আত্মঘাতী ব্যাটিংয়ে ১৪৩ রানেই শেষ বাংলাদেশ

image

জিম্বাবুয়েকে অল-আউট করার এই আনন্দ মিইয়ে যায় লাঞ্চের পর

অবিশ্বাস্য বললেও কম বলা হয়। ওয়ানডেতে সহজেই বাংলাওয়াশ করা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশ দল যে কত কাঁচা তার ব্যাখ্যা দেয়াও মুশকিল। ব্যাট হাতে ক্রিজে গিয়ে কেউ বাইরের বলে খোঁচা মেরে, আবার কেউ শরীর থেকে দূরের বল খেলে বিদায় হন। কারও কারও শটের কারণ খুঁজে পাওয়াই কঠিন। ব্যাটসম্যানদের যেন প্রতিযোগিতা, কে বেশি দায়িত্বজ্ঞানহীন! আসলে গত বছরখানেক ধরে টেস্টে ধুঁকছে বাংলাদেশের ব্যাটিং। কিন্তু দেশের মাটিতে এমন নির্জীব উইকেটে জিম্বাবুয়ের নির্বিষ বোলিংয়েও যে হাল তার কোন ক্ষমা নেই! ব্যাটিংয়ে আরও একবার বাংলাদেশ দলকে ডোবাল ব্যাটসম্যানরা।

বলতে দ্বিধা নেই সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়েকে বড় লিড উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের ২৮২ রানের জবাবে রোববার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ গুটিয়ে গেছে ১৪৩ রানে। শেষ বিকেলে ব্যাটিংয়ে নেমে ২ ওভার জিম্বাবুয়ে কাটিয়ে দিয়েছে ১ রান করে। দ্বিতীয় দিন শেষে সফরকারীরা এগিয়ে ১৪০ রানে। এ নিয়ে সর্বশেষ ৭ টেস্ট ইনিংসে দুইশ করতে পারল না বাংলাদেশ দল। যার ৬টিতেই করতে পারেনি দেড়শ রান। অবশ্য জিম্বাবুয়ে বলেই এই ইনিংস বেশি কষ্ট দিচ্ছে।

অথচ দিনের প্রথম সেশনটি ছিল বাংলাদেশের। তাইজুল হোসেনের স্পিন ঝলকে জিম্বাবুয়ে শেষ ৫ উইকেট হারায় ২১ রানে। কিন্তু বোলিংয়ের স্বস্তি লাঞ্চের পর রূপ নেয় ব্যাটিংয়ে চরম হতাশায়। দুই সেশনে পাঁচটি করে উইকেট হারিয়ে বিধ্বস্ত দলের ব্যাটিং। সবচেয়ে বড় হতাশা, ১০ উইকেটের একটিতেও উইকেট নেয়ার মতো দারুণ কোন ডেলিভারি ছিল না জিম্বাবুয়ের বোলারদের। উইকেটে তেমন প্রাণ ছিল না, জিম্বাবুয়ের বোলিং আক্রমণও নয় খুব ধারাল। কিন্তু নিজেরা আত্মঘাতী হলে পতন ঠেকাবে কে! শুরুতে ইমরুল কায়েস থেকে শেষে আবু জায়েদ চৌধুরী, সবাই ছিলেন একই পথের পথিক। জিম্বাবুয়ের দুই পেসার মিলে নিয়েছেন ৫ উইকেট। এমনকি সিকান্দার রাজার সাদামাটা স্পিনেও বাংলাদেশ হারায় দিয়েছে ৩ উইকেট। লাঞ্চের পর প্রথম বলেই বাজে শট খেলেন ইমরুল। তখন না পারলেও পরে সফল হয়েছেন উইকেট বিলিয়ে দেয়ায়। টেন্ডাই চাটারার বাইরের বল টেনে আনেন স্টাম্পে। পতনও শুরু তখন থেকেই। পরে প্রায় সবাই অনুসরণ করে একই পথ। শরীর থেকে দূরের বল খেলেছেন লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ কি করতে চেয়েছিলেন, তা শুধু তিনিই ভালো বলতে পারবেন। মমিনুল হকের আউটের ধরন আবারও জানান দিল, স্পিনে ক্রমেই তার ব্যাট নিষ্ক্রীয় হচ্ছে। বিপর্যয়ে ত্রাতা মুশফিকুর রহিম লড়াই করছিলেন। দারুণ কিছু শটও খেলেছেন। চা-বিরতির পর শুরু করেন দুর্দান্ত শটে চার মেরে। কিন্তু পরের বলে স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা। মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটে ছিল আশার আলো। কিন্তু যে বলে শন উইলিয়ামসকে ফিরতি ক্যাচ দিলেন, তাতে অনেক চেষ্টা করেও আউট হওয়া কঠিন।

ব্যতিক্রম ছিলেন দলের নবীনতম সদস্য। অভিষিক্ত আরিফুল হক অনেক্ষণ লড়াই করেছেন। ৪৯ রানে ৫ উইকেট পড়ার পর নেমেছিলেন, কিন্তু চাপে আত্মসমর্পণের ছাপ ছিল না তার ব্যাটিংয়ে। খেলেছে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী হয়ে। কিন্তু যোগ্য একজন সঙ্গী না থাকায় ধস থামানো সম্ভব হয়নি। সিঙ্গেল নেয়া, না নেয়ার দোটানায় রান আউট শেষ ব্যাটসম্যান আবু জায়েদ। আরিফুল তখন অপরাজিত ৯৬ বলে ৪১ রানে। আরিফুল ফিরেছেন অভিষেকে ফিফটি না করার হতাশা নিয়ে। অবশ্য বাংলাদেশের ড্রেসিং রুম তখন ডুবে ছিল আরও বড় হতাশায়। ব্যাট করতে হবে শেষ ইনিংসে। তখন হুঁশ হরে কিনা সময়ই বলবে। কিন্তু প্রথম ইনিংসেই ১৪০ রানে পিছিয়ে থাকার শেষ ফল হতে পারে নিশ্চিত পরাজয়! ওয়েবসাইট।