ক্রিকেটাঙ্গনের অচলাবস্থা অবসানের পথে

image

সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সাকিব আল হাসান-সংবাদ

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটারদের মধ্যে অচলাবস্থার অবসান ঘটতে যাচ্ছে শীঘ্রই। আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছেন ক্রিকেটাররা। দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি হস্তক্ষেপে ওডিআই দলের অধিনায়ক তথা জাতীয় সংসদ সদস্য মাশরাফি মর্তুজা অচলাবস্থা নিরসনে দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছে ইএসপিএন ক্রিকইনফো।

ক্রিকইনফোর খবরে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের প্রথা অনুযায়ী বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও বোর্ডের রাজস্ব আয়ের একটা অংশ দাবি করছেন। এদিকে গত দুইদিনের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনের পর বুধবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে উভয়ডক্ষের বৈঠকে বসার কথা থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত আর হয়নি।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রেস কনফারেন্সের পর সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছিলেন যে, সিনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে তাদের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে প্রধামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর বিসিবি সভাপতি এবং অন্য কর্মকর্তারা যখন ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনার জন্য অপেক্ষা করছিলেন, ঠিক তখনই গুলশানে বৈঠকে বসে ক্রিকেটাররা। সেখানে তারা বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ব্যরিস্টার মোস্তাফিজুর রহমানকে মুখপাত্র হিসেবে ঘোষণা করে।

ক্রিকেটারদের এই মুখপাত্র আবারও খোলাখুলি কথা বলেন সংবাদ মাধ্যমের সামনে। সেখানে নতুন কিছু ছিল না। কেবল ক্রিকেটারদের আগের ১১ দফা হয়েছে ১৩ দফা। তবে তাতে কোন কঠোর শর্ত নেই। সাকিব-তামিমরা আগে যে দাবিগুলো করেছিল সেগুলোকেই ভেঙে ১৩ দফা বানানো হয়।

গুলশানের বৈঠকের পর ক্রিকেটারদের হয়ে ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান জানান যে, বৃহস্পতিবারের মধ্যেই বোর্ডের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন ক্রিকেটাররা। খেলোয়াড়রা দ্রুত মাঠে ফিরতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই নিজের পরিচয় দিয়ে বলে, ক্রিকেটারদের ১৩টি দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে লিপিবদ্ধ করে পাঠানো হয়েছে বিসিবির কাছে। বুধবার বিকেল ৪টার দিকে ডাক এবং কুরিয়ার যোগে পাঠানো হয় চিঠিটি। এছাড়া ইমেইলও করা হয় বিসিবির কাছে।

এরপর একে একে তিনি ১৩টি দাবি তুলে ধরেন মিডিয়ার সামনে। প্রতিটি দাবির পক্ষে যুক্তি এবং ব্যাখ্যা তুলে ধরেন তিনি।

প্রথম দাবিটিই ছিল ক্রিকেটার্স ওয়েলফেরায় অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)-এর নির্বাচন নিয়ে। ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)-এর বর্তমান কমিটির সবার পদত্যাগের দাবি জানানো হয় প্রথম দফায়।

প্রফেশনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন গঠনসহ প্রতিবছর নির্বাচনেরও দাবি জানানো হয়েছে। ক্রিকেটের যে বিকাশ, এ পর্যায়ে এমন দাবি সঙ্গত বলে মনে করেন ক্রিকেটারদের মুখপাত্রটি। এছাড়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ, ঢাকা প্রিমিয়ার লীগের আয়োজন পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা, পারিশ্রমিক বাড়ানো, সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো, কোচ এবং গ্রাাউন্ড স্টাফদের বেতন বাড়ানোসহ মোট ১৩টি দাবি তুলে ধরেন তিনি।

নতুন যে দুটি দাবি যোগ করা হয়েছে, সেগুলো হলো- ক্রিকেটারদেরকে রাজস্ব আয়ের অংশীদারি করতে হবে। বোর্ডের কাজে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা আনতে হবে। একই সঙ্গে নারী ক্রিকেটারদেরও সমানভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।

ব্যারিস্টার মোস্তাফিজ শেষ করেন এভাবে : ক্রিকেটাররা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্রিকেট খেলতে আসে। তাদের জীবনের নিরাপত্তা এবং আর্থিক নিরাপত্তার জন্যই মূলত এই আন্দোলন করতে নেমেছে তারা। ক্রিকেটারদের এই আন্দোলন মূলত কারও বিরূদ্ধে নয়। নিজেদের আর্থিক নিরাপত্তার তাগিদে।

প্রেস কনফারেন্সের শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-২০ দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এসে বলেন, আমরাও দ্রুত সমাধান চাই এবং বোর্ডের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাই। কারণ, আমরা মনে করি বোর্ডের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আগের মতো রয়েছে। বোর্ড কর্মকর্তারা এবং আমরা মিলেই আসলে বিসিবি। সুতরাং, কারও প্রতি আমাদের কোন ক্ষোভ নেই, দুঃখ কিংবা বিরাগ নেই। আমরা কিছু যৌক্তিক দাবি তুলে ধরেছি এবং নিজেদের গুছিয়ে নেয়ার জন্য দেড়টা দিন সময় নিয়েছি। এখন আমরা যে কোন সময় বোর্ডের সঙ্গে বসতে পারি।

এদিকে বুধবার বিসিবির পরিচালক মাহবুবুল আনামকে উদ্ধৃত করে একটি বাংলা দৈনিকে খবর প্রকাশিত হয় যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাশরাফিকে ডেকে সর্বশেষ অবস্থার খোঁজ খবর নিয়েছেন। ক্রিকেটারদেরকে দ্রুত মাঠে ফিরতে বলার দায়িত্বটাও মাশরাফিকে দেন প্রধানমন্ত্রী।

আন্দোলনরত ক্রিকেটারদের সঙ্গে মাশরাফির কোন আলোচনা হয়েছে কি না, সেটা জানা না গেলেও ভাবগতিক দেখে পরিস্থিতি ইতিবাচক বলেই মনে হচ্ছে।