আগের ছন্দে ফিরতে পারা অবশ্যই কঠিন : শান্ত

image

জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন তিন বছর। তবে দলে জায়গা পাকা করা হয়নি এখনও। যদিও শেষ কিছু টেস্ট ইনিংসে ছিলেন দারুণ ছন্দে। তবে নাজমুল হোসেন শান্তর জন্য সেই সময়টা এসেছে সাত মাস আগে। করোনা সংকট কাটিয়ে নতুন শুরুর আগে জানিয়েছেন, আগের ছন্দেই ফিরতে চান তিনি। আর সে লক্ষ্য নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন অনুশীলন। গতকাল অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন জাতীয় দলের এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। সেখানে নিজেকে ফিরে পাওয়ার লড়াই সম্পর্কে বলা ছাড়াও শান্ত জানিয়েছেন বর্তমান জৈব সুরক্ষা বলয় এবং দলের করোনা প্রোটোকল নিয়েও।

দল এবং নিজের অনুশীলনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার বলেন, ‘আগের ছন্দে ফিরতে পারা অবশ্যই কঠিন। সেটা প্রত্যেক ক্রিকেটারের জন্য। তবে সবাই মিলে প্রস্তুতি নিচ্ছে, নেটে ব্যাটিং করছে। মানসিকভাবে ইতিবাচক থাকলে আগের ছন্দে ফেরা সম্ভব। আমি ইতিবাচক আছি, আশা করি আবারও আগের ছন্দ ফিরে পাবো। কিন্তু অবশ্যই কঠিন। তবে চেষ্টা করছি অনুশীলনের মাধ্যমে আগের ছন্দটা ফিরে পাওয়ার।’

প্রথম দুই টেস্টে ব্যর্থ হলেও জাতীয় দলের হয়ে শেষ তিন ইনিংসে ৪৪, ৩৮ এবং ৭১ রান করেছেন শান্ত। শ্রীলঙ্কা সফরের সামনে দাঁড়িয়ে এই ক্রিকেটারের প্রত্যাশা, ইনিংসগুলো আরও বড় করার। তার ভাষ্য, ‘আমার মনে হয় লাস্ট দুই তিনটা ইনিংস ভালো ব্যাটিং করেছি। তবে আমি চাই ইনিংসগুলো যেন লম্বা হয়। আর নিয়মিত পারফরম্যান্স যেন করতে পারি।’

বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান নিজের সেরাটা পাওয়ার লক্ষ্যে লকডাউনের সময় নিজের খেলা বিশ্লেষণ করেছেন বলে জানিয়েছেন। আশা করছেন নিজের ভুলত্রুটি কাটিয়ে আরও উন্নতি করবেন খেলায়। শান্ত এই বিষয়ে বলেন, ‘লকডাউনটা কষ্টের ছিল তবে আমি সেটাকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগিয়েছি। অতীতে যে ভুলগুলো ছিল বা ভালো করেছি সেসব নিয়ে চিন্তা করেছি। নিজেকে নিয়ে কাজ করেছি, বিশ্লেষণ করেছি। আমি মনে করি সামনে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। আসলে লকডাউনে নিজেকে নিয়ে কাজ করতে পারায় আমার জন্য অনেক উপকার হয়েছে।’

এদিকে করোনা থেকে ক্রিকেটারদের মুক্ত রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ মেনে চলছে বিসিবি। ক্রিকেটারদের জৈব সুরক্ষা বলয়ে রাখছে। এমনকি নিয়মিত করোনা টেস্ট চলছে। বিষয়গুলো মেনে নেয়া কঠিন বলে জানিয়েছেন শান্ত। অস্বস্তি অনুভব করেন এমন পরিস্থিতিতে।

তবে নিজের এবং দলের সুরক্ষার জন্য মেনে নিচ্ছেন। এমনকি ধীরে ধীরে উপভোগ করতে শুরু করেছেন জানিয়ে শান্ত আরও যোগ করেন, ‘অনেক কঠিন পরিস্থিতি। বিশেষ করে টেস্টের কথা বলব, দুইদিন পরপর করোনা টেস্ট করা লাগে, এটা অস্বস্তিকর লাগে। আর কোয়ারেন্টিনে থাকতে কারোই ভালো লাগে না। এত সিকিউরিটির মধ্যে থাকাটাও উপভোগ করি না। কিন্তু ধীরে ধীরে মানিয়ে নিচ্ছি। আসলে এভাবেই অনুশীলন করতে হবে, খেলাধুলা করতে হবে। মানসিকভাবেও তাই নিজেকে এভাবে তৈরি করে নিয়েছি। ধীরে ধীরে উপভোগ করতেও শুরু করেছি।’