পাকিস্তানে আমরা জিততেও পারি’

image

ভারত সফরে গতিময়, বাউন্সি উইকেট পরাস্ত হয়েছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ধারণা করা হচ্ছে রাওয়ালপিন্ডির উইকেট হবে আরও গতিময় ও বাউন্সি। সেখানে কী করবেন তামিম-মমিনুলরা? তারপরও এমন কঠিন কন্ডিশনে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জেতা সম্ভব বলে মনে করেন প্রধান কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো। আজ সন্ধ্যার ফ্লাইটে দেশ ছাড়বে মমিনুল হকের দল। যাওয়ার আগে প্রধান কোচ শুনিয়েছেন বড় আশার কথা, ‘সম্প্রতি আমরা ভালো খেলছি না। কিন্তু পাকিস্তানে আমরা জিততেও পারি। ভারত সফরের ভুলগুলো শুধরে আমরা যদি ভালো খেলতে পারি, তাহলে অসম্ভব তো কিছু না। আমরা যদি পাকিস্তানকে চাপে রাখতে পারি তাহলে তাদের খারাপ দিন আসতে পারে। তারা অবশ্যই ভালো দল। আমরা জানি যে কারোই খারাপ দিন আসতে পারে। আমাদের অবশ্যই সুযোগটা নিতে হবে।’

দেশের মাঠে বাংলাদেশের টেস্টের পারফোরম্যান্স কিছুটা ভালো হলেও বিদেশে যাচ্ছেতাই। দেশের বাইরে ৫৬ টেস্ট খেলে মাত্র চারটি ম্যাচ জিততে পেরেছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে দুটি ম্যাচ ছাড়াও জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি ভারতের বিপক্ষে দুটি টেস্টই তিনদিনে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে মমিনুলের দল। এই অবস্থায় পাকিস্তানে ভালো খেলা কতটা সম্ভব? ডোমিঙ্গো মনে করেন বিদেশের মাটিতে একটি জয়ই পারে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিতে, ‘বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে আমাদের টেস্ট সিরিজ খেলতে হচ্ছে। টেস্টে আমাদের উন্নতি করার অনেক কিছু আছে। আমাদের খেলোয়াড়েরাও জানে এই ফরম্যাটে পারফোরম্যান্স করতে হবে। অনেক দিন ধরে আমরা টেস্ট ক্রিকেটে ভালো করতে পারছি না। দেশের বাইরে আমাদের টেস্ট জিততে হবে। একটি জয়ই আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিতে পারে। এই লক্ষ্যটা আমাদের উৎসাহ জোগাচ্ছে।’

বাস্তবিক অর্থে পাকিস্তানে গিয়ে টেস্ট জেতা কী সম্ভব? ডোমিঙ্গো জানান, ‘আমাদের টেস্ট জিততে হবে সেটা বাংলাদেশের বাইরে। বাস্তব অর্থে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আমাদের জয়ের সুযোগ সীমিত! টেস্টে আমরা দশ নম্বরে (আসলে নয়ে) আছি। তারপরও আমরা দেশের বাইরে সিরিজ জিততে উন্মুখ হয়ে আছি। যদি তা করতে পারি তাহলে দলে আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে। এই মুহূর্তে দেশের বাইরে ভালো ক্রিকেট খেলতে উন্মুখ সবাই।’

পাকিস্তানে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে কোনও প্রস্তুতি ম্যাচ রাখা হয়নি সূচিতে। এক দিনের প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামতে হবে মমিনুলের দলকে। ডমিঙ্গোর দৃষ্টিতে কোনও অবস্থাতেই এটি আদর্শ প্রস্তুতি নয়, ‘অবশ্যই এটা আদর্শ নয়। টেস্টের আগে যেকেউই ৭-৮ দিন আগে ভেন্যুতে যেতে চাইবে। একটি ওয়ার্মআপ ম্যাচ কিংবা কয়েকদিনের অনুশীলন ছাড়া টেস্ট খেলা কঠিন। অবশ্যই এটা আমাদের পক্ষে ভালো কোনও প্রস্তুতি নয়। তবে আমাদের কিছুই করার নেই। ছেলেরা এখানে অনুশীলন করে ওখানে খেলবে।’

