এবার তাজিক ফুটবল মৌসুম শুরু

image

বিশ্ব যখন করোনা আতঙ্কে নিশ্বাস ফেলছে, ফুটবল খেলা চলছে চারটি দেশে। বেলারুশ, নিকারাগুয়া আর বুরুন্ডিতে আগে থেকেই ফুটবল চলছিল। ৪ এপ্রিল শনিবার এই তিন দেশের সঙ্গে যোগ দেয় মধ্য এশিয়ার দেশ তাজিকিস্তান। ফুটবলের সুবাদে ৯০ লাখ মানুষের দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের মৈত্রীর বন্ধন খুব দৃঢ়। রাজধানীর দুশানবের যে স্টেডিয়ামে শনিবার লীগ চ্যাম্পিয়ন ইশতিকলাল ও রানার্সআপ খুজান্দ মৌসুম সূচনাকারী সুপার কাপ ম্যাচে মুখোমুখি হয়, সেই সেন্ট্রাল রিপাবলিকান স্টেডিয়ামে গিয়ে বাংলাদেশ দলও হরহামেশাই ফুটবল খেলে।

শনিবার সুপার কাপ ম্যাচ দিয়ে নতুন ২০২০ মৌসুম শুরু, রোববার (৫ এপ্রিল) ১০ দলের তাজিক লীগের উদ্বোধন হবে এখানেই। প্রথম দিনেই তিনটি ম্যাচ। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে লীগের সব ম্যাচই হবে দর্শকশূন্য বদ্ধ স্টেডিয়ামে।

সারা বিশ্বেই করোনার সংক্রমণ ছড়িয়েছে। পাশের দেশ উজবেকিস্তানেই ২০৫ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাজিকিস্তানে এখনও পর্যন্ত করোনা সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি। এটাই তাজিক ফুটবল ফেডারেশনকে (এফএফটি) কাল বিলম্ব না করে পূর্বনির্ধারিত সূচিতে লীগ শুরু করে দিতে অনুপ্রাণিত করেছে। প্রায় সারা বিশ্বেই খেলাধুলা নেই, এরমধ্যে ফুটবল শুরু হলো, এতে তাজিক ফুটবলের জনপ্রিয়তা বাড়বে- রয়টার্সের কাছে উচ্ছ্বাসই প্রকাশ করেছেন তাজিক ফুটবল ফেডারেশনের এক কর্মকর্তা। কারণ বিদেশি স্পোর্টস চ্যানেলগুলোর কাছে সম্প্রচারস্বত্ব বিক্রির প্রস্তাব আসবে এবং তারা হয়তো সানন্দেই চুক্তি করতে পারবেন। তবে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশটির ওই ফুটবল কর্মকর্তা এটাও বলেছেন, ‘এত আগেভাগেই নিশ্চিত করে যদিও কিছু বলা যায় না।’

করোনাপীড়িত সময়ে ফেডারেশনের মৌসুম শুরু করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন টানা ছয় মৌসুম ধরে লীগ চ্যাম্পিয়ন ইশতিকলরের কোচ ভিতালি লেভশেঙ্কো, ‘স্রষ্টাকে ধন্যবাদ যে তাজিকিস্তানে করোনাভাইরাস নেই। আর সেজন্যই আমরা শুরু করতে পারলাম নতুন মৌসুম।’ দর্শকশূন্য মাঠে খেলা হবে, তাই করোনা কোনও প্রভাব ফেলবে না বলেই মনে করেন গত মৌসুমে ইশতিকলালকে ঘরোয়া ‘ট্রেবল’ জেতানো কোচ।

এবারের তাজিক লীগে নিবন্ধিত বিদেশি খেলোয়াড়ের সংখ্যা ৪২। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২০ জন প্রতিবেশী উজবেকিস্তানের খেলোয়াড়। সংখ্যায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০ জন ফুটবলার ঘানার। বিদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে করোনা-আতঙ্ক কাজ করছে। তবে ইশতিকলালকে উজবেক গোলকিপার মামুনুর ইকরামভের ভয়টা বেশি তার দেশকে নিয়ে, পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে, ‘আমার মনটা উদ্বিগ্ন। আমার দেশবাসী, আমার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের জন্য চিন্তা হচ্ছে। উজবেকিস্তানে ২০৫ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।’ ওয়েবসাইট।