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হো?সেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আসম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধু?রী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, দলের উপদেষ্টা এসএম আকরাম, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।

সংলাপে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিনিধিদলে ছিলেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিম-লীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মণি, দফতর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, আইন বিষয়ক সম্পাদক শ.ম রেজাউল করিম, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে চলমান সংলাপে অংশ নিতে গণভবনে আমন্ত্রণ পায় বিকল্পধারা, জাতীয় পার্টিসহ দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল। গত ১ নভেম্বর শুরু হয়ে বুধবার ৭ নভেম্বর (বুধবার) শেষ হয়। প্রথম দিন বৃহস্পতিবার ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, দ্বিতীয় দিন শুক্রবার বিকল্পধারার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট, তৃতীয় দিন রোববার কেন্দ্রীয় ১৪ দল, চতুর্থ দিন সোমবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোট, পঞ্চম দিন মঙ্গলবার দুপুরে ইসলামী জোট, সন্ধ্যায় বাম গণতান্ত্রিক জোট এবং ষষ্ঠ ও শেষ দিন বুধবার সকালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে (দ্বিতীয় দফা) এবং সন্ধ্যায় আরও প্রায় ২৫টি দলের সঙ্গে সংলাপ করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল।

এখন নালিশই বিএনপির অবলম্বন : কাদের

image

এমিলির মন্ত্রিত্ব মুন্সীগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা

image

ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত প্রার্থীরা শপথ গ্রহন করবেন : ১৪ দলের আশা প্রকাশ

image

বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা-কল্পনা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির পর দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

নেতাদের ভুলে বিএনপির ভরাডুবি : কাদের

image

নির্দলীয় সরকারের অধীনে পুনঃনির্বাচন এর দাবি ঐক্যফ্রন্টের

image

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি কোনো ধরনের প্রতিহিংসা না দেখানোর আহ্বান কাদেরের

image

বিএনপি প্রার্থী সালাউদ্দিন আহমেদের উপর হামলা

image

ভোলার ৩টি আসনে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

ভোলার ৩টি সংসদীয় আসনে বিএনপির ৩ হেভিওয়েট প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিম, মেজর (অব.) হাফিজ