পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

image

মুদাসসর নজরের শট ঠেকালেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান। সঙ্গে সঙ্গেই নেপালের আনফা কমপ্লেক্স রূপ নিল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের। বাংলাদেশ টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে পাকিস্তানকে হারিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো সাফ অ-১৫ চ্যাম্পিয়ন হয়। এর আগে অ-১৬ চ্যাম্পিয়ন ছিল বাংলার দামাল ছেলেরা। শনিবার (৩ নভেম্বর) কাঠমান্ডুর ফাইনালের নির্ধারিত সময় ১-১ গোলে ড্র থাকলে ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়।

দক্ষিণ এশিয়া ফুটবলের এই পর্যায়ে এখন বাংলাদেশ ও ভারত সর্বোচ্চ দুই বারের চ্যাম্পিয়ন। পাঁচ আসরের আরেক চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান।

শনিবার বিকেলে ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়রা বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে পুরো কমপ্লেক্স প্রদক্ষিণ করে। কোচ পারভেজ আনোয়ার মোস্তফা বাবুকে শূন্যে উঠিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপ উদযাপন। ২০০৩ সালে ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন তিনি। এবার কোচ হিসেবে বাংলাদেশকে সাফ এনে দিলেন। কাকতালীয় পুরুষ সাফে জাতীয় ও অনূর্ধ্ব পর্যায়ে বাংলাদেশের তিনটি শিরোপাই আসল টাইব্রেকারে। আরও মজার বিষয় তিনটি ম্যাচেই নির্ধারিত সময়ে স্কোরলাইন ১-১।

গ্যালারিতে থাকা কয়েকজন বাংলাদেশিই যেন মাতিয়ে তুলেন পুরো কমপ্লেক্স বাংলাদেশ বাংলাদেশ বলে। উৎসবের মধ্যমণি গোলরক্ষক মেহেদী হাসান। এই শিরোপা জয়ের নায়ক গোলরক্ষক মেহেদী হাসান। পাকিস্তানের পাঁচটি টাইব্রেকার শটের মধ্যে তিনটি তিনি ঠেকান। আরেকটি শট তার হাতে লেগে গোল লাইন অতিক্র করে। সেমিফাইনালেও তিনি দুইটি শট ঠেকিয়ে বাংলাদেশকে ফাইনালে তুলেছিলেন। নিয়মিত গোলরক্ষক মিতুল চাকমা গ্রুপের শেষ ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় সেমিফাইনাল খেলতে পারেননি। মেহেদী সেমিফাইনালে দুর্দান্ত খেললেও মিতুলকে জায়গা ছেড়ে দিতে হয়। ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকে গড়ানোর অবস্থায়। কোচ পারভেজ বাবু মিতুলকে উঠিয়ে মেহেদীকে নামান। টাইব্রেকারে প্রথম শটটি নেন বাংলাদেশের রাজন। তার শট পোস্টের উপর দিয়ে যায়। পাকিস্তানের প্রথম দুই শটই সেভ করেন মেহেদী। দুই বদলি ফুটবলার হৃদয় ও রাজা আনসারী বাংলাদেশের হয়ে গোল করেন। রুস্তমও গোল করেন। রবিউল বাংলাদেশের হয়ে শেষ শটটি নেন। শেষ শটে গোল করতে পারলে পাকিস্তানের পঞ্চম শট নেয়ার সুযোগ ছিল না। রবিউল সরাসরি গোলরক্ষক বরাবর শট নেন। পাকিস্তানের শেষ শটে গোল হলে খেলা যেত সাডেন ডেথে। সেই সুযোগ দেননি মেহেদী হাসান। মুদাসসরের শট সেভ করেন মেহেদী।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান উভয় দল অপরাজিত থেকেই ফাইনাল খেলতে নেমেছিল। বাংলাদেশ ২৫ মিনিটে লিড নেয়। ডান প্রান্ত থেকে নেয়া বাংলাদেশের কর্নার পাকিস্তান ডিফেন্ডার লাফিয়ে ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালে বল ঢুকিয়ে দেন। পাক গোলরক্সক লাফিয়েও বলের লাগান পাননি। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ লিড নিয়ে শেষ করে। দ্বিতীয়ার্ধের দশ মিনিটে ম্যাচে সমতা আনে পাকিস্তান। মাঝমাঠ থেকে বক্সের উদ্দেশ্যে বাড়ানো বলে বাংলাদেশের ডিফেন্ডার হেলালউদ্দিন পাক ফরোয়ার্ডকে ফাউল করেন। নেপালি রেফারি সুদিশ কুমার পান্ডে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। মহিবুল্লাহ পেনাল্টি থেকে ম্যাচে সমতা আনেন। ৭৪ মিনিটে পাকিস্তানের গোলরক্ষক মুহাম্মদ আওয়াইস দুর্দান্ত সেভ করেন। বাম প্রান্ত থেকে নেয়া বাংলাদেশের কর্নারে বক্সের মধ্যে হেড করেন নিহাত জামান উচ্ছ্বাস। উচ্ছ্বাসের নেয়া হেড বাম দিকে ঝাপিয়ে দারুণভাবে গ্রিপে নেন পাক গোলরক্ষক। দুই মিনিট পর পাকিস্তান সুবর্ণ সুযোগ মিস করেন। সাদ উদ্দিন বক্সের সামনে গোলরক্ষককে একা পেয়ে বল পোস্টের ওপর দিয়ে মারেন।