অনায়াসে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

image

সহজ জয়ের ভিত গড়া দুই ওপেনার ইমরুল ও লিটনের রান নেয়ার মুহূর্ত -সংবাদ

শতরানের কাছে পৌঁছেও অযথা শট খেলতে গিয়ে সেঞ্চুরি করার সুযোগ হাতছাড়া করলেও জয়ের শক্ত ভিত গড়তে ভুল করেননি বাংলাদেশের দুই ওপেনার লিটন কুমার দাস ও ইমরুল কায়েস। টানা দুই ম্যাচে ‘গোল্ডেন ডাক’ মেরে আউট হয়েছেন জিম্বাবুয়ে সিরিজেই ওডিআই অভিষেক হওয়া ফজলে মাহমুদ। তাতে অবশ্য জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করে নেয়া আটকায়নি টাইগারদের। তিন উইকেট হারানো বাংলাদেশ দলকে সাত উইকেট আর ৩৫ বল হাতে রেখেই জয় এনে দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিথুন।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে বুধবারের ম্যাচটার আগে আরো পাঁচটা ম্যাচ খেলেছে সফরকারী জিম্বাবুয়ে। সবকটা ম্যাচেই পরাজয় সঙ্গী হয়েছে তাদের। পরিসংখ্যান বিপক্ষে নিয়ে টস হেরে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পাওয়া জিম্বাবুয়ে দলের ছুড়ে দেয়া ২৪৭ রানের জয়ের লক্ষটা খুব সহজ নয়। তবে হাতের নাগালেই। এ ধরনের লক্ষ্য মোটামুটি সহজ হয়ে যায় যদি ওপেনাররা সুন্দর একটা শুরু এনে দিতে পারেন। চট্টগ্রামের জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের রান তাড়াটা ভালোই হচ্ছিল। দুর্দান্ত খেলছিলেন লিটন দাস ও ইমরুল কায়েস। ওপেনিং জুটিতে এ দুজন ১৪৮ রান তুলে দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটির রেকর্ডটিকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ অবধি সিকান্দার রাজার বলে অলস এক শট খেলে ফিরেছেন লিটন। ৭৭ বলে লিটন ৮৩ রান করা লিটন অযথাই সিকান্দার রাজার করা অফস্ট্যাম্পের বাইরে বল স্টেপ আউট করে হাঁকাতে গিয়ে কাভার পয়েন্টে তিরিপানোর হাতে ক্যাচ দিলেন। ১২ বাউন্ডারি এবং এক ছক্কায় ৮৩ রান করে তার এই অলস শট খেলে ফেরাটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। ঘরোয়া আসরে ভালো খেললেও আন্তর্জাতিক ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকানোর এমন সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করার মধ্য দিয়ে সমালোচকদের মুখে চুনকালি দেয়ার সুযোগটাও হাতছাড়া করলেন তিনি। তবে উইকেটের চারদিকে দুর্দান্ত সব শটে চট্টগ্রামের দর্শকদের ভালোই আনন্দ দিয়েছেন তিনি

লিটনের বিদায়ের পর উইকেটে আসা ফজলে রাব্বিও সিকান্দার রাজার বলেই স্টাম্পড হয়েছেন ব্রেন্ডন টেলরের হাতে। গত ম্যাচে অভিষিক্ত রাব্বি টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও আউট হলেন শূন্য রানে।

সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে লিটনের মতোই ধৈর্যহারা হয়ে সুযোগ হাতছাড়া করেন ইমরুল কায়েস। তার ১১১ বলে সাত বাউন্ডারিতে তোলা ৯০ রানের ইনিংসটাও থামান সিকান্দার রাজা। দলের ২১১ রানের সময়ে অযথা পপিং ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে লং অফে এল্টন চিগুম্বুরার হাতে যে ক্যাচটা ইমরুল দিলেন তা সমালোচনার দাবি রাখে বৈকি! দলের জয় যেখানে হাতের মুঠোয়, সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১০ রান দূরে থাকা ইমরুলের এই শটটা কোনো অবস্থাতেই মানানসই ছিল না। এভাবে আউট না হলে টানা দুটো ওডিআই সেঞ্চুরি হয়ে যেতো ইমরুলের।

যা হোক মোহাম্মদ মিথুনকে ( ২১ বলে দুই বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় অপরাজিত ২৪) নিয়ে মুশফিকুর রহিম বিজয়ীর বেশে মাঠ ছাড়ার সময়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে টাইগাররা।

স্কোর : জিম্বাবুয়ে ২৪৬/৭; বাংলাদেশ ৪৪.১ ওভারে ৩ উইকেটে ২৫০। লিটন ক তিরিপানো ব রাজা ৮৩, ইমরুল ক চিগুম্বুরা ব রাজা ৯০, ফজলে রাব্বি স্টা. টেলর ব রাজা মুশফিক অপরাজিত ৪০, মিঠুন অপরাজিত ২৪। অতিরিক্ত ১৩। উইকেট পতন : ১/১৪৮ (লিটন, ২৩.৬ ওভার), ২/১৫২ (রাব্বি, ২৫.৫), ৩/২১১ (ইমরুল, ৩৭.৩)। বোলিং : সিকান্দার রাজা ১০-১-৪৩-৩।