টেস্ট দলের অনেকেই রান পেয়েছেন। মমিনুল, মাহমুদুল্লাহ, লিটন সেঞ্চুরি পেয়েছেন। তামিম ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছেন। তাইজুল-নাঈম ৫ উইকেট করে পেয়েছেন। এই প্রস্তুতিতে ভালো বললেও রাওয়ালপিন্ডির উইকেট নিয়ে চিন্তা ঠিকই আছে ডমিঙ্গোর, ‘কোনও সন্দেহ নেই, অনুশীলনের চেয়ে ম্যাচে রান করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিছু খেলোয়াড় রান করেছে। তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। তামিম ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছে। তিনশ’ রান সহজ নয়, সব সময় ঘটে না। মমিনুল, লিটন ও মাহমুদুল্লাহ সেঞ্চুরি করেছে। কিছু ছেলে ৫ উইকেট নিয়েছে। কেন তারা টেস্ট দলে আছেন তা তারা দেখিয়ে দিয়েছে। তবে এখানে যে উইকেটে খেলা হচ্ছে সেখানে গতি ও বাউন্স নেই। আমি নিশ্চিত রাওয়ালপিন্ডিতে কিছুটা গতি ও বাউন্স থাকবে। এটা আমাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে।’

প্রস্তুতি ম্যাচ দূরে থাক, ১২ ঘণ্টার দীর্ঘ ভ্রমণের ধকল সয়ে একটাই অনুশীলন সেশন। তারপরই নামতে হবে টেস্ট খেলতে। রাওয়ালপিন্ডির অচেনা কন্ডিশনে এভাবে টেস্ট খেলতে যাওয়াকে একেবারেই আদর্শ বলে মনে করছেন না বাংলাদেশের প্রধান কোচ । ভাড়া করা বিমানে টি-২০ সিরিজ খেলে এলেও এবার দল যাচ্ছে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে। কাতার এয়ারওয়েজের সেই ফ্লাইটে দোহার ট্রানজিট পেরিয়ে ইসলামাবাদ পৌঁছাতে লেগে যাবে ১২ ঘণ্টারও বেশি। পরদিন সকালে সেখানে পৌঁছানোর পর নিতে হবে বিশ্রাম। এরপর বৃহস্পতিবার একমাত্র অনুশীলন সেশনের পরই শুক্রবার থেকে রাওয়ালপিন্ডি টেস্ট। এর আগে বাংলাদেশ কখনওই খেলেনি রাওয়ালপিন্ডিতে। সেখানকার উইকেট, কন্ডিশন সম্পর্কে নেই কোন স্পষ্ট ধারণা। এরকম পরিস্থিতিতে প্রস্তুতি ম্যাচ আর মানিয়ে নেয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় না থাকায় ডমিঙ্গোর কণ্ঠে ঝরেছে শঙ্কা আর হতাশা।

নিরাপত্তা শঙ্কা থাকায় বাংলাদেশের পাকিস্তান সফরকে ভাগ করা হয়েছে ছোট ছোট তিন ভাগে। প্রথম ধাপে কড়া নিরাপত্তায় তিন টি-২০ খেলে আসার পর এবার দ্বিতীয় ধাপে আছে প্রথম টেস্ট। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে রাওয়ালপিন্ডিতে শুরু হতে যাওয়া ওই টেস্টের পরই দল ফিরে আসবে। এরপর দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ। আর এপ্রিল মাসে আবার এক ওয়ানডে আর দ্বিতীয় টেস্টের জন্য পাকিস্তানের করাচিতে খেলতে যাবে বাংলাদেশ দল